hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫১

মর্মান্তিক ঘটনা

কয়েক দিন পর চতুর্থ হিজরীর এই সফর মাসেই আবূ বারা‘ আমির ইব্‌ন মালিক ইব্‌ন জা‘ফর ইব্‌ন কিলাব ইব্‌ন রবীআ ইব্‌ন আমির ইব্‌ন সা‘সাআ নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সল্লামের কাছে এসে উপস্থিত হলো। তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। সে ইসলাম গ্রহণও করলো না আর ইসলামকে ঘৃণার দৃষ্টিতেও দেখলো না। বরং বললো, আমি আমার গোত্রের কথা ভাবছি। আপনি কয়েকজন লোক আমার সাথে প্রেরণ করুন। তারা নজদে গিয়ে আমার গোত্রকে ইসলামের দাওয়াত দেবেন ও শিক্ষা প্রদান করবেন। তিনি বললেন, আমি নজ্‌দবাসীদের তরফ থেকে মুসলমানদের ক্ষতির আশংকা করছি। আবূ বারা‘ বললেন, আপনি এ বিষয়ে মোটেই আশংকা করবেন না। আমি এঁদের আমার পৃষ্ঠপোষকতা দান করবো। নবী (সাঃ) মুনযির ইব্‌ন আমর সামিদীকে সত্তরজন সাহাবীসহ প্রেরণ করেন। এঁরা সবাই ছিলেন কারী ও কুরআন করীমের হাফিয।

এঁরা যখন বনূ আমির ও বনূ সুলায়মের মধ্যবর্তী বীরই মাঊনায় পৌঁছেন, তখন হযরত নবী (সাঃ)-এর চিঠি হারাম ইব্‌ন মিলহান (রা)-এর মাধ্যমে আমির ইব্‌ন তুফায়লের নিকট পৌঁছলো। এই আমির ইব্‌ন তুফায়ল ছিল উপরোক্ত আবূ বারা‘ আমির ইব্‌ন মালিকের ভ্রাতুষ্পুত্র। সে এই চিঠিটা পাঠ পর্যন্ত করল না বরং হযরত হারাম ইব্‌ন মিলহানকে শহীদ করে দিলো। তারপর তার স্বগোত্র বনু আমিরকে ঐসব মুসলমানকে হত্যা করতে উদ্বুদ্ধ করলো। কিন্তু বনু আমির তাতে রাযী হলো না। তখন সে বনূ সালীমকে তাদের হত্যা করতে বললো। বনূ সুলায়ম নেতা গাল্ল, যাকওয়ান ও উমাইয়া প্ররোচিত হলো এবং বিনা দোষে এই দুর্বৃত্তরা সবাইকে শহীদ করে দিলো। আবূ বারা‘ আমির ইব্‌ন মালিক এই দুর্ঘটনায় খুব মর্মাহত হলেন। কারণ, তার আমান (নিরাপত্তা) দানের মধ্যে তার ভ্রাতুষ্পুত্র ব্যাঘাত সৃষ্টি করলো। এই মনোকষ্টে তিনি কয়েক দিন পর মারা গেলেন। আমির ইব্‌ন তুফায়ল হযরত আমর ইব্‌ন উমাইয়া হামারীকে বন্দী করে নিয়ে গিয়েছিল। তারপর তাঁর দাড়ি মুণ্ডিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছিল। কেননা, তার মা একটি গোলাম আযাদ করার মানত করেছিল। আমির ইব্‌ন তুফায়েল এই মানত পুরা করার জন্য তাঁকে ছেড়ে দিলো। তিনি যখন মুক্তি পেয়ে বীর-ই মাউনা হয়ে মদীনা আগমন করছিলেন, তখন পথিমধ্যে বনূ আমিরের দু’জন লোকের সাথে সাক্ষাৎ হলো। আমর ইব্‌ন উমাইয়া হামারী (রা) তাদেরকে দুশমন মনে করে এবং সুযোগ পেয়ে প্রতিশোধ স্বরূপ হত্যা করলেন। মদীনা উপস্থিত হয়ে নবী করীম (সাঃ)-কে সমস্ত বৃত্তান্ত খুলে বললেন। তিনি একমাস পর্যন্ত ঐ নরঘাতকদের বিরুদ্ধে বদ দু‘আ করলেন। আমির ইব্‌ন তুফায়ল এক মাস পর প্লেগে মারা গেলো।