১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৮
আদনানী গোত্রসমূহ
আদনানী গোত্রসমূহের মধ্যে আয়াদ, রবীআ ও মুদার গোত্রসমূহ সমধিক বিখ্যাত। এদের মধ্যেও শেষোক্ত দু’টি গোত্রের খ্যাতি বেশী। মানে মর্যাদায় এরা ছিল পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী। মুদারী গোত্রসমূহের অন্যতম গোত্র বনূ কিনানা গোত্রের ফিহ্র ইব্ন মালিকের অপর নাম ছিল কুরায়শ। উক্ত কুরায়শের বংশধরগণের মধ্যে অনেক কবীলার উদ্ভব হয়। এদের মধ্যে বনী সাহম, বনী মাখযুম, বনী হুমাহ্, বনী তায়েফ, বনী আদী, বনী আবদেদার, বনী যুহরা, বনী আবদে মানাফ সমধিক বিখ্যাত। আবদে মানাফের ছিল চার পুত্র, আবদে শামস্, নাওফিল, মুত্তালিব এবং হাশিম। হাশিমের বংশধরদের মধ্যে আমাদের নবী করীম হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আবদুল্লাহ ইব্ন আবদুল মুত্তালিব ইব্ন হাশিমের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বের যাবৎ মুসলমান তারই উম্মত এবং তিনি আখেরী যামানার নবী। এ গ্রন্থে তাঁরই উম্মতের বিবরণ দেয়ার প্রয়াস পেয়েছি। আবদে শামসের পুত্রের নাম ছিল উমাইয়া। বনী উমাইয়ারা তারই বংশধর। আদনানী গোত্রের লোকজন যখন বনী খোযায়ার হাতে পরাস্ত হয়ে মক্কা ছেড়ে যেতে বাধ্য হলো, তখন তারা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লো। বনী বকর বাহ্রায়নে, বনী হানীফা ইয়ামামায়, বনী তাগলিব ফোরাত নদীর অববাহিকায়, বনী তামীম আলজাযীরায়, বনী সুলায়ম মদীনার আশেপাশে, বনী ছাকীফ তায়িফে, বনী উর কূফার পশ্চিম পাশে এবং বনী কিনানা তিহামায় গিয়ে বসতি স্থাপন করে। বনী আদনানের কবীলাসমূহের মধ্যে কেবল কুরায়শ গোত্রসমূহই মক্কা ও তার আশেপাশে রয়ে যায়, কিন্তু তাদের মধ্যেও তেমন ঐক্য-সম্প্রীতি ছিল না। এরা ছিল শতধা বিচ্ছিন্ন। কুসাঈ ইব্ন কিলাব এদেরকে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করে (খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে) এমনি শক্তিশালী করে তোলেন যে, তারা কেবল মক্কায়ই নয়, গোটা হিজাযের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। খানা কা‘বার ব্যবস্থাপনা আবার বনী আদনানের করতলগত হয়। কুসাঈ খানা কা‘বা মেরামত করে এবং নিজের জন্য একটি মহল নির্মাণ করেন। ঐ মহলের একটি বিশালায়তন কক্ষ সামাজিক পরামর্শ কেন্দ্ররূপে ব্যবহৃত হতো। এ কক্ষটির নাম রাখা হয়েছিল দারুন নাদওয়া। দারুন নাদ্ওয়ায় বসেই কুসাঈ রাজকার্য পরিচালনা করতেন এবং কুরায়শ-সর্দাররা এখানেই পরামর্শের জন্যে জমায়েত হতেন।
কুসাঈ হজ্জের সময় মক্কার তীর্থযাত্রী হাজীদেরকে তিন দিন পর্যন্ত পানাহারে আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং এর ব্যয় সঙ্কুলানের জন্য কুরায়শদের নিকট থেকে চাঁদা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন। মোদ্দাকথা, কুসাঈ মক্কা তথা গোটা হিজাযের দীনী ও দুনিয়াবী কর্তৃত্বের অধিকারী হয়ে বসেন। ৪৮০ খ্রিস্টাব্দে কুসাঈ পরলোকগমন করেন এবং তাঁর পুত্র আবদুদদার তার স্থলাভিষিক্তরূপে মক্কার শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। আবদুদ্দারের মৃত্যুর পর তার পৌত্রদের এবং তার ভাই আবদে মানাফের পুত্রদের মধ্যে মক্কার শাসনক্ষমতা নিয়ে গোলযোগের সূত্রপাত হয়। কিন্তু প্রভাবশালী লোকেরা মধ্যস্থতা করে এভাবে এর ফায়সালা করে দেন যে, আবদে মানাফের পুত্র আবদে শামস পানি বিতরণ, চাঁদা ও কর উশুল এবং হাজীদের আপ্যায়নের দায়িত্ব পালন করবেন আর আবদে দারের পৌত্রগণ সামরিক ব্যবস্থাপনা, কা‘বা ঘরের হিফাযত এবং দারুন নাদওয়ার দেখাশোনা করবেন। কিছুদিন পর আবদে মানাফের পুত্র আবদে শামস তার অনুজ হাশিমকে তার রাজত্ব ও সমস্ত অধিকার ফিরিয়ে দেন। হাশিম তার ব্যবসা-বাণিজ্য, ধন-সম্পদ ও বদান্যতার জন্যে মক্কাবাসীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি কুরায়শদেরকে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য অনুপ্রাণিত করে এবং তার সুযোগ করে দিয়ে তাদের প্রভূত উপকার সাধন করেন।
কুসাঈ হজ্জের সময় মক্কার তীর্থযাত্রী হাজীদেরকে তিন দিন পর্যন্ত পানাহারে আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন এবং এর ব্যয় সঙ্কুলানের জন্য কুরায়শদের নিকট থেকে চাঁদা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন। মোদ্দাকথা, কুসাঈ মক্কা তথা গোটা হিজাযের দীনী ও দুনিয়াবী কর্তৃত্বের অধিকারী হয়ে বসেন। ৪৮০ খ্রিস্টাব্দে কুসাঈ পরলোকগমন করেন এবং তাঁর পুত্র আবদুদদার তার স্থলাভিষিক্তরূপে মক্কার শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। আবদুদ্দারের মৃত্যুর পর তার পৌত্রদের এবং তার ভাই আবদে মানাফের পুত্রদের মধ্যে মক্কার শাসনক্ষমতা নিয়ে গোলযোগের সূত্রপাত হয়। কিন্তু প্রভাবশালী লোকেরা মধ্যস্থতা করে এভাবে এর ফায়সালা করে দেন যে, আবদে মানাফের পুত্র আবদে শামস পানি বিতরণ, চাঁদা ও কর উশুল এবং হাজীদের আপ্যায়নের দায়িত্ব পালন করবেন আর আবদে দারের পৌত্রগণ সামরিক ব্যবস্থাপনা, কা‘বা ঘরের হিফাযত এবং দারুন নাদওয়ার দেখাশোনা করবেন। কিছুদিন পর আবদে মানাফের পুত্র আবদে শামস তার অনুজ হাশিমকে তার রাজত্ব ও সমস্ত অধিকার ফিরিয়ে দেন। হাশিম তার ব্যবসা-বাণিজ্য, ধন-সম্পদ ও বদান্যতার জন্যে মক্কাবাসীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি কুরায়শদেরকে ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য অনুপ্রাণিত করে এবং তার সুযোগ করে দিয়ে তাদের প্রভূত উপকার সাধন করেন।