hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪১০

আলী (রা)-এর ঐতিহাসিক ভাষণ

এরপর হযরত আমীরে মুআবিয়া (রা) হাবীব ইব্‌ন মাসলামা, শুরাহবীল ইবনুস সিমত এবং মাআন ইব্‌ন ইয়াযীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল আলী (রা)-এর কাছে প্রেরণ করেন। হাবীব ইব্‌ন মাসলামা আলী (রা)-কে বলেন, উসমান (রা) সত্যপন্থী খলীফা ছিলেন। তিনি কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী হুকুম জারি করতেন। তার জীবন তোমার কাছে অসহ্য হওয়ায় তুমি তাকে হত্যা করেছ। যদি তুমি তাকে হত্যা না করে থাক তাহলে তার হত্যাকারীদের আমাদের হাতে সমর্পণ কর এবং খিলাফত থেকে সরে দাঁড়াও। এরপর মুসলমানরা যাকে ইচ্ছা নিজেদের খলীফা নির্বাচন করবে। একথা শুনে আলী (রা) রাগান্বিত হন এবং বলেন, তুমি চুপ কর। রাষ্ট্র পরিচালনা ও খিলাফত সম্পর্কে এ ধরনের বক্তৃতা ঝাড়ার কোন অধিকার তোমার নেই। হাবীব ইব্‌ন মাসলামা বলেন, তুমি আমাকে শীঘ্রই সেই অবস্থায় দেখবে, যা তোমার মনঃপূত নয়। একমাত্র তরবারিই এই বিরোধের মীমাংসা করবে। আলী (রা) বলেন যাও, তোমার মন যা চায় তাই কর। এই বলে তিনি দাঁড়িয়ে যান এবং আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূলের প্রশস্তির পর রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর আবির্ভাবের কথা উল্লেখ করেন। তারপর হযরত আবূ বকর ও উমর (রা)-এর অনুপম গুণাবলীর উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এ দু’জনকে তাঁদের দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে পালন করতে দেখেছি। তাই আমি রক্ত সম্বন্ধ ও আত্মীয়তার দিক দিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকটতর হওয়া সত্ত্বেও তাদের খিলাফতের ব্যাপারে কোনরূপ হস্তক্ষেপ করিনি। এরপর জনসাধারণ উসমান (রা)-কে খলীফা নির্বাচন করল। তার কর্মধারায় লোকেরা অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে হত্যা করে। তারপর লোকেরা আমার হাতে বায়‘আত করার আবেদন জানায়। আমি তাদের আবেদনে সাড়া দেই। কিন্তু বায়‘আতের পর তালহা (রা) ও যুবায়র (রা) তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন এবং মুআবিয়া (রা) আমার বিরোধিতা করতে থাকেন। অথচ তিনি আমার মত প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত নন। আমি অবাক হচ্ছি এই ভেবে যে, তোমরা কিভাবে তার অনুগত হয়ে গেলে। এমতাবস্থায় যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব, সুন্নাহ ও আরকানে ইসলাম (ধর্মের একান্ত করণীয় বিষয়সমূহ)-এর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমি হক ও সত্যকে সঞ্জীবিত এবং অন্যায় ও বাতিলকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছি। শুরাহবীল ইবনুস সিমত এই বক্তৃতা শোনার পর আলী (রা)-কে বলেন, আপনি কি এ কথার সাক্ষ্য দেন না যে, হযরত উসমান (রা)-কে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি উত্তরে বলেন, আমি উসমান (রা)-কে মজলুমও বলি না, আবার জালিমও বলি না। একথা শুনে প্রতিনিধিদলের ব্যক্তিত্রয় এই বলে উঠে দাঁড়ান যে, যে ব্যক্তি উসমান (রা)-কে মজলুম বলে না আমরা তার প্রতি অসন্তুষ্ট এবং তাকে উপদেশ দেওয়া না দেওয়া সমান। কেননা এর কোন প্রভাবই তার উপর পড়বে না। এই ঘটনার পর আপোস-মীমাংসার আর কোন উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা চালানো হয়নি।