১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭০
চীন
উপরে আরবের চতুষ্পার্শ্বে অবস্থিত যে দেশগুলোর অবস্থা বিবৃত হয়েছে সে যুগে এগুলোই বিখ্যাত, উন্নত ও সভ্য জাতি বলে গণ্য হতো। এগুলো ছাড়া অপর যে সভ্য জনাকীর্ণ ও শস্য-শ্যামল দেশের নাম নেয়া যায় তা হলো চীন। চীনের অবস্থা উপরিউক্ত দেশগুলোর চাইতেও শোচনীয় ছিল। কনফুসিয়াস, তাও ও বৌদ্ধ ধর্মত্রয়ের রাসায়নিক সংমিশ্রণে সে দেশের তাহযীব-তমুদ্দুন ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে ঠিক ঐ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল যেমনটি হয়ে থাকে সোডা ও টারটারিক এসিডের সংমিশ্রণে। এ অবস্থার পরিবর্তন কেবল তখনই হয়েছিল যখন মুসলমানদের একটি জামাআত চীনে প্রবেশ করে বসবাস করতে শুরু করে এবং নিজেদের চারিত্রিক নমুনা দ্বারা প্রতিবেশীদেরকে প্রভাবান্বিত করে। তুর্কিস্তান, রুশ, ব্রহ্মদেশ, ইউরোপ প্রভৃতি স্থানেও মনুষ্য বসতি বিদ্যমান। কিন্তু সেকালে হয় এসব দেশের অধিবাসীদের সম্পর্কে বিশ্ববাসীরা অনবহিত ছিল নতুবা তারা মানবেতর জীবন যাপন করতো। মোদ্দাকথা তাদের তেমন কোন মানবীয় গুণের কথা জানা যায়নি, যা নিয়ে ঈর্ষা করা চলে।
মোদ্দাকথা, উপরিউক্ত বিবরণ পাঠে একথা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের পূর্বে এবং তার আবির্ভাবের যুগে গোটা পৃথিবী তমসাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলো। অজ্ঞতার অন্ধকার তখন বিশ্বব্যাপী এমনিভাবে ছেয়ে গিয়েছিল যে, পৃথিবীর কোন অঞ্চলে তখন একটি নিভুনিভু আলোও পরিদৃষ্ট হচ্ছিলো না।
ইতিপূর্বে পৃথিবীব্যাপী কখনো এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়নি যে, সভ্যতা-সংস্কৃতি, নৈতিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মারিফাতে ইলাহী একই সাথে বিলুপ্ত হয়ে গোটা বিশ্ব অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসূল হিদায়াতকারীরা উপর্যুপরি এসে সেসব দেশে বিরাজিত তমসারাজিকে বিদীর্ণ করে রাতের পর দিনের আগমনের মতো সেসব দেশকে আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন। কিন্তু এবার যেহেতু গোটা বিশ্বের জন্য একই হাদীকে প্রেরণ করার পালা ছিল, তাই আল্লাহ্ তা‘আলা ইতিপূর্বে সমস্ত হিদায়াতকারী এবং সকল দেশের পথপ্রদর্শকদের দ্বারা প্রচারিত শিক্ষার যুগকে একই সাথে খতম করে দুনিয়ায় সর্বত্র এক নতুন হাদীর প্রয়োজন সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। গোটা বিশ্ব সমকণ্ঠে আর্তনাদ করে এক নতুন হাদীর জন্যে আকুল আকুতি প্রকাশ করছিলো। আল্লাহ্ তা‘আলা সেই কামিল হাদী ও সর্বশেষ রাসূলকে প্রেরণের জন্যে আরবভূমিকে বেছে নিলেন এবং গোটা ভূ-ভাগের নিশ্চিদ্র অন্ধকার রজনীর অবসান ঘটিয়ে মক্কা মুআয্যমায় নবুওয়াত-সূর্যের উদয় ঘটালেন। সে সূর্য উদিত হয়ে গোটা বিশ্বকে আলোকে উদ্ভাসিত করে তুললো। আমাদের এ গ্রন্থের সূচনা সেই সূর্যোদয় থেকেই হওয়ার কথা। কিন্তু তার পূর্বে একটি প্রশ্নের জবাব বাকী রয়ে গেছে আর তা হলো আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে নবীরূপে প্রেরণের জন্যে আরবের মাটিকেই কেন বেছে নেয়া হলো, অন্য কোন দেশে কেন তাকে প্রেরণ করা হলো না।
মোদ্দাকথা, উপরিউক্ত বিবরণ পাঠে একথা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের পূর্বে এবং তার আবির্ভাবের যুগে গোটা পৃথিবী তমসাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলো। অজ্ঞতার অন্ধকার তখন বিশ্বব্যাপী এমনিভাবে ছেয়ে গিয়েছিল যে, পৃথিবীর কোন অঞ্চলে তখন একটি নিভুনিভু আলোও পরিদৃষ্ট হচ্ছিলো না।
ইতিপূর্বে পৃথিবীব্যাপী কখনো এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়নি যে, সভ্যতা-সংস্কৃতি, নৈতিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মারিফাতে ইলাহী একই সাথে বিলুপ্ত হয়ে গোটা বিশ্ব অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসূল হিদায়াতকারীরা উপর্যুপরি এসে সেসব দেশে বিরাজিত তমসারাজিকে বিদীর্ণ করে রাতের পর দিনের আগমনের মতো সেসব দেশকে আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন। কিন্তু এবার যেহেতু গোটা বিশ্বের জন্য একই হাদীকে প্রেরণ করার পালা ছিল, তাই আল্লাহ্ তা‘আলা ইতিপূর্বে সমস্ত হিদায়াতকারী এবং সকল দেশের পথপ্রদর্শকদের দ্বারা প্রচারিত শিক্ষার যুগকে একই সাথে খতম করে দুনিয়ায় সর্বত্র এক নতুন হাদীর প্রয়োজন সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। গোটা বিশ্ব সমকণ্ঠে আর্তনাদ করে এক নতুন হাদীর জন্যে আকুল আকুতি প্রকাশ করছিলো। আল্লাহ্ তা‘আলা সেই কামিল হাদী ও সর্বশেষ রাসূলকে প্রেরণের জন্যে আরবভূমিকে বেছে নিলেন এবং গোটা ভূ-ভাগের নিশ্চিদ্র অন্ধকার রজনীর অবসান ঘটিয়ে মক্কা মুআয্যমায় নবুওয়াত-সূর্যের উদয় ঘটালেন। সে সূর্য উদিত হয়ে গোটা বিশ্বকে আলোকে উদ্ভাসিত করে তুললো। আমাদের এ গ্রন্থের সূচনা সেই সূর্যোদয় থেকেই হওয়ার কথা। কিন্তু তার পূর্বে একটি প্রশ্নের জবাব বাকী রয়ে গেছে আর তা হলো আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে নবীরূপে প্রেরণের জন্যে আরবের মাটিকেই কেন বেছে নেয়া হলো, অন্য কোন দেশে কেন তাকে প্রেরণ করা হলো না।