hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০৭

তায়িফ সফর

কুরায়শদের জেদ ক্রমেই বেড়ে চললো। শি’বে আবূ তালিবের বন্দিত্বের জীবনেই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যখন হজ্জের মওসুমে বেরিয়ে আসতেন, তখন মক্কায় আগত বাইরের তীর্থ যাত্রীদের কাছে ইসলামের তাবলীগ শুরু করে দিয়েছিলেন। সে সময় তার সে প্রচারকার্যে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়নি। এখন মক্কাবাসীদের ইসলামের প্রতি সীমাহীন বিরাগভাব লক্ষ্য করে তিনি তায়িফবাসীদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে মনস্থ করেন।

তায়িফ ছিলো মক্কা থেকে তিন মন্‌যিল অর্থাৎ ষাট মাইল দূরবর্তী মক্কার মতোই বড় শহর। ছাকীফ গোত্র সেখানে বাস করতো। ওরা ছিলো লাতের পূজারী। সেখানে লাতের মন্দির ছিলো। গোটা শহরের লোক ছিলো সে মন্দিরের ভক্ত পূজারী। নবুওয়াতের দশম বছর শওয়াল মাসে অর্থাৎ হযরত খাদীজা (রা)-এর ইন্তিকালের এক মাস পরে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যায়দ ইব্‌ন হারিছা (রা)-কে সঙ্গে নিয়ে পায়ে হেঁটে তায়িফ গিয়ে উপনীত হন। সেখানে পৌঁছবার পূর্বে রাস্তায় তিনি ইব্‌ন বকর কবীলায় গিয়ে উঠেন। যখন তিনি লক্ষ্য করলেন যে, এরাও মক্কাবাসীদের সমধর্মী ও সহমর্মী তখন তিনি কাহ্তান বংশীয়দের কাছে গিয়ে উপনীত হলেন। কিন্তু যখন দেখতে পেলেন যে, এরাও নিষ্ঠুরতার কোন অংশে মক্কাবাসীদের চাইতে কম না তখন তিনি তায়িফে গিয়ে উপস্থিত হলেন। তায়িফে পৌঁছে সর্বপ্রথম তিনি সেখানকার নেতৃস্থানীয় লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তায়িফের সরদারদের মধ্যে আবদে ইয়ালীল ইব্‌ন উমর এবং তার দুই ভাই মাসঊদ ও হাবীব বনী ছাকীফের নেতৃস্থানীয় সরদার ও সর্বাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে গণ্য হতেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সর্বপ্রথম এদের সাথে দেখা করে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। এরা ছিল অত্যন্ত দাম্ভিক ও অহংকারী। তাদের একজন বললো : আল্লাহ যদি তোমাকে নবীই বানাতেন, তবে কি আর এমন করে জুতা চটর চটর করে পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে? দ্বিতীয় জন বলল : আল্লাহ্ বুঝি তোমাকে ছাড়া নবী বানাবার জন্যে আর কোন লোক খুঁজে পেলেন না? শেষ পর্যন্ত তিনি তোমাকেই নবী বানালেন।

لَوْلَا نُزِّلَ هَٰذَا الْقُرْآنُ عَلَىٰ رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ . ( ٣١ : ٤٣ )

তৃতীয় জন বললো: আমি, তোমার সাথে বাক্য ব্যয় করতে চাই না। কেননা, তোমার দাবী অনুসারে সত্যিই যদি তুমি আল্লাহর রাসূল হয়ে থাক তাহলে তোমার কথা প্রত্যাখ্যান করা বিপজ্জনক হবে। আর যদি তুমি আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে থাক, তবে এমন ব্যক্তির সাথে বাক্যালাপ না করাই শ্রেয়।