১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬৮
হুদায়বিয়ার সন্ধি
আরবদেশে যদিও ইবরাহীমী দীনের প্রচলন ছিল এবং আরবরা শির্ক ও মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিল, কিন্তু কা‘বাঘরের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সবাই স্বীকার করতো এবং সর্বদা কা‘বাঘরের হজ্জ পালন করতো। হজ্জের দিনগুলোতে যুদ্ধ-বিগ্রহও মুলতবি করে দিতো। ষষ্ঠ হিজরীর শাওয়াল মাসে নবী করীম (সাঃ) স্বপ্নে দেখলেন, সাহাবায়ে কিরাম নিয়ে তিনি কা‘বাঘরে প্রবেশ করছেন। সাহাবায়ে কিরাম ও নবী করীম (সাঃ)-এর কা‘বাঘর তাওয়াফ ও যিয়ারত করার বাসনাও ছিল। এই স্বপ্ন দ্বারা তা আরো চাঙ্গা হয়ে উঠলো। নবী করীম (সাঃ) উমরা অর্থাৎ কা‘বা যিয়ারতের সংকল্প করলেন। ষষ্ঠ হিজরীর যুল-কাদাহ মাসে তিনি এক হাজার চারশ সাহাবা সমভিব্যাহারে মদীনা থেকে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা করলেন। উমরার ইহরাম বাঁধলেন এবং কুরবানীর জন্য সত্তরটি উট সঙ্গে নিলেন। ইহরাম বাঁধা এবং কুরবানীর উট সঙ্গে নেয়া থেকেই বোঝা যায় যে, তিনি যুদ্ধ করার অভিপ্রায় নিয়ে বের হননি বরং তার উদ্দেশ্য ছিল নিছক বায়তুল্লাহ্র যিয়ারত করা। মক্কার কুরায়শদেরও কোন অধিকার ছিল না কা‘বাঘরের যিয়ারত থেকে কাউকে বিরত রাখার।
যুল-হুলায়ফা নামক স্থানে পৌঁছে নবী করীম (সাঃ) বনু খুযাআর এক ব্যক্তিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে গুপ্তচররূপে প্রেরণ করলেন। তিনি আসফান নামক স্থানে ফিরে এসে নবী করীম (সাঃ)-কে খবর দিলেন যে, কুরায়শরা আপনার আগমন সংবাদ পেয়ে মস্ত এক বাহিনী মুকাবিলার জন্য সমবেত করেছে। তারা আপনাকে কা‘বাঘরে প্রবেশ করতে বাধা দেবে। তিনি সাহাবায়ে কিরামের সাথে পরামর্শ করলেন। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বললেন, আমরা উমরার নিয়ত করে এসেছি-যুদ্ধ করার জন্য আসিনি। কিন্তু কেউ যদি আমাদের ও বায়তুল্লাহ্র মাঝখানে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তবে বাধ্য হয়ে তার সাথে লড়াই করা উচিত। হযরত নবী করীম (সাঃ) এই রায় শুনে সামনে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিলেন। মক্কার কুরায়শরা মুসলমানদের বাধা দেয়ার জন্য খালিদ ইব্ন ওয়ালীদকে একদল অশ্বারোহী কুরাউল-গামীম’ নামক স্থানে প্রেরণ করলো। নবী (সাঃ) আসফান থেকে রওয়ানা হয়ে রাস্তা থেকে একটু ডান দিকে সরে গিয়ে সামনে অগ্রসর হলেন এবং দ্রুত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদের নিকটে পৌঁছলেন। খালিদ ইব্ন ওয়ালীদ মুসলমানদের এই হঠাৎ আগমনে হতবুদ্ধি হয়ে মক্কার দিকে দ্রুত ঘোড়া ছুটিয়ে দিল এবং মক্কাবাসীকে মুসলমানদের অদূরে পৌঁছে যাওয়ার সংবাদ দিল। হযরত নবী করীম (সাঃ) অগ্রসর হতে হতে সেই পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন, যেখান থেকে অপরদিকে অবতরণ করলে মক্কা নগরীর মাঠ শুরু হয়ে যেতো। তাঁর উটনী ঐ জায়গায় বসে গেলো। লোকেরা বললো, উটনী ধোঁকা দিয়েছে। নবী করীম (সাঃ) বললেন, উটনী ধোঁকা দেয়নি। আল্লাহর মর্যীর বিরুদ্ধে তোমাদের বাসনা পূর্ণ হতে পারে না।
যুল-হুলায়ফা নামক স্থানে পৌঁছে নবী করীম (সাঃ) বনু খুযাআর এক ব্যক্তিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে গুপ্তচররূপে প্রেরণ করলেন। তিনি আসফান নামক স্থানে ফিরে এসে নবী করীম (সাঃ)-কে খবর দিলেন যে, কুরায়শরা আপনার আগমন সংবাদ পেয়ে মস্ত এক বাহিনী মুকাবিলার জন্য সমবেত করেছে। তারা আপনাকে কা‘বাঘরে প্রবেশ করতে বাধা দেবে। তিনি সাহাবায়ে কিরামের সাথে পরামর্শ করলেন। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা) বললেন, আমরা উমরার নিয়ত করে এসেছি-যুদ্ধ করার জন্য আসিনি। কিন্তু কেউ যদি আমাদের ও বায়তুল্লাহ্র মাঝখানে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তবে বাধ্য হয়ে তার সাথে লড়াই করা উচিত। হযরত নবী করীম (সাঃ) এই রায় শুনে সামনে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিলেন। মক্কার কুরায়শরা মুসলমানদের বাধা দেয়ার জন্য খালিদ ইব্ন ওয়ালীদকে একদল অশ্বারোহী কুরাউল-গামীম’ নামক স্থানে প্রেরণ করলো। নবী (সাঃ) আসফান থেকে রওয়ানা হয়ে রাস্তা থেকে একটু ডান দিকে সরে গিয়ে সামনে অগ্রসর হলেন এবং দ্রুত খালিদ ইব্ন ওয়ালীদের নিকটে পৌঁছলেন। খালিদ ইব্ন ওয়ালীদ মুসলমানদের এই হঠাৎ আগমনে হতবুদ্ধি হয়ে মক্কার দিকে দ্রুত ঘোড়া ছুটিয়ে দিল এবং মক্কাবাসীকে মুসলমানদের অদূরে পৌঁছে যাওয়ার সংবাদ দিল। হযরত নবী করীম (সাঃ) অগ্রসর হতে হতে সেই পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন, যেখান থেকে অপরদিকে অবতরণ করলে মক্কা নগরীর মাঠ শুরু হয়ে যেতো। তাঁর উটনী ঐ জায়গায় বসে গেলো। লোকেরা বললো, উটনী ধোঁকা দিয়েছে। নবী করীম (সাঃ) বললেন, উটনী ধোঁকা দেয়নি। আল্লাহর মর্যীর বিরুদ্ধে তোমাদের বাসনা পূর্ণ হতে পারে না।