hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

ইতিহাসের মাধ্যমে সামরিক বৈশিষ্ট্যাদি সংরক্ষণ

যে জাতি নিজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং অতীতের গৌরবজনক অধ্যায়গুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখে, তাদের জাতীয় বৈশিষ্ট্যাদিও অক্ষুন্ন থাকে। সে জাতির কোন ব্যক্তি অন্য জাতির মুকাবিলায় কোন ক্ষেত্রেই সাহসহারা বা হৃতবল হয়ে পিছপা হয় না বরং আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে জাতির হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হয় এবং তাতে তারা সাফল্য অর্জন করে। যে ব্যক্তি তার বাপ-দাদার অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত নয়, সে সুযোগ হাতে পেলেই খিয়ানতের আশ্রয় নিতে পারে। কিন্তু যার তা জানা আছে যে, অনেক সুযোগ হাতের মুঠোয় পেয়েও আমার বাপ-দাদা লাখ লাখ টাকার লোভ সম্বরণ করে পূর্ণ বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়ে সম্মান অর্জন করে গেছেন, তার পক্ষে খিয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গ করা দুষ্কর। অনুরূপভাবে বাপ-দাদার অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি সমরক্ষেত্র থেকে পালিয়ে বাঁচাকে পছন্দ করবে। কিন্তু যার একথা জানা থাকবে যে, আমার বাপ-দাদারা অমুক অমুক যুদ্ধক্ষেত্রে অটলভাবে অবস্থান করে সম্মান অর্জন করেছিলেন, সে কখনো সমরক্ষেত্র থেকে পালিয়ে প্রাণ রক্ষার চিন্তা করতে পারবে না বরং বাপ-দাদার স্মৃতি তখন তার পায়ের জিঞ্জির হয়ে দাঁড়াবে। অনুরূপভাবে বিশ্বস্ততা, সত্য ভাষণ; সচ্চরিত্রতা, লজ্জাশীলতা, দানশীলতা প্রভৃতির ব্যাপারেও পূর্বপুরুষের ইতিহাস সম্পর্কে অবগতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ অবগতি বিভিন্ন জাতির মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করে থাকে। সম্ভবত একথা চিন্তা করেই আমাদের প্রতিবেশী বিভিন্ন জাতি তাদের নিজস্ব কোন গৌরবজনক ইতিহাস না থাকলেও মনগড়া রূপকথা ও মিথ্যা কাহিনীসমূহকে ইতিহাসের রূপ দিয়ে কার্যোদ্ধারের প্রয়াস পেয়ে থাকেন। তারা একটু পরোয়া করেন না বা ভেবেও দেখেন না যে, এ মিথ্যাচারের মাধ্যমে সত্য কথনে আদালতের কাঠগড়ায় বা ঐতিহাসিকদের দরবারে তারা কত খাটো ও হাস্যাস্পদ প্রতিপন্ন হবেন।