১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২২০
স্বভাব-চরিত্র
নবী করীম (সাঃ)-এর জীবনবৃত্তান্ত পাঠ করলে জানা যায়, তিনি মাতৃগর্ভেই ইয়াতীম হয়েছিলেন। তাঁর জীবন ইয়াতীম ও অসহায় অবস্থায় শুরু হয়। কিন্তু মৃত্যুকালে তিনি তামাম আরব জাহানের শাহানশাহ ছিলেন। আরবের এমন কোন প্রদেশ ছিল না, যেখানে তার জাগতিক শাসন ও রাজত্ব কায়েম হয়নি। এই সমুদয় অবস্থা ও সমগ্র জীবন-পরতে তাঁর সরল জীবনযাত্রা একইরূপ দৃষ্ট হয়। সহীহ বুখারীতে উল্লেখ আছে, হযরত আয়িশা (রা) বলেন, নবী করীম (সাঃ) কখনো নিজেকে জাগতিক কর্মকাণ্ডে অন্যের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেননি বরং তোমরা যেভাবে তোমাদের আবাসগৃহে নিজ নিজ কাজ করে থাক, তেমনি তিনিও করতেন। তিনি নিজেই নিজের বকরীগুলোর দুধ দোহন করতেন এবং নিজেই নিজের পাদুকা সেলাই করতেন। মদীনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববী নির্মিত হচ্ছিল। তিনি সব কাজেই অংশ গ্রহণ করেছিলেন। এমনকি সাধারণ মযদুরের ন্যায় তিনিও ইট তুলে তুলে বয়ে আনতেন। আহযাবের যুদ্ধে তিনিও খন্দক খননকারীদের মধ্যে শামিল ছিলেন। নিজ হাতে মাটি তুলতেন এবং পাথর ভাঙ্গতেন। তিনি সাধারণত যবের রুটি খেতেন। তাঁর ঘরে চালুনি ছিল না। ফুঁক দিয়ে ভূষি উড়িয়ে দেয়া হতো। কখনো একাধারে দু’দিন এই যবের রুটিও পেটভরে খেতে পেতেন না।
কোন কোন সময় মাসকে মাস পর্যন্ত তাঁর উনুনে আগুন জ্বলতো না। নিছক খেজুর ও পানি দ্বারা তিনি ও তাঁর পরিবার-পরিজন জীবন নির্বাহ করতেন। তিনি কখনো কোন খাদ্যকে খারাপ বলেননি। তার মধ্যে কোন দোষ-ত্রুটিও আবিষ্কার করেননি। যা কিছু পাওয়া যেতো তাই আহার করতেন। ক্ষুধা না থাকলে কিংবা খেতে ইচ্ছা না থাকলে হাত তুলে নিতেন।
হযরত আয়িশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার গৃহে নবী করীম (সাঃ)-এর বিছানা কিসের তৈরী ছিল। তিনি বললেন, চামড়ার। তার মধ্যে খেজুরের বাকল ভরা ছিল। একই প্রশ্ন হযরত হাফসা (রা)-কেও জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, এক টুকরো চট ছিল। আমরা সেটিকে দুই ভাঁজ করে দিতাম। একদিন রাতে আমি সেটিকে চার ভাঁজ করে দিতে চাইলাম, যাতে নবী করীম (সাঃ) একটু বেশী আরামবোধ করেন। সুতরাং তাই করা হলো। ভোরবেলা তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, রাতে তুমি আমার জন্য কি বিছিয়েছিলে? আমি বললাম, আপনার সেই চটটিই বিছিয়ে ছিলাম। তবে সেটিকে চার ভাঁজ করেছিলাম যাতে আপনি একটু বেশী আরামবোধ করেন। তিনি বললেন, না! তুমি সেটিকে সেইরূপ করে দাও যেমন পূর্বে ছিল। ঐটি রাতে আমাকে তাহাজ্জুদ সালাত থেকে বিরত রেখেছে। ওফাতের পূর্বে তিনি বলেছিলেন, আমার ওয়ারিশরা আমার ত্যাজ্য সম্পত্তির মধ্যে অর্থকড়ি প্রভৃতি নগদ কিছু পাবে না। জনৈক ইয়াহূদীর নিকট ত্রিশ দিরহামের বিনিময়ে নবী করীম (সাঃ)-এর একটি লৌহবর্ম বন্ধক রাখা হয়েছিল। সেটি ছাড়িয়ে আনার মতো তাঁর নিকট অর্থ ছিল না। তিনি ত্যাজ্য সম্পত্তির মধ্যে তার হাতিয়ার, একটি খচ্চর ও একটি বর্ম রেখে যান। এসব জিনিসও দান-খয়রাত করার নির্দেশ ছিল। যারা বলছেন যে, নবী করীম (সাঃ) (নাউযুবিল্লাহ) ব্যক্তিগত স্বার্থ, উচ্চাভিলাষ, ধন-দৌলত লাভ ও দেশজয়ের জন্য তাঁর কওমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিলেন, তারা কি অন্ধ নয়? হযরত আনাস (রা) বলেন, আমি আট বছর বয়সে নবী করীম (সাঃ)-এর নিকটে আসি এবং একাধারে দশ বছর তাঁর নিকট থাকি। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কখন একবারও তিনি আমার কোন কাজে বিরক্তি প্রকাশ করেননি এবং একথা বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করেছ আর ঐ কাজটি কেন করনি। তাঁর পবিত্র মুখ থেকে কখনো কোন অশ্লীল ও অনর্থক বাক্য বের হয়নি।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, একবার লোকেরা নবী করীম (সাঃ)-কে বললো, মুশরিকদের জন্য বদ্দু‘আ করুন। তিনি বললেন, আমি অভিশাপ দেয়ার জন্য আসিনি, বরং আল্লাহ তা‘আলা আমাকে রহমত বানিয়ে পাঠিয়েছেন। হযরত আয়িশা সিদ্দীকা (রা) বলেন, নবী করীম (সাঃ)-এর স্বভাবে কোন বেহুদাপনা ও অনর্থকতা ছিল না। তিনি শিশুদেরকে তার কোলে বসাতেন এবং তাদের সাথে খেলা করতেন। রোগীদের শুশ্রুষা ও পরিচর্যার জন্য তিনি শহরের প্রত্যন্ত পল্লীতে চলে যেতেন। কারো সাথে সাক্ষাৎ হলে প্রথমে তিনিই সালাম করতেন। কেউ তার সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করলে তার হাত গুটিয়ে নিয়েছেন এমনটি কখনো ঘটেনি। শ্রদ্ধাবশত তিনি তাঁর সঙ্গীদের নাম ধরে ডাকতেন না বরং কোন কুনিয়াত ধরে ডাকতেন এবং স্নেহমিশ্রিত পছন্দনীয় নামে তাদের স্মরণ করতেন। তিনি কারো কথা শেষ হওয়ার পূর্বে নিজের কথা শেষ করতেন না। অবশ্য কেউ যদি অশোভন কথা বলতো, তবে তিনি তাকে বাধা দিতেন কিংবা উঠে দাঁড়াতেন যাতে সে নিজেই বিরত হয়।
কোন কোন সময় মাসকে মাস পর্যন্ত তাঁর উনুনে আগুন জ্বলতো না। নিছক খেজুর ও পানি দ্বারা তিনি ও তাঁর পরিবার-পরিজন জীবন নির্বাহ করতেন। তিনি কখনো কোন খাদ্যকে খারাপ বলেননি। তার মধ্যে কোন দোষ-ত্রুটিও আবিষ্কার করেননি। যা কিছু পাওয়া যেতো তাই আহার করতেন। ক্ষুধা না থাকলে কিংবা খেতে ইচ্ছা না থাকলে হাত তুলে নিতেন।
হযরত আয়িশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার গৃহে নবী করীম (সাঃ)-এর বিছানা কিসের তৈরী ছিল। তিনি বললেন, চামড়ার। তার মধ্যে খেজুরের বাকল ভরা ছিল। একই প্রশ্ন হযরত হাফসা (রা)-কেও জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, এক টুকরো চট ছিল। আমরা সেটিকে দুই ভাঁজ করে দিতাম। একদিন রাতে আমি সেটিকে চার ভাঁজ করে দিতে চাইলাম, যাতে নবী করীম (সাঃ) একটু বেশী আরামবোধ করেন। সুতরাং তাই করা হলো। ভোরবেলা তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, রাতে তুমি আমার জন্য কি বিছিয়েছিলে? আমি বললাম, আপনার সেই চটটিই বিছিয়ে ছিলাম। তবে সেটিকে চার ভাঁজ করেছিলাম যাতে আপনি একটু বেশী আরামবোধ করেন। তিনি বললেন, না! তুমি সেটিকে সেইরূপ করে দাও যেমন পূর্বে ছিল। ঐটি রাতে আমাকে তাহাজ্জুদ সালাত থেকে বিরত রেখেছে। ওফাতের পূর্বে তিনি বলেছিলেন, আমার ওয়ারিশরা আমার ত্যাজ্য সম্পত্তির মধ্যে অর্থকড়ি প্রভৃতি নগদ কিছু পাবে না। জনৈক ইয়াহূদীর নিকট ত্রিশ দিরহামের বিনিময়ে নবী করীম (সাঃ)-এর একটি লৌহবর্ম বন্ধক রাখা হয়েছিল। সেটি ছাড়িয়ে আনার মতো তাঁর নিকট অর্থ ছিল না। তিনি ত্যাজ্য সম্পত্তির মধ্যে তার হাতিয়ার, একটি খচ্চর ও একটি বর্ম রেখে যান। এসব জিনিসও দান-খয়রাত করার নির্দেশ ছিল। যারা বলছেন যে, নবী করীম (সাঃ) (নাউযুবিল্লাহ) ব্যক্তিগত স্বার্থ, উচ্চাভিলাষ, ধন-দৌলত লাভ ও দেশজয়ের জন্য তাঁর কওমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিলেন, তারা কি অন্ধ নয়? হযরত আনাস (রা) বলেন, আমি আট বছর বয়সে নবী করীম (সাঃ)-এর নিকটে আসি এবং একাধারে দশ বছর তাঁর নিকট থাকি। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কখন একবারও তিনি আমার কোন কাজে বিরক্তি প্রকাশ করেননি এবং একথা বলেননি যে, তুমি এ কাজটি কেন করেছ আর ঐ কাজটি কেন করনি। তাঁর পবিত্র মুখ থেকে কখনো কোন অশ্লীল ও অনর্থক বাক্য বের হয়নি।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, একবার লোকেরা নবী করীম (সাঃ)-কে বললো, মুশরিকদের জন্য বদ্দু‘আ করুন। তিনি বললেন, আমি অভিশাপ দেয়ার জন্য আসিনি, বরং আল্লাহ তা‘আলা আমাকে রহমত বানিয়ে পাঠিয়েছেন। হযরত আয়িশা সিদ্দীকা (রা) বলেন, নবী করীম (সাঃ)-এর স্বভাবে কোন বেহুদাপনা ও অনর্থকতা ছিল না। তিনি শিশুদেরকে তার কোলে বসাতেন এবং তাদের সাথে খেলা করতেন। রোগীদের শুশ্রুষা ও পরিচর্যার জন্য তিনি শহরের প্রত্যন্ত পল্লীতে চলে যেতেন। কারো সাথে সাক্ষাৎ হলে প্রথমে তিনিই সালাম করতেন। কেউ তার সাথে মুসাফাহা (করমর্দন) করলে তার হাত গুটিয়ে নিয়েছেন এমনটি কখনো ঘটেনি। শ্রদ্ধাবশত তিনি তাঁর সঙ্গীদের নাম ধরে ডাকতেন না বরং কোন কুনিয়াত ধরে ডাকতেন এবং স্নেহমিশ্রিত পছন্দনীয় নামে তাদের স্মরণ করতেন। তিনি কারো কথা শেষ হওয়ার পূর্বে নিজের কথা শেষ করতেন না। অবশ্য কেউ যদি অশোভন কথা বলতো, তবে তিনি তাকে বাধা দিতেন কিংবা উঠে দাঁড়াতেন যাতে সে নিজেই বিরত হয়।