hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯৯

তাবুক

ইসলামী লশকর সীমান্তের তাবূক প্রস্রবণের নিকট অবস্থান নিলেন। হিরাক্লিয়াস হযরত নবী করীম (সাঃ)-কে সত্য নবী বলে বিশ্বাস করতেন। তিনি যখন তার আগমন সংবাদ পেলেন, তখন ভয়ে পিছু হটে যাওয়া শ্রেয় মনে করলেন। খ্রিস্টান বাহিনী ও গাস্‌সানী বাদশাহ ইসলামী বাহিনীর খবর পেয়ে এদিক-সেদিক চলে গেলো এবং ময়দান খালি পড়ে রইল। তাবূক মদীনা থেকে চৌদ্দ পনেরো মনযিল দূরে অবস্থিত। এখানে হযরত নবী করীম (সাঃ) প্রায় বিশ দিন অবস্থান করলেন। এই সময়ে আতিয়্যার শাসনকর্তা বুহায়না ইব্‌ন রাবিআ আনুগত্য প্রকাশের জন্য তাঁর নিকট উপস্থিত হল। তিনি জিযিয়া আদায় করার শর্তে তার সাথে সন্ধি করলেন। আতিয়্যার শাসনকর্তা জিযিয়ার অর্থ তখনই আদায় করে দিলেন। এরপর জারবা নামক স্থানে লোকেরা এলো। তারাও জিযিয়া আদায় করার ওয়াদা করলো। হযরত নবী করীম (সাঃ) তাদের সন্ধিপত্র লিখে দিলেন। তারপর আওরাখ নামক স্থানের অধিবাসীরা এলো। তারাও জিযিয়া আদায় করার চুক্তিতে সন্ধিপত্র লাভ করলো।

তাবুকের অদূরে ছিল দুমাতুল জান্দাল এলাকা। সেখানকার শাসক আকীদর ইব্‌ন আবদিল মালিক ছিল বনূ কিন্দা গোত্রের লোক। সে ছিল খ্রিস্টধর্মাবলম্বী। সে নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলো না; ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করলো। তিনি খালিদ ইব্‌ন ওলীদ (রা)-কে একদল সৈন্যসহ প্রেরণ করলেন এবং বললেন, আকীদরকে তুমি নীল গাভী শিকাররত দেখতে পাবে। তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসবে। হযরত খালিদ (রা) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে রওয়ানা করলেন। রাতভর সফর করার পর প্রাতকালে আকীদরে দুর্গের নিকট গিয়ে পৌঁছলেন। সেখানে আকীদর আশ্চর্য একটি ঘটনার সম্মুখীন হলো। গ্রীষ্মকাল। জ্যোস্না রাত। আকীদর তার স্ত্রীসহ মহলের ছাদে আরাম করছিল। একটি নীল গাভী জঙ্গলের দিক থেকে এসে মহলের দরজা তার শিং দ্বারা খোচাতে লাগলো। আকীদরের স্ত্রী আশ্চর্যান্বিত হয়ে তার স্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। আকীদর তৎক্ষণাৎ তার ঘোড়া প্রস্তুত করিয়ে তার ভাই হাস্‌সানকে সঙ্গে নিয়ে ঐ নীল গাভী শিকার করার জন্য বের হলো। সে নীল গাভীর পেছনে পেছনে কিছুদূর যেতেই হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) তার সঙ্গীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছে গেলেন এবং তাকে ঘিরে ফেললেন। আকীদর ও তার ভাই মুকাবিলা করলো। কিন্তু আকীদর জীবিত গ্রেফতার হলো এবং তার ভাই নিহত হলো। হযরত খালিদ ইব্‌ন ওয়ালীদ (রা) আকীদরের রেশমী সুন্দর কাবা খুলে তৎক্ষণাৎ সেটি ঘোড় সওয়ারের মাধ্যমে নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট প্রেরণ করলেন এবং তিনি নিজে তাকে (আকীদরকে) তাঁর কাছে নিয়ে গেলেন। হযরত নবী (সাঃ) তার প্রাণ রক্ষা করলেন। সে আনুগত্য ও জিযিয়া প্রদান করার অঙ্গীকার করলো। স্বীয় দুর্গে ফিরে এসে দু’হাজার উট, আটশ’ ঘোড়া, চারশ’ বর্শা নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট উপঢৌকন পাঠালেন এবং সন্ধিপত্র লিখিয়ে নিরাপদ হলো।