hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৮

মিসর

মিসরীয় সভ্যতা যে কত প্রাচীন এবং তাদের সভ্যতা-সংস্কৃতি যে কত মাহাত্ম্যপূর্ণ ও শানদার তা উপলব্ধি করার জন্যে মিসরের পিরামিডসমূহ আব্দুল হাওল বা স্ফিংকস-মূর্তি এবং সম্প্রতিকালে ভূগর্ভস্থিত কক্ষগুলো থেকে উদ্ধারকৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাবলী বেশ সহায়ক। মিসর যেহেতু একটি কৃষিপ্রধান দেশ, তাই প্রাচীন মিসরের শক্তিতে যখন একটু ভাটা পড়লো, তখন দেশটি বহিরাক্রমণের শিকারে পরিণত হতে লাগলো। ইরানী, গ্রীক ও রোমানরা বারবার দেশটির উপর হামলা করতে থাকে এবং দীর্ঘকাল পর্যন্ত দেশটি দখল করে রাখে। এসব হামলাকারীদের তাহযীব-তমুদ্দুনও মিসরীয় সংস্কৃতিতে তাদের প্রভাব ফেলে মিসরীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে সমৃদ্ধতর করে তুলবে, এটা মনে করাটাই স্বাভাবিক। রোমানদের শাসনামলে খ্রিস্ট ধর্ম মিসরে প্রবেশ করে। দেশটির অধিবাসীদের এক বিরাট অংশ খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করে ফেলেছিলো। কিন্তু মিসরীয়দের ইসলামে প্রবেশের পূর্বে দেশটির অবস্থা সবদিক দিয়েই অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছিলো। খ্রিস্টীয় ধর্মের অবস্থাও মিসরে মূর্তিপূজার চাইতে উন্নততর ছিলো না। মিসরীয় মূর্তি পূজারীদের অবস্থা অন্য যে কোন দেশের প্রতিমা পূজারীদের চাইতেও নিকৃষ্টতর ছিলো। রোমান ও গ্রীক বিজেতা জাতিসমূহের মধ্যে যেসব ব্যাধি বিদ্যমান ছিল মিসরীয়দের মধ্যে সেগুলো নিকৃষ্টতর রূপ নিয়ে অনুপ্রবেশ করে। দাসপ্রথা তার নিকৃষ্টতম ও সর্বাধিক অমানুষিকরূপে সেখানে চালু ছিল। ব্যভিচার ও রাহাজানির প্রতি উৎসাহব্যঞ্জক আইন-কানুন বানিয়ে নেয়া হয়েছিল। নরহত্যা ছিল তাদের জন্যে নেহায়েত মামুলী উপভোগের ব্যাপার। নারীদের আত্মহত্যার জন্যে উৎসাহিত করা হতো। মোদ্দাকথা, মিসরের অবস্থা অন্য কোন জাতির চাইতে কম শোচনীয় ও তমসাচ্ছন্ন ছিলো না। উন্নত সভ্যতা ও রুচিবোধের নিদর্শন মিসরীয়দের আচার-আচরণ ও চরিত্র থেকে সম্পূর্ণরূপে মুছে গিয়েছিল এবং সর্বদিক থেকে দেশটি তিমিরে ছেয়ে গিয়েছিল।