hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫৫

পবিত্র কুরআন প্রচার

হযরত হুযায়ফা ইব্‌ন ইয়ামান (রা) যখন বসরা, কূফা, রাই, সিরিয়া প্রভৃতি অঞ্চল অতিক্রম করে মদীনা শরীফে ফিরে আসেন, তখন খলীফা উসমান গনী (রা)-এর কাছে বলেন, বিস্ময়ের ব্যাপার যে, ইরাকবাসীগণ কুরআন মজীদ একভাবে পাঠ করেন, তা সিরিয়াবাসীগণ পাঠ করেন অন্যভাবে। বাসরাবাসীগণের কিরাত (পঠন পদ্ধতি) কূফাবাসীদের চাইতে যেমন পৃথক, কূফাবাসীগণের কিরাত পারস্যবাসীদের চাইতে তেমনি পৃথক। কাজেই, সবাই যাতে একই কিরাত পড়ে সেরূপ ব্যবস্থালম্বন করা খুবই জরুরী।

হযরত উসমান গনী (রা) বিষয়টি সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য মজলিসে শুরার বৈঠক আহ্বান করেন। সকলেই হযরত হুযায়ফা ইব্‌ন ইয়ামান (রা)-এর অভিমত পছন্দ করেন। তারপর হযরত উসমান গনী (রা) হযরত হাফসা (রা)-এর নিকট থেকে পাক কুরআনের সেই কপি চেয়ে নেন, যা হযরত সিদ্দীকে আকবর (রা)-এর খিলাফতকালে হযরত যায়দ ইব্‌ন ছাবিত (রা)-এর অন্য কয়েকজন সাহাবীর ব্যবস্থাধীনে সংগীত ও সংকলিত হয়েছিল। ঐ কপি প্রথম হযরত সিদ্দীকে আকবর (রা)-এর কাছে ছিল। তারপর তা হযরত উমর (রা)-এর কাছে হস্তান্তরিত হয়। হযরত উমর (রা) তা হযরত হাফসা (রা)-এর হিফাযতে রেখেছিলেন। যা হোক, হযরত উসমান গনী (র) ঐ মুবারক কপির অনুসরণে বেশ কয়েকখানি কপি তৈরীর দায়িত্ব কয়েকজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির উপর অর্পণ করেন। যখন এর অনেকগুলো কপি তৈরী হয়ে গেল, তখন তিনি এক এক কপি এক এক শহরে পাঠিয়ে দেন এবং সেই সাথে নির্দেশ দেন-ভবিষ্যতে যেন শুধু এ কপিরই অনুসরণ করা হয় এবং ইতিমধ্যে বিভিন্ন উৎস থেকে, যতগুলো কপি তৈরী করা হয়েছে তা যেন অবিলম্বে পুড়িয়ে ফেলা হয়। কুফাতে যখন নতুন কপি পৌঁছল তখন হযরত সাহাবায়ে কিরাম (রা) অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন। কিন্তু হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন মাসঊদ (রা) তার নিজস্ব কিরাতের উপরই অনড় থাকেন।