hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩৭

যুদ্ধবন্দী সংক্রান্ত নীতি

যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য হযরত নবী করীম (সাঃ) মসজিদে নববীতে সাহাবায়ে কিরামের সঙ্গে পরামর্শে বসলেন। হযরত উমর ফারূক (রা) বললেন : আমার অভিমত হচ্ছে, বন্দীদের মধ্যে আমাদের যার যে নিকটাত্মীয় রয়েছে সে তাকে নিজ হাতে হত্যা করবে যাতে করে মুশরিকরা উত্তমরূপে উপলব্ধি করতে পারে যে, আমাদের অন্তরে আমাদের নিকটাত্মীয়দের চাইতে আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি অনুরাগ অনেকগুণ বেশী রয়েছে এবং ইসলামের মুকাবিলায় আত্মীয়তা বন্ধন আমাদের কাছে অতি তুচ্ছ ব্যাপার। হযরত আবূ বকর (রা) বললেন : আমার অভিমত হচ্ছে ফিদয়া (মুক্তিপণ) গ্রহণ করে এদেরকে ছেড়ে দেয়া হোক। এতে মুসলমানরা যেমন কিছু অর্থ লাভ করে যুদ্ধাস্ত্র প্রভৃতি কিনে নিতে পারবে, অপরদিকে যুদ্ধবন্দীদের অনেকেই হয়তো পরবর্তীকালে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক লাভ করবে। হযরত আবূ বকর (রা)-এর অভিমতকেই হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর মনঃপূত হলো। কোনো কোনো বন্দীকে বিনা মুক্তিপণেই মুক্তি দেয়া হলো। মাথা প্রতি চার হাজার দিরহাম থেকে নিম্নতম এক হাজার দিরহাম মুক্তিপণ পাঠিয়ে মক্কাবাসীরা তাদের বন্দীদেরকে ছাড়িয়ে নেয়। যে সমস্ত বন্দী লেখাপড়া জানতো আর মুক্তিপণ আদায়ের সামর্থ্য তাদের ছিল না, তাদেরকে বলা হলো দশটি করে মুসলিম শিশুকে লেখাপড়া শিক্ষা দিয়ে নিজেদেরকে মুক্ত করে নাও। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কন্যা যয়নাব (রা) তখনো মক্কায় তাঁর স্বামী আবুল ‘আসের সাথে বসবাস করতেন। আবুল ‘আসও বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হযরত যয়নাব (রা) তাঁর গলার হার খুলে আবুল ‘আসের মুক্তিপণরূপে প্রেরণ করেছিলেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সাহাবায়ে কিরামকে ডেকে বললেন : তোমরা যদি সঙ্গত মনে করো তা হলে যয়নাবের হারটি ফিরিয়ে দাও। কেননা এটা তার মা খাদীজাতুল কুবরা (রা)-এর স্মৃতিরূপে তাঁর কাছে রয়েছে। সবাই খুশীমনে সে প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এবং আবুল ‘আসকে ছেড়ে দিলেন। আবুল ‘আস মক্কায় গিয়েই হযরত যয়নাব (রা)-কে মদীনায় হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনার দীর্ঘ ছয় বছর পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।