১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮৭
আবু সুফিয়ানের মদীনায় আগমন
আবু সুফিয়ান মদীনায় এসে হযরত নবী করীম (সাঃ), হযরত উমর ফারূক (রা), হযরত আলী (রা)-এর সাথে পৃথকভাবে কথা বলতে চাইল। কিন্তু কেউই তাকে কোন জবাব দিলেন না। তিনি নিরাশ হলেন। শেষে হযরত আলী (রা) তার সাথে একটু কৌতুক করলেন। তিনি তাকে বললেন, তুমি বনূ কিনানার সরদার। মসজিদ-ই-নববীতে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে ঘোষণা করে দাও যে, আমি সন্ধির সময়সীমা বৃদ্ধি এবং ওয়াদা-অঙ্গীকার মজবুত করছি। আবূ সুফিয়ান তদ্রুপ দণ্ডায়মান হয়ে মসজিদে ঘোষণা করলো এবং তৎক্ষণাৎ মদীনা থেকে প্রস্থান করলো। সে যখন মক্কা পৌঁছলো, তখন মক্কার কুরায়শরা তাকে খুব ঠাট্টা-বিদ্রুপ করলো এবং বললো, আলী তোমার সাথে কৌতুক করেছেন। সন্ধিচুক্তি কি কখনো এভাবে হয়? আবূ সুফিয়ান তার এই আহাম্মকির জন্য খুব লজ্জিত হলো। আবূ সুফিয়ানের প্রস্থানের পর হযরত নবী করীম (সাঃ) সাহাবায়ে কিরামকে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা করার নির্দেশ দিলেন। তখন পর্যন্ত সাহাবায়ে কিরাম (রা) গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বটে, কিন্তু তারা একথা কেউ-ই জানতেন না যে, ইসলামী লশকর কোন দিকে রওয়ানা হবে এবং কোন কওম বা এলাকার উপর হামলা হবে। হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর এই সাবধানতা অবলম্বনের উদ্দেশ্য ছিল যাতে কুরায়শরা পূর্বাহ্নেই এই হামলার খবর জানতে না পারে। হাতিব ইব্ন আবী বাল্তাআ নামক জনৈক সাহাবী কুরায়শদের উপর মুসলমানদের হামলার খবর জানানোর জন্য এক মহিলার মাধ্যমে তাদের নিকট একটি পত্র প্রেরণ করেন। হযরত নবী করীম (সাঃ) ওয়াহীর মাধ্যমে তা জেনে ফেললেন। তিনি হযরত আলী ইব্ন আবী তালিব (রা) ও হযরত যুবায়র ইব্ন আওয়াম (রা)-কে ঐ মহিলাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার জন্য প্রেরণ করলেন। তাঁরা রওযা-ই-জানাহ্-এ পৌঁছে তাকে গ্রেফতার করলেন। তার সমস্ত আসবাবপত্র তন্নতন্ন করে খুঁজলেন কিন্তু পত্রের সন্ধান পেলেন না। হযরত আলী (রা) বললেন, এটা হতেই পারে না যে, নবী করীম (সাঃ) ভুল সংবাদ পেয়েছেন। পত্র অবশ্যই তার কাছে আছে। তিনি মহিলাকে ভয় দেখালেন ও ধমকালেন। তখন সে তার চুলের খোপার মধ্য থেকে চিঠি বের করে দিলো। পত্র পাঠ করে দেখা গেলো পত্রটি হাতিব ইব্ন আবী বালতাআর লেখা। পত্রসহ মহিলাটিকে নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট আনা হলো। হাতিবকে তলব করা হলো। তিনি বললেন, মক্কায় আমার আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। তাই আমি মক্কাবাসীদের উপর একটু দয়া করতে চাইলাম এবং তাদের উপর আসন্ন হামলার খবর জানিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, যাতে তারা কৃতজ্ঞতাবশত আমার আত্মীয়-স্বজনের উপর অত্যাচার না চালায়। একথা শুনে হযরত উমর ফারুক (রা) ক্রুদ্ধ হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আদেশ দিন, এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিই। তিনি বললেন, উমর! হাতিবের ভুল ক্ষমার্হ। হযরত হাতিব (রা)-এর ত্রুটি মার্জনা করা হলো। তিনি বদরী সাহাবী ছিলেন।