hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১১

বিভিন্ন স্থানে ও বিভিন্ন গোত্রে ইসলাম প্রচার

মক্কাবাসীদের প্রতি নিরাশ হয়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তায়িফ গমন করেছিলেন। সেখানকার লোক মক্কাবাসীদের চাইতেও জঘন্যতর আচরণ করলো। মক্কাবাসীদের ঘৃণ্য ও জিদ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে লাগলো। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সাহস হারালেন না। তায়িফ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি মক্কার আশেপাশে বসবাসরত গোত্রসমূহের কাছে যেতে এবং তাদের মধ্যে ইসলামের বাণী প্রচার করতে লাগলেন। সে অনুসারে বনূ কিন্দা ও বনূ আবদুল্লাহ গোত্রদ্বয়ের আবাসস্থলেও তিনি গমন করেন। বনূ আবদুল্লাহ্ গোত্রকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন : হে বনু আবদুল্লাহ গোত্রের লোকজন! তোমাদের আদি পুরুষ ছিলেন আবদুল্লাহ, আল্লাহর দাস। সুতরাং তোমরাও সত্যিকারের আল্লাহর দাস হয়ে যাও! বনী হানাফিয়ার আবাসভূমিতেও তিনি গমন করেন। কিন্তু সে জালিমরা গোটা আরবের মধ্যে তাঁর সাথে সবচাইতে জঘন্য ও নিষ্ঠুর পন্থায় তাকে প্রত্যাখ্যান করে।

বাইরে থেকে যেসব পথচারী মক্কায় আসতো বা হজ্জের সময় দূর-দূরান্ত থেকে যেসব কাফেলা আসতো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাদের কাছেও ইসলামের দাওয়াত পৌঁছিয়ে দিতেন।

কিন্তু আবূ লাহাব তার বিরোধিতার জন্যে এক পায়ে খাড়া থাকতো। এসে সর্বত্র তার পিছু পিছু লেগে থাকতো এবং বহিরাগতদেরকে তাঁর কথায় কর্ণপাত করতে বারণ করতো। হযরত নবী করীম (সাঃ) একে একে বনূ আমির, বনূ শায়বান, বনূ কাল্‌ব, বনূ মাহারিব, ফাযারাহ, গাস্‌সান, সুলায়ম, আবাস, হারিছ, আযারা, ফাহল, মুর্‌রা প্রভৃতি গোত্রকে ইসলামের দাওয়াত প্রদান করেন।

যখন তিনি বনূ আমিরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে গেলেন তখন তাদের মধ্যকার ফার্‌রাস নামক এক ব্যক্তি বললো : আচ্ছা, আমরা যদি মুসলমান হয়ে যাই আর আপনি দুশমনদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হন, তাহলে আপনি কি আমাকে আপনার খলীফা মনোনীত করে যাবেন? জবাবে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন : এটা তো আল্লাহ্‌র ইখতিয়ারে। তিনি যাকে ইচ্ছে আমার খলীফা বানাবেন। এ কথা শুনে ঐ ব্যক্তি বলে উঠলো : বাঃ! এখন তো আমরা আপনার অনুসারী ও সমর্থক হয়ে নিজেদের গলা কাটাবো, আর যখন আপনি কৃতকার্য হয়ে যাবেন, তখন অন্যরা শাসন ক্ষমতার মজা লুটবে! যান, আমাদের আপনার দরকার নেই।