hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্

বিশ্ব ইতিহাসের প্রতি নযর বুলালে প্রতীয়মান হয় যে, পৃথিবীর দেশে দেশে যুগে যুগে যত আম্বিয়ায়ে কিরাম, সংস্কারক ও ধর্ম প্রবর্তক এসেছেন তাঁদের সবাই এক মহান সত্তার (স্রষ্টার) অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সকলেই তাদের অনুসারীদেরকে আল্লাহ্ তা‘আলার অস্তিত্বে বিশ্বাসী করে তোলার প্রয়াস পেয়েছেন। হযরত আদম (আ), হযরত নূহ (আ), হযরত ইবরাহীম (আ), হযরত মূসা (আ) ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সময়কালের মধ্যে শত শত হাজার হাজার বছরের ব্যবধান বা দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও তারা সবাই এক আল্লাহর একত্ব তথা তাওহীদের মূলনীতি শিক্ষা দিয়েছেন।

কৃষ্ণজী, রামচন্দ্রজী, গৌতম বুদ্ধ ও গুরু নানক ভারতবর্ষে, কায়কোবাদ ও জরথুস্ত্র ইরানে, কনফুসিয়াস চীনে, হযরত লুকমান গ্রীসে, হযরত ইউসুফ (আ) মিসরে, হযরত লূত (আ) সিরিয়া ও ফিলিস্তীনে ছিলেন, কিন্তু তাদের সকলের শিক্ষায়ই আল্লাহ্ তা‘আলার একত্বের শিক্ষা অভিন্নভাবে বিদ্যমান।

নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নির্বিশেষে ইয়াহূদী-খ্রিস্টান প্রভৃতি পৃথিবীর প্রায় সকলেই আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্বে বিশ্বাসী। স্বল্পসংখ্যক লোক এমন যারা কোন দিকেই গণ্য নয়। এমন কিছু লোকও থাকতে পারে, যারা বাহ্যত আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করলেও তাদের অন্তর আল্লাহ্‌র অস্তিত্বের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য। শেষ পর্যন্ত তাদেরকেও স্বীকার করতে হয় যে, এই কার্যকারণের পেছনেও একজন কুশলীর ইচ্ছা ও পরিকল্পনা সক্রিয় রয়েছে। সেই কুশলী ইচ্ছাময়ের নামই হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলা।

কবির ভাষায় :

به لوح گر هزار ان نقش پید است

نیاید بے قلمزن يك الفت راست

পৃথিবীর এ বিপুল ঐকমত্যকে অস্বীকার করা এবং বিশ্বের তাবৎ জ্ঞানীগুণী দার্শনিকদের সর্ববাদীসম্মত আকীদা-বিশ্বাসকে ভুল প্রতিপন্ন করা পাগল ছাড়া আর কারো পক্ষে সম্ভবপর নয়।