hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭৭

আবু তালিবের ক্রোড়ে

আবু তালিব নিজের সন্তানদের চাইতেও শিশু নবীকে বেশী আদর-যত্ন করতেন এবং তাঁকে সব সময় চোখে চোখে রাখতেন। তিনি কখনো তাকে চোখের আড়াল হতে দিতেন না। এমন কি রাতের বেলায়ও তিনি তাঁকে নিজের কাছেই শোয়াতেন। তাঁর শিশুকাল আরবের অন্যান্য শিশুদের চাইতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ছিলো। ছেলেদের সাথে খেলাধুলা বা পথে পথে ঘুরে বেড়ানোর অভ্যাস তার আদৌ ছিলো না বরং তিনি তাদের সাহচর্য এড়িয়ে চলতেন এবং নির্জনতাই অধিকতর পছন্দ করতেন। আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে যাবতীয় কু-অভ্যাস থেকে হিফাযত করেন। তার শৈশব কালের একটি ঘটনা। কয়েকজন কুরায়শ কিশোর একদিন তাঁকে জোর করে ধরে নিয়ে যায় এক বিয়ের মজলিসে। সেখানে নৃত্যগীতের বেজায় ধুমধাম চলছিল। তিনি মজলিসে উপস্থিত হতেই নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন। সারা রাত এভাবে তাঁর নিদ্রায় অতিবাহিত হয়। রাত্রি শেষে যখন নৃত্যগীতের অনুষ্ঠান শেষে লোকে যার যার ঘরে চলে গেলো তখন তার ঘুম ভাঙ্গলো। এভাবে তিনি একটা ঘৃণিত মজলিসের অপকার থেকে বেঁচে গেলেন।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সাত বছর বয়ঃক্রমকালে কুরায়শরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কা‘বা ঘরের পুনর্নির্মাণ কার্যে হাত দেয়। এ সময় তিনিও অন্যদের সাথে মিলে পাথর কুড়িয়ে এনে দিচ্ছিলেন। চলতে ফিরতে ও পাথর উঠাতে এ সময় লুঙ্গি অনেকটা বাধার সৃষ্টি করছিলো। সাত বছরের একটা বালকের উলঙ্গ হওয়াটা সে সমাজে কোন দূষণীয় ব্যাপার ছিলো না, তাই তাঁর চাচা আব্বাস তাকে কিছু না বলেই এক ঝটকা টানে অতর্কিত তার পরনের লুঙ্গি খুলে ফেললেন। শিশু নবী (সাঃ) এতই লাজুক ছিলেন যে, এ অতর্কিত তুচ্ছ ঘটনায়ই তিনি মূর্ছা গেলেন। তার এ অভাবিত লজ্জাশীলতা দর্শনে উপস্থিত সকলেই হতবাক হয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হলো।