১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯৩
সাফা পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে প্রথম সত্য-ঘোষণা
এবার আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ এলো ওয়াহীর মাধ্যমে :
فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ
(হে রাসূল!) আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন।
এ নির্দেশ আসার পর প্রিয়নবী (সাঃ) সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং এক একটি করে কবীলার নাম ধরে সবাইকে উচ্চৈঃস্বরে আহবান জানাতে লাগলেন। আরবের তৎকালীন প্রথা অনুসারে লোকজন এসে তার চতুষ্পার্শ্বে জমায়েত হলো। তখন তিনি বললেন :
اخبرتكم ان العدو مصبحكم او ممسكم اما کنتم
হে কুরায়শ, আমি যদি তোমাদেরকে সংবাদ দেই যে, সকালে অথবা সন্ধ্যায় তোমাদের উপর শত্রুর আক্রমণ হবে। তাহলে কি তোমরা আমার কথায় বিশ্বাস করবে?
সকলে সমস্বরে বলে উঠলো : “আলবৎ, আমরা সব সময় আপনাকে সত্যকথা বলতে শুনেছি।” এবার হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলে উঠলেন :
“আমি তোমাদেরকে সংবাদ দিচ্ছি, আল্লাহর শাস্তি অতি নিকটবর্তী। তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করো, যাতে করে তার শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারো।”
তাঁর কথা শুনে কুরায়শরা হেসে উঠলো। আবূ লাহাব বলে উঠলো, “তোমার জন্য ধ্বংস আসুক : এজন্যেই কি তুমি আমাদেরকে ডেকে এনেছো?”
এরপর সমাবেশ ভঙ্গ হয়ে গেলো। লোকজন যার যার ঘরে নানা কথা বলাবলি করতে করতে চলে গেলো। আবূ লাহাব উঠে যেতেই নাযিল হলো : تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ সূরা। আরো কয়েকদিন পর নাযিল হলো :
وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
অর্থাৎ নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করুন (হে রাসূল!)।
হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হযরত আলী (রা)-কে একটি যিয়াফতের আয়োজন করতে বললেন। হযরত আলী (রা) নির্দেশ মাফিক যিয়াফতের আয়োজন করলেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিকটাত্মীয়দেরকে দাওয়াত করলেন। প্রায় চল্লিশজন আত্মীয়-স্বজন এলেন। যখন সকলের খাওয়া-দাওয়া শেষ হলো তখন তিনি কিছু বক্তৃতা করতে চাইলেন। কিন্তু আবূ লাহাব এমনি আজে-বাজে কথাবার্তা শুরু করে দিলো যে, লোকজন একে একে চলে গেলো। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কথা বলার কোন সুযোগই আর হয়ে উঠলো না। পরদিন আবার সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হলো। সকলের খাওয়া দাওয়া শেষ হলে হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন :
দেখো, আমি তোমাদের নিকট এমন উত্তম কথা নিয়ে এসেছি যার চাইতে উত্তম কথা কেউ কোনদিন তার স্ব-সম্প্রদায়ের জন্যে নিয়ে আসেনি। বলো, তোমাদের মধ্যে কে কে এ কাজে আমাকে সাহায্য করবে?
একথা শুনে সকলেই নিশ্চুপ হয়ে রইলো। কারো মুখেই কোনো জবাব শোনা গেলো না। এমনি সময় হযরত আলী (রা) দাঁড়িয়ে বললেন :
যদিও আমি বয়সে সবার চাইতে ছোট এবং সবচাইতে দুর্বল,
আমি আপনাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছি।
তাঁর এ কথা শুনে সবাই হেঁসে উঠলো এবং ঠাট্টা-মশকরা করতে করতে প্রস্থান করলো।
فَاصْدَعْ بِمَا تُؤْمَرُ
(হে রাসূল!) আপনি যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছেন তা প্রকাশ্যে প্রচার করুন।
এ নির্দেশ আসার পর প্রিয়নবী (সাঃ) সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং এক একটি করে কবীলার নাম ধরে সবাইকে উচ্চৈঃস্বরে আহবান জানাতে লাগলেন। আরবের তৎকালীন প্রথা অনুসারে লোকজন এসে তার চতুষ্পার্শ্বে জমায়েত হলো। তখন তিনি বললেন :
اخبرتكم ان العدو مصبحكم او ممسكم اما کنتم
হে কুরায়শ, আমি যদি তোমাদেরকে সংবাদ দেই যে, সকালে অথবা সন্ধ্যায় তোমাদের উপর শত্রুর আক্রমণ হবে। তাহলে কি তোমরা আমার কথায় বিশ্বাস করবে?
সকলে সমস্বরে বলে উঠলো : “আলবৎ, আমরা সব সময় আপনাকে সত্যকথা বলতে শুনেছি।” এবার হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলে উঠলেন :
“আমি তোমাদেরকে সংবাদ দিচ্ছি, আল্লাহর শাস্তি অতি নিকটবর্তী। তাঁর প্রতি ঈমান আনয়ন করো, যাতে করে তার শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারো।”
তাঁর কথা শুনে কুরায়শরা হেসে উঠলো। আবূ লাহাব বলে উঠলো, “তোমার জন্য ধ্বংস আসুক : এজন্যেই কি তুমি আমাদেরকে ডেকে এনেছো?”
এরপর সমাবেশ ভঙ্গ হয়ে গেলো। লোকজন যার যার ঘরে নানা কথা বলাবলি করতে করতে চলে গেলো। আবূ লাহাব উঠে যেতেই নাযিল হলো : تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ সূরা। আরো কয়েকদিন পর নাযিল হলো :
وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
অর্থাৎ নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করুন (হে রাসূল!)।
হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হযরত আলী (রা)-কে একটি যিয়াফতের আয়োজন করতে বললেন। হযরত আলী (রা) নির্দেশ মাফিক যিয়াফতের আয়োজন করলেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিকটাত্মীয়দেরকে দাওয়াত করলেন। প্রায় চল্লিশজন আত্মীয়-স্বজন এলেন। যখন সকলের খাওয়া-দাওয়া শেষ হলো তখন তিনি কিছু বক্তৃতা করতে চাইলেন। কিন্তু আবূ লাহাব এমনি আজে-বাজে কথাবার্তা শুরু করে দিলো যে, লোকজন একে একে চলে গেলো। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কথা বলার কোন সুযোগই আর হয়ে উঠলো না। পরদিন আবার সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হলো। সকলের খাওয়া দাওয়া শেষ হলে হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন :
দেখো, আমি তোমাদের নিকট এমন উত্তম কথা নিয়ে এসেছি যার চাইতে উত্তম কথা কেউ কোনদিন তার স্ব-সম্প্রদায়ের জন্যে নিয়ে আসেনি। বলো, তোমাদের মধ্যে কে কে এ কাজে আমাকে সাহায্য করবে?
একথা শুনে সকলেই নিশ্চুপ হয়ে রইলো। কারো মুখেই কোনো জবাব শোনা গেলো না। এমনি সময় হযরত আলী (রা) দাঁড়িয়ে বললেন :
যদিও আমি বয়সে সবার চাইতে ছোট এবং সবচাইতে দুর্বল,
আমি আপনাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছি।
তাঁর এ কথা শুনে সবাই হেঁসে উঠলো এবং ঠাট্টা-মশকরা করতে করতে প্রস্থান করলো।