১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩১৪
হল্ব (আলেপ্পো) ও ইনতাকিয়া বিজয়
কিন্নাসরীন বিজয়ের পর হযরত আবূ উবায়দা (রা) হলবের দিকে অগ্রসর হন। হলবের নিকটবর্তী হতেই তাঁর কাছে সংবাদ আসে যে, কিন্নাসরীনবাসীরা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। হযরত আবূ উবায়দা (রা) সঙ্গে সঙ্গে কিন্নাসরীনের দিকে একটি সেনাদল প্রেরণ করেন। কিন্নাসরীনবাসীরা অবরোধের মধ্যে পড়ে পুনরায় মুসলিমদের আনুগত্য স্বীকার করে নেয় এবং প্রচুর পরিমাণ জরিমানা দিয়ে নিজেদের প্রাণ রক্ষা করে। হযরত আবূ উবায়দা (রা) হল্বের সন্নিকটে অবস্থান নেন এবং অগ্রবর্তী বাহিনীর সেনাপতি হযরত আয়ায ইব্ন গানাম (রা)-কে হল্ব ঘেরাও করার নির্দেশ দেন। হলববাসীরা অন্যান্য বিজিত শহরের অধিবাসীদের ন্যায় কয়েকটি শর্তাধীনে তাদের শহরটিও মুসলমানগণের হাতে সমর্পণ করে। হযরত আয়ায ইব্ন গানাম (রা) কর্তৃক নির্ধারিত শর্তাদি হযরত আবূ উবায়দা (রা) অনুমোদন করেন এবং নিজের স্বাক্ষরে একটি চুক্তিপত্র লিখে দেন।
হল্ব বিজয়ের পর হযরত আবূ উবায়দা (রা) ইনতাকিয়ার দিকে অগ্রসর হন। ইনতাকিয়া ছিল হিরাক্লিয়াসের এশীয় রাজধানী। সেখানে রাজকীয় প্রাসাদসমূহ নির্মিত হয়েছিল। একটি রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য যেসব ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তার সব কিছুই সেখানে বিদ্যমান ছিল। এ কারণেই বিভিন্ন স্থান থেকে পলায়নপর খ্রিস্টানরা ইনতাকিয়ায় এসে আশ্রয় নিয়েছিল। হলবেরও অনেক খ্রিস্টান ইনতাকিয়ায় চলে এসেছিল। মুসলমানগণ ইনতাকিয়ার নিকটবর্তী হলে খ্রিস্টানরা শহর থেকে বেরিয়ে এসে মুসলমানগণের মুকাবিলা করে, কিন্তু পরাজিত হয়ে পুনরায় শহরে ঢুকে পড়ে। ইসলামী বাহিনী ইনতাকিয়া ঘেরাও করে এবং কিছুদিন পর শহরবাসীরা বাধ্য হয়ে জিযিয়া প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে মুসলমানগণের সাথে সন্ধি করে। কোন কোন খ্রিস্টান স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। মুসলমানগণ এ ব্যাপারে কোনরূপ বাধার সৃষ্টি করে নি। তারপর সংবাদ আসে যে, খ্রিস্টানরা হলবের নিকটবর্তী ‘মুআর্রা মাসরীন’ নামক স্থানে মুসলমানগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে। হযরত আবূ উবায়দা (রা) সেদিকে রওয়ানা হন। সেখানে খ্রিস্টানদের সাথে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং তাতে অনেক খ্রিস্টান ও রোমান নেতা নিহত হন। শেষ পর্যন্ত মুআররা মাসরীনের অধিবাসীরাও হলববাসীদের ন্যায় মুসলমানগণের সাথে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হয়। এ সন্ধির ব্যাপারটি চূড়ান্ত হওয়ার পূর্বেই ইনতাকিয়া-বাসীদের বিদ্রোহ ও অঙ্গীকার ভঙ্গের খবর আসে। অবশ্য আয়ায ইব্ন গানাম ও হাবীব ইব্ন মাসলামা (রা) সেখানে বিদ্যমান ছিলেন। তারা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেন এবং খ্রিস্টানদেরকে পরাজিত করে পুনরায় শহরটি নিজেদের দখলে নিয়ে আসেন। এ বিদ্রোহ ও অঙ্গীকার ভঙ্গের পর ইনতাকিয়াবাসীরা পুনরায় ইতিপূর্বেকার শর্তানুযায়ী মুসলমানগণের সাথে সন্ধি স্থাপনের আবেদন জানায় এবং আবূ উবায়দা (রা) তাদের ঐ আবেদন মঞ্জুর করেন।
বারবার খ্রিস্টানদের এ বিদ্রোহ ও অঙ্গীকার ভঙ্গের ব্যাপারটি লক্ষ্য করে হযরত আবূ উবায়দা (রা) হযরত ফারূকে আযম (রা)-এর কাছে এ মর্মে একটি পত্র লিখেন : বার বার খ্রিস্টানদের ঐ অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে কোন কোন সময় মুসলিম বাহিনীকে ভীষণ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। কাজেই ওদের সাথে বিশেষ ধরনের কি আচরণ করতে হবে সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিন। হযরত ফারূকে আযম (রা) জবাবে লিখেছেন : খ্রিস্টানদের যেসব বড় বড় শহর ও জনবসতি তোমরা ইতিমধ্যে জয় করেছ সেগুলোর প্রত্যেকটিতে স্থায়িভাবে এক একটি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন কর। বায়তুল মাল থেকে ওদের বেতন ভাতার ব্যবস্থা করব। যা হোক, ইনতাকিয়া জয়ের পর আশেপাশের প্রত্যেকটি জনবসতিই স্বেচ্ছায় মুসলমানদের হস্তগত হয়।
হল্ব বিজয়ের পর হযরত আবূ উবায়দা (রা) ইনতাকিয়ার দিকে অগ্রসর হন। ইনতাকিয়া ছিল হিরাক্লিয়াসের এশীয় রাজধানী। সেখানে রাজকীয় প্রাসাদসমূহ নির্মিত হয়েছিল। একটি রাজধানীর নিরাপত্তার জন্য যেসব ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, তার সব কিছুই সেখানে বিদ্যমান ছিল। এ কারণেই বিভিন্ন স্থান থেকে পলায়নপর খ্রিস্টানরা ইনতাকিয়ায় এসে আশ্রয় নিয়েছিল। হলবেরও অনেক খ্রিস্টান ইনতাকিয়ায় চলে এসেছিল। মুসলমানগণ ইনতাকিয়ার নিকটবর্তী হলে খ্রিস্টানরা শহর থেকে বেরিয়ে এসে মুসলমানগণের মুকাবিলা করে, কিন্তু পরাজিত হয়ে পুনরায় শহরে ঢুকে পড়ে। ইসলামী বাহিনী ইনতাকিয়া ঘেরাও করে এবং কিছুদিন পর শহরবাসীরা বাধ্য হয়ে জিযিয়া প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে মুসলমানগণের সাথে সন্ধি করে। কোন কোন খ্রিস্টান স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। মুসলমানগণ এ ব্যাপারে কোনরূপ বাধার সৃষ্টি করে নি। তারপর সংবাদ আসে যে, খ্রিস্টানরা হলবের নিকটবর্তী ‘মুআর্রা মাসরীন’ নামক স্থানে মুসলমানগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতি নিচ্ছে। হযরত আবূ উবায়দা (রা) সেদিকে রওয়ানা হন। সেখানে খ্রিস্টানদের সাথে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং তাতে অনেক খ্রিস্টান ও রোমান নেতা নিহত হন। শেষ পর্যন্ত মুআররা মাসরীনের অধিবাসীরাও হলববাসীদের ন্যায় মুসলমানগণের সাথে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হয়। এ সন্ধির ব্যাপারটি চূড়ান্ত হওয়ার পূর্বেই ইনতাকিয়া-বাসীদের বিদ্রোহ ও অঙ্গীকার ভঙ্গের খবর আসে। অবশ্য আয়ায ইব্ন গানাম ও হাবীব ইব্ন মাসলামা (রা) সেখানে বিদ্যমান ছিলেন। তারা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেন এবং খ্রিস্টানদেরকে পরাজিত করে পুনরায় শহরটি নিজেদের দখলে নিয়ে আসেন। এ বিদ্রোহ ও অঙ্গীকার ভঙ্গের পর ইনতাকিয়াবাসীরা পুনরায় ইতিপূর্বেকার শর্তানুযায়ী মুসলমানগণের সাথে সন্ধি স্থাপনের আবেদন জানায় এবং আবূ উবায়দা (রা) তাদের ঐ আবেদন মঞ্জুর করেন।
বারবার খ্রিস্টানদের এ বিদ্রোহ ও অঙ্গীকার ভঙ্গের ব্যাপারটি লক্ষ্য করে হযরত আবূ উবায়দা (রা) হযরত ফারূকে আযম (রা)-এর কাছে এ মর্মে একটি পত্র লিখেন : বার বার খ্রিস্টানদের ঐ অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে কোন কোন সময় মুসলিম বাহিনীকে ভীষণ অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। কাজেই ওদের সাথে বিশেষ ধরনের কি আচরণ করতে হবে সে সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিন। হযরত ফারূকে আযম (রা) জবাবে লিখেছেন : খ্রিস্টানদের যেসব বড় বড় শহর ও জনবসতি তোমরা ইতিমধ্যে জয় করেছ সেগুলোর প্রত্যেকটিতে স্থায়িভাবে এক একটি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন কর। বায়তুল মাল থেকে ওদের বেতন ভাতার ব্যবস্থা করব। যা হোক, ইনতাকিয়া জয়ের পর আশেপাশের প্রত্যেকটি জনবসতিই স্বেচ্ছায় মুসলমানদের হস্তগত হয়।