hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৬৫

আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাবার ষড়যন্ত্র

আবদুল্লাহ ইব্‌ন সাবা মিসরে বসে জনসাধারণের অগোচরেই তার ষড়যন্ত্রমূলক যাবতীয় কর্মপন্থা একেবারে পাকাপোক্ত করে নিয়েছিল। হযরত আম্মার ইব্‌ন ইয়াসির (রা) ও হযরত ওয়ারাকা ইব্‌ন রাফি আনসারী (রা)-এর মত সাহাবীদেরকেও সে আপন ইন্দ্রজালে আবদ্ধ করে নিয়েছিল। কিন্তু তার আন্দোলনের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে সে এবং তার মুসলিম বেশধারী বিশেষ কয়েকজন বন্ধু ব্যতীত আর কেউই অবহিত ছিল না। ইসলামী খিলাফতকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য সে বাহ্যত হুব্বে আলী (আলী প্রেম) ও হুব্বে আহলে বায়ত (আহলে বায়তের প্রতি প্রেম)-কে মাধ্যমে পরিণত করেছিল। কিন্তু তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সুদূরপ্রসারী ও (মুসলিম মিল্লাতের জন্য) অনেক মারাত্মক। যাহোক, উল্লিখিত সামরিক কেন্দ্রসমূহের অনেক সরলপ্রাণ আরবই ইব্‌ন সাবার প্রতারণাজালে আটকা পড়ে এবং তারই ইঙ্গিতে প্রত্যেকটি স্থানেই হযরত উসমান গনী (রা)-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনের প্রস্তুতি চলে। প্রত্যেকটি স্থানের এবং প্রত্যেকটি দলের লোকেরা এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল যে, হযরত উসমান গনী (রা)-কে হয় পদচ্যুত, নয়ত হত্যা করতে হবে। তবে পরবর্তী খলীফা কাকে করা হবে সে সম্পর্কে তাদের মধ্যে মতানৈক্য বিদ্যমান ছিল। কেউ হযরত আলী (রা)-কে, কেউ হযরত তালহা (রা)-কে, আবার কেউ হযরত যুবায়র (রা)-কে পরবর্তী খলীফা পদের জন্য সর্বাধিক যোগ্য মনে করত। ইসলামের প্রতি আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সাবার আদৌ কোন আসক্তি বা আন্তরিক টান ছিল না বরং হযরত উসমান গনী (রা)-এর বিরোধিতা করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। তাই সে আপাতত হুব্বে আলী (রা)-এর উপর গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি স্থগিত রাখে এবং পরবর্তী খলীফা নির্বাচনের ব্যাপারে জনসাধারণকে দ্বিধা-বিভক্ত দেখে তাদেরকে নিজ নিজ অবস্থার উপরই ছেড়ে দেয়।