hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৫

হিলফুল ফুযূল

প্রাচীনকালে আরবের কতিপয় মহৎ ব্যক্তি মিলে এ মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন :

আমরা সর্বদা মজলুমদের সাহায্য করবো এবং জালিমদেরকে প্রতিরোধ করবো।

ঘটনাচক্রে যারা এ প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হয়েছিলেন এদের প্রত্যেকের নামই ছিল ফযল শব্দযুক্ত। এজন্যে তাদের এ প্রতিজ্ঞা বা চুক্তি ‘হিলফুল ফুযূল’ নামে খ্যাতিলাভ করে। এ সংগঠনটির অস্তিত্ব লোপ পেয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু আলোচনা তখনও লোকমুখে প্রচলিত ছিলো। ফিজারের যুদ্ধের পর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর চাচা যুবায়র ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিবের মনে এ চুক্তি তথা সংগঠনটিকে পুনর্জীবিত করার প্রেরণা দেখা দেয়। কতিপয় মহৎ ব্যক্তি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন জাদআনের বাড়ীতে একত্রিত হয়ে এ মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন :

“আমরা সর্বদা জালিমদেরকে প্রতিরোধ করবো এবং মজলুমদেরকে সাহায্য করবো।”

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বয়স তখন অল্প হলেও তিনিও এ চুক্তিতে শামিল ছিলেন। তারপর তিনি যখন যৌবনে পদার্পণ করলেন তখন তিনি অধিকাংশ কবীলার সরদার এবং বিজ্ঞ লোকদেরকে দেশের প্রচলিত অরাজকতা, পথচারীদের লুণ্ঠিত হওয়া, দরিদ্রদের প্রতি ধনী ও আমীর ব্যক্তিদের অত্যাচার-অনাচারের কথা বলে তাদেরকে এ অবস্থায় নিরসনের জন্যে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। অবশেষে বনূ হাশিম, বনূ আবদুল মুত্তালিব, বনূ যুহরা ও বনূ তামীমের লোকদের সমন্বয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিটি সদস্যকে অঙ্গীকার করতে হয় :

(ক) আমরা দেশের অরাজকতা ও অশান্তি দূর করবো।

(খ) আমরা পথিকদের জানমালের হিফাযত করবো।

(গ) আমরা নিঃস্ব দরিদ্রদেরকে সাহায্য করবো।

(ঘ) সবলদেরকে দুর্বলদের প্রতি অত্যাচার অবিচার করা থেকে বিরত রাখবো।

এ সংগঠনের দ্বারা জনগণের প্রভূত উপকার সাধিত হয়। নবুওয়াত লাভের পরও হুযূর (সাঃ) বলতেন : যদি আজো কেউ আমাকে সেই অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাহায্যার্থে আহবান করে তবে আমি তার ডাকে সাড়া দেবো।