hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৮১

খিলাফতের দ্বিতীয় দিন

হযরত তালহা (রা) এবং হযরত যুবায়র (রা) পরদিন হযরত আলী (রা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বলেন, আমরা তো আপনার হাতে এ শর্তে বায়‘আত করেছি যে, আপনি হযরত উসমান (রা)-এর হত্যাকারীদের ‘কিসাস’ জারি করবেন। যদি আপনি এ ব্যাপারে ইতস্তত করেন তাহলে আমাদের বায়‘আতও অকার্যকর (বাতিল) বলে বিবেচিত হবে। হযরত আলী (রা) বলেন, আমি অবশ্যই হযরত উসমান (রা)-এর হত্যাকারীদের উপর কিসাস জারি করব এবং তার ঘটনার ব্যাপারে সুবিচার করব; কিন্তু এখনো বিক্ষোভকারীদের প্রাধান্য রয়েছে এবং খিলাফতের ব্যাপারেও স্থিরতা আসেনি। তাই, আমাকে আরো কিছুটা অবকাশ দিন। কিছু স্বস্তি লাভের পর আমি ঐ বিষয়টির প্রতি পুরাপুরি মনোনিবেশ করবো। বর্তমান অবস্থায় এ ব্যাপারে কিছু করা সম্ভব নয়। হযরত আলী (রা)-এর একথা শুনে হযরত তালহা ও হযরত যুবায়র (রা) উভয়েই নিজ নিজ ঘরে চলে যান। কিন্তু জনসাধারণের মধ্যে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে কানাঘুষা শুরু হয়ে যায়। হযরত উসমান (রা)-এর হত্যাকারীসহ সকল বিক্ষোভকারীও এ ভেবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে যে, যদি কিসাস কার্যকর করা হয় তাহলে তো আমাদের রক্ষা নেই। আর ঐ সমস্ত লোক যারা হযরত উসমান গনী (রা)-কে মজলুম মনে করত এবং দাঙ্গাবাজদের প্রতি আন্তরিক ঘৃণা পোষণ করত, তারা একথা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, ঐ সমস্ত লোক যারা হযরত উসমান (রা)-কে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে তাদেরকে আপন কৃতকর্মের পরিণাম আর ভোগ করতে হবে না এবং এভাবে তারা মজা করে ঘুরে বেড়াবে। মানুষের মনে অনুরূপ ধারণা সৃষ্টি হওয়া হযরত আলী (রা)-এর খিলাফতের জন্য ছিল ক্ষতিকারক। কিন্তু ঐ অবস্থায় যখন ইসলামী রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গিয়েছিল এবং রাজধানী মদীনা তায়্যিবাতে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছিল এর কোন প্রতিবিধান করাও হযরত আলী (রা)-এর পক্ষে সম্ভব ছিল না।