১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩১
মুনাফিকীর উদ্ভব
মদীনায় আবদুল্লাহ ইব্ন উবায়্য ইব্ন সলূল নামক একজন অত্যন্ত বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ ও ধুরন্ধর লোক বাস করতো। আওস ও খাযরাজ গোত্রে তার অপ্রতিহত প্রভাব ছিল। সকলেই তাকে নেতা বলে গণ্য করতো। আওস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয় এর কিছু দিন আগেও বুআছের যুদ্ধে একে অপরের মুকাবিলা করছিল। এ যুদ্ধে উভয় গোত্রেরই বাছা বাছা সরদাররা নিহত হন এবং গোত্রদ্বয় অত্যন্ত হীনবল হয়ে পড়ে। আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্য এ পরিস্থিতির সুযোগ নেয় এবং উক্ত দু’টি গোত্রে নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কোন সুযোগই হাতছাড়া হতে দেয়নি। মদীনাবাসীরা তাকে তাদের সর্বসম্মত নেতারূপে ঘোষণার উপক্রম করছিল। এমন কি তার অভিষেকের উদ্দেশ্যে তারা একটা মুকুটও তৈরী করে ফেলেছিল। এমনি সময় মদীনায় ইসলাম ও তার নবীর আবির্ভাব ঘটে।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মদীনায় আগমনের সাথে সাথে মুসলমানরাই মদীনার সবচাইতে বড় শক্তি বলে বিবেচিত হতে লাগলো। অবশেষে উপরোক্ত চুক্তিপত্রে সকলে সই করে দিয়ে তাদের সে শক্তি ও আধিপত্যকে সকলেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে দিল। এর অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্যর বাড়াভাতে ছাই পড়লো। তার বাদশাহী ও সরদারীর স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেল। কিন্তু লোকটি যেহেতু অত্যন্ত ধুরন্ধর ছিল, তাই হযরত নবী (সাঃ)-কে তার পরম শত্রু ও প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করলেও সে মনোভাবের প্রকাশকে নিরর্থক মনে করে সে তা মনে মনেই চেপে রইলো। আওস ও খাযরাজের যেসব লোক তখনো মূর্তিপূজারী ছিলো তাদের উপর তার আধিপত্য তখনো পূর্ববৎ অটুট ছিল। মক্কার কুরায়শরা যখন জানতে পারলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তার অনুচরগণ মদীনায় গিয়ে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন এবং দিন দিন ইসলামের প্রসার ঘটছে, তখন সর্বপ্রথম তারা যে দুষ্টামিটি করলো তা হলো আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্য এবং মদীনার মুশরিকদেরকে তারা এ মর্মে একটি সতর্কবাণী পাঠালো যে, আমাদের লোকদেরকে তোমরা আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোমাদের ওখানে থাকতে দিচ্ছ। তোমাদের এখন উচিত তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা এবং তাদেরকে মদীনা থেকে বের করে দেয়া। যদি তোমরা তা না কর তবে আমরা সুসজ্জিত হয়ে মদীনা আক্রমণ করবো। তোমাদের যুবকদেরকে হত্যা করা হবে এবং তোমাদের রমণীদেরকে আমরা হস্তগত করবো।
এ খবর পাওয়া মাত্র আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্য মদীনার মুশরিকদেরকে একত্রিত করলো এবং তাদেরকে মক্কাবাসীদের এ বার্তাটি সম্পর্কে অবহিত করে সকলকে যুদ্ধের জন্য প্ররোচিত করলো। ঘটনাচক্রে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত হয়ে গেলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ সেই সমাবেশে গিয়ে উপস্থিত হলেন। তিনি সেই সমাবেশকে লক্ষ্য করে বললেন : “মক্কার কুরায়শরা তোমাদেরকে প্রতারিত করতে চাচ্ছে। যদি তোমরা তাদের প্রতারণার জালে ধরা দাও এবং তাদের হুমকিকে আমল দাও, তাহলে তোমরা দারণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তোমাদের জন্যে সমীচীন হবে এই যে, তোমরা তাদেরকে সাফ জবাব দিয়ে দেবে এবং আমাদের সাথে কৃত তোমাদের চুক্তির উপর অটল থাকবে। যদি একান্তই কুরায়শরা মদীনা আক্রমণ করেও তবে তাদেরকে প্রতিরোধ করা এবং তাদের সাথে লড়াই করা আমাদের জন্যে খুব সহজই হবে। কেননা, আমরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের মুকাবিলা করবো। পক্ষান্তরে যদি তোমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তাহলে নিজ হাতে তোমরা নিজেদের পুত্র, ভাই ও নিকটাত্মীয়দেরকে হত্যা করবে এবং এভাবে নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করবে।” হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কথাগুলো উপস্থিত সকলেই সমর্থন করলো এবং তৎক্ষণাৎ সভা বঙ্গ হয়ে গেলো। আবদুল্লাহ ইব্ন উবায়্য তা নীরবে প্রত্যক্ষ করলো।
এ বছরই মুসলমানদেরকে মসজিদে আহবান করার জন্যে আযানের ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলো। এ বছরই ইয়াহূদীদের একজন প্রাজ্ঞ পণ্ডিত ব্যক্তি হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন সালাম (রা) ইসলাম গ্রহণ করলেন। ঐ বছরই হযরত সালমান ফারসী (রা) যিনি প্রথমে মজুসী বা অগ্নি উপাসক ছিলেন তারপর খ্রিস্টান হন এবং ইয়াহূদী-নাসারাদের কিতাবাদি অধ্যয়ন করে আখিরী যামানার নবীর প্রতীক্ষায় ছিলেন তিনি হযরত নবী (সাঃ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হন। এ বছরই যাকাতও ফরয হয়।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মদীনায় আগমনের সাথে সাথে মুসলমানরাই মদীনার সবচাইতে বড় শক্তি বলে বিবেচিত হতে লাগলো। অবশেষে উপরোক্ত চুক্তিপত্রে সকলে সই করে দিয়ে তাদের সে শক্তি ও আধিপত্যকে সকলেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে দিল। এর অনিবার্য পরিণতি স্বরূপ আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্যর বাড়াভাতে ছাই পড়লো। তার বাদশাহী ও সরদারীর স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেল। কিন্তু লোকটি যেহেতু অত্যন্ত ধুরন্ধর ছিল, তাই হযরত নবী (সাঃ)-কে তার পরম শত্রু ও প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করলেও সে মনোভাবের প্রকাশকে নিরর্থক মনে করে সে তা মনে মনেই চেপে রইলো। আওস ও খাযরাজের যেসব লোক তখনো মূর্তিপূজারী ছিলো তাদের উপর তার আধিপত্য তখনো পূর্ববৎ অটুট ছিল। মক্কার কুরায়শরা যখন জানতে পারলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তার অনুচরগণ মদীনায় গিয়ে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করছেন এবং দিন দিন ইসলামের প্রসার ঘটছে, তখন সর্বপ্রথম তারা যে দুষ্টামিটি করলো তা হলো আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্য এবং মদীনার মুশরিকদেরকে তারা এ মর্মে একটি সতর্কবাণী পাঠালো যে, আমাদের লোকদেরকে তোমরা আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তোমাদের ওখানে থাকতে দিচ্ছ। তোমাদের এখন উচিত তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা এবং তাদেরকে মদীনা থেকে বের করে দেয়া। যদি তোমরা তা না কর তবে আমরা সুসজ্জিত হয়ে মদীনা আক্রমণ করবো। তোমাদের যুবকদেরকে হত্যা করা হবে এবং তোমাদের রমণীদেরকে আমরা হস্তগত করবো।
এ খবর পাওয়া মাত্র আবদুল্লাহ্ ইব্ন উবায়্য মদীনার মুশরিকদেরকে একত্রিত করলো এবং তাদেরকে মক্কাবাসীদের এ বার্তাটি সম্পর্কে অবহিত করে সকলকে যুদ্ধের জন্য প্ররোচিত করলো। ঘটনাচক্রে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত হয়ে গেলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ সেই সমাবেশে গিয়ে উপস্থিত হলেন। তিনি সেই সমাবেশকে লক্ষ্য করে বললেন : “মক্কার কুরায়শরা তোমাদেরকে প্রতারিত করতে চাচ্ছে। যদি তোমরা তাদের প্রতারণার জালে ধরা দাও এবং তাদের হুমকিকে আমল দাও, তাহলে তোমরা দারণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তোমাদের জন্যে সমীচীন হবে এই যে, তোমরা তাদেরকে সাফ জবাব দিয়ে দেবে এবং আমাদের সাথে কৃত তোমাদের চুক্তির উপর অটল থাকবে। যদি একান্তই কুরায়শরা মদীনা আক্রমণ করেও তবে তাদেরকে প্রতিরোধ করা এবং তাদের সাথে লড়াই করা আমাদের জন্যে খুব সহজই হবে। কেননা, আমরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের মুকাবিলা করবো। পক্ষান্তরে যদি তোমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তাহলে নিজ হাতে তোমরা নিজেদের পুত্র, ভাই ও নিকটাত্মীয়দেরকে হত্যা করবে এবং এভাবে নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করবে।” হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কথাগুলো উপস্থিত সকলেই সমর্থন করলো এবং তৎক্ষণাৎ সভা বঙ্গ হয়ে গেলো। আবদুল্লাহ ইব্ন উবায়্য তা নীরবে প্রত্যক্ষ করলো।
এ বছরই মুসলমানদেরকে মসজিদে আহবান করার জন্যে আযানের ব্যবস্থা প্রবর্তিত হলো। এ বছরই ইয়াহূদীদের একজন প্রাজ্ঞ পণ্ডিত ব্যক্তি হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন সালাম (রা) ইসলাম গ্রহণ করলেন। ঐ বছরই হযরত সালমান ফারসী (রা) যিনি প্রথমে মজুসী বা অগ্নি উপাসক ছিলেন তারপর খ্রিস্টান হন এবং ইয়াহূদী-নাসারাদের কিতাবাদি অধ্যয়ন করে আখিরী যামানার নবীর প্রতীক্ষায় ছিলেন তিনি হযরত নবী (সাঃ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হন। এ বছরই যাকাতও ফরয হয়।