hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫২

যুদ্ধপ্রীতি

অতি তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে কথায় কথায় তাদের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ শুরু হতো। আর একবার যুদ্ধের সূত্রপাত হলে তখন কয়েক পুরুষ এবং কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত তা অব্যাহত গতিতে চলতো। তাদের যুদ্ধসমূহের মধ্যে এমন কোন যুদ্ধের সন্ধান পাওয়া যায় না, যা কোন সঙ্গত কারণে বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছিল। জাহিলিয়াত যুগের আরবদের যুদ্ধ-বিগ্রহের মধ্যে শ’ সোয়াশ’ যুদ্ধ অত্যন্ত বিখ্যাত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বুআসের যুদ্ধ, কিলাবের যুদ্ধ, ফাতরাতের যুদ্ধ, নাখলার যুদ্ধ, কার্নের যুদ্ধ, সুবানের যুদ্ধ, হাতিবের যুদ্ধ প্রভৃতি। এ সব যুদ্ধে কোন পক্ষেরই কোন লাভ হয়নি, বরং উভয় পক্ষই জানে-মালে উৎসন্ন হয়েছে।

আরব জাহিলিয়াতের এটাও একটা রেওয়াজ ছিল যে, যখন তারা প্রতিপক্ষের উপর জয়ী হতো এবং তাদের স্ত্রীপুত্র-পরিজনকে বন্দী করতো তখন তারা নির্দ্বিধায় ঐসব অসহায় বন্দীকে হত্যা করতো। কিন্তু বন্দীদের কেউ যদি তাদের আহার্য থেকে কিছু খেয়ে নিত, তাহলে সে রক্ষা পেতো, তাকে আর হত্যা করা হতো না। তারা যাকে মুক্তি দিতে চাইতো প্রথমে তার মাথার চুল মুণ্ডন করে দিত। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বযুদ্ধের বহুল প্রচলন ছিল। সারিবদ্ধভাবে লড়াইয়ের রেওয়াজ তাদের মধ্যে ছিল না। যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র ও ঘোড়ার দেখাশোনায় তারা খুবই মনোযোগী ছিল। অসি চালনা, তীরন্দাজী ও বল্লম নিক্ষেপে কৃতিত্বের অধিকারীদের সমাজে খুবই সম্মান ছিল। এ ধরনের লোকদের ডাকনাম দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তো। যুদ্ধ কৌশল ও যুদ্ধাস্ত্র পরিচালনার জন্যে কোন কোন গোত্রের খুবই খ্যাতি ছিল। বিশেষ বিশেষ তলোয়ার, বল্লম, ধনুক, ঘোড়া প্রভৃতির বিশেষ বিশেষ নাম রাখা হতো এবং ঐ নামে এগুলো গোটা দেশে পরিচিত ছিল। উদাহরণস্বরূপ হারছ ইব্‌ন আবূ শামর গাস্‌সানীর তলোয়ারের নাম ছিল খাযুম। আবদুল মুত্তালিব ইব্‌ন হাশিমের তলোয়ারের নাম আতশান এবং মালিক ইব্‌ন যুবায়েরের তলোয়ারের নাম ছিল যুন-নূন।

এসব দেখে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আরবরা যুদ্ধ-বিগ্রহে অত্যন্ত উৎসাহী ছিল। এজন্যে ঘোড়া ও তরবারির আরবী প্রতিশব্দ হাজারটি পর্যন্ত বলা হয়ে থাকে।