hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮৯

আবু সুফিয়ানের মর্যাদা বৃদ্ধি

হযরত আব্বাস (রা) হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, আবূ সুফিয়ান মর্যাদাপ্রিয় লোক। আপনি তাকে বিশেষ কোন মর্যাদা দান করুন। তিনি বললেন, আচ্ছা, যে ব্যক্তি কা‘বাঘরে আশ্রয় নেবে, তাকে আমান (নিরাপত্তা) দেয়া হবে। যে ব্যক্তি আবূ সুফিয়ানের ঘরে আশ্রয় নেবে তাকেও আমান দেয়া হবে। যে ব্যক্তি তার আপন ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে থাকবে, সেও আমানে থাকবে। আর যাকে নিরস্ত্র অবস্থায় রাস্তায় পাওয়া যাবে, তারও কোন অসুবিধা ঘটানো হবে না। আবূ সুফিয়ান তাঁর এই মর্যাদা বৃদ্ধি দেখে খুব খুশী হলেন।

তখনই ইসলামী লশকর অস্ত্র-সজ্জিত হয়ে মক্কার দিকে ধাবিত হলো। ইসলামী লশকরের বিভিন্ন গোত্রের বিভিন্ন নিশান ছিল। আবূ সুফিয়ান উপত্যকার শীর্ষদেশে এক উঁচু টিলার উপর দাঁড়িয়ে ইসলামী লশকরের দৃশ্য অবলোকন করলেন এবং সবার আগে মক্কায় প্রবেশ করে ঘোষণা করে দিলেন যে, যে ব্যক্তি কা‘বাঘরে কিংবা আমার ঘরে আশ্রয় নেবে, সে নিরাপদ থাকবে। নবী করীম (সাঃ)-এর ইচ্ছা ছিল মক্কায় রক্তপাত না হওয়া। তিনি একদিন নিঃসম্বল অবস্থায় এই মক্কা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন। আর আজ শাহী মর্যাদা ও বিশাল বাহিনীসহ মক্কায় প্রবেশ করছিলেন। একথা স্মরণ করে তিনি বারবার আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করছিলেন। তিনি মক্কায় বিনা বাধায় সাড়ম্বরে প্রবেশ করে কা‘বাঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন। সওয়ারীর উপর বসে সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন। বায়তুল্লাহ্‌র সমস্ত প্রতিমা বাইরে নিক্ষেপ করলেন। তারপর কা‘বার দ্বাররক্ষক উসমান ইব্‌ন তালহা (রা)-এর নিকট থেকে চাবি নিয়ে কা‘বাঘরে প্রবেশ করলেন। চাশ্‌ত সালাত আদায় করলেন। তারপর কা‘বা ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে একটি ভাষণ দিলেন। মক্কাবাসীও সেখানে মাথা নীচু করে ভয় ও লজ্জায় তাঁর সামনে অপরাধীর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়েছিল।