১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৭২
হযরত উসমান গনী (রা)-এর চরিত্র ও গুণাবলী
হযরত উসমান গনী (রা) প্রকৃতিগতভাবেই ছিলেন শান্তিকামী ও ধৈর্যশীল। জাহিলিয়া যুগেও তিনি মদ্যপানকে অবৈধ মনে করতেন। সে যুগেও তিনি কখনো ব্যভিচারের ধারে কাছে ঘেষেন নি বা চৌর্য বৃত্তিকে প্রশ্রয় দেন নি। তখনও তার বদান্যতা দ্বারা সাধারণ মানুষ উপকৃত হত। তিনি প্রত্যেক বছরই হজ্জ করতেন এবং মদীনায় তাঁবু স্থাপন করতেন। তিনি যতক্ষণ হাজীগণকে পানাহার না করাতেন ততক্ষণ নিজের তাঁবুতে ফিরে আসতেন না। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই জনসাধারণকে এভাবে দাওয়াত করে খাওয়াতেন। হযরত উসমান গনী (রা) ‘জায়শুল উসরা’ (কঠিন দিনগুলোতে গঠিত বাহিনী—যেমন, তাবূক যুদ্ধের জন্য গঠিত বাহিনী)-এর প্রায় যাবতীয় সামগ্রীর যোগান দিতেন। হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) এবং তাঁর পরিবারকে বারবার অনশনের সম্মুখীন হতে হত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হযরত উসমান গনী (রা)-ই তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় আহার্য সামগ্রী পাঠিয়ে দিতেন। হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর জন্য বার বার এ বলে দু‘আ করতেন :
اللهم اني قد رضيت عن عثمان ارض عنه اللهم اني قد رضيت عن عثمان فارض عنه .
(হে আল্লাহ! আমি উসমানের উপর রাযী আছি; আপনিও তার উপর রাযী হয়ে যান! হে আল্লাহ্! আমি উসমানের উপর সন্তুষ্ট আছি, আপনিও তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।)
একবার সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত শুধু এ দু’আই তিনি করেছিলেন। সিদ্দীকী খিলাফতকালে ভয়ানক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। আহার্য সামগ্রীর অভাবে মানুষ অত্যন্ত কষ্টের সম্মুখীন হয়। একবার এ সংবাদ প্রচারিত হল যে, হযরত উসমান গনী (রা)-এর খাদ্য বোঝাই এক হাজার উট মদীনা শরীফে এসে পৌঁছেছে। তখন মদীনা শরীফের ব্যবসায়িগণ হযরত উসমান গনী (রা)-এর কাছে গিয়ে বললেন, আপনার এ খাদ্য সামগ্রী আমাদের কাছে দেড়গুণ দামে বিক্রি করে দিন। কিন্তু হযরত উসমান গনী (রা) পাল্টা তাদেরকে বললেন, আপনারা সবাই সাক্ষী থাকুন, আমি আমার আমদানীকৃত এসব সামগ্রী মদীনা শরীফের দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদেরকে দান করলাম।
হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন, আমি ঐ রাত্রে স্বপ্নে দেখলাম, হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নূরানী পোশাক পরিহিত অবস্থায় একটি ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছেন। আমি দৌড়ে গিয়ে তার সামনে দাঁড়ালাম এবং নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে দেখার জন্য আমি খুবই উদগ্রীব ছিলাম। তিনি উত্তর দিলেন, এখন আমার খুবই তাড়া আছে। উসমান আজ এক হাজার উটভর্তি খাদ্য সামগ্রী দান করেছেন এবং আল্লাহ্ তা‘আলা তার সে দান কবুল করে তার সাথে জান্নাতের এক কনের বিবাহ দিয়েছেন এবং আমি এখন ঐ বিবাহ উৎসবে যোগদান করতে যাচ্ছি। হযরত উসমান গনী (রা) যখন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেন তখন থেকে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতি জুমা‘আর দিনে একজন দাসকে মুক্তি দান করেন। তিনি এক জুমুআতে কোন দাসকে মুক্তি দান করতে না পারলে পরবর্তী জুমুআ‘তে দু’জন দাসকে মুক্তি দান করতেন। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় যখন বিক্ষোভকারীরা তার পানি বন্ধ করে দিয়েছিল, তখনও তিনি অনবরত দাসদের মুক্তিদান করতে থাকেন। তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে খাবার খেতেন এবং সাদাসিধে পোশাক পরিধান করতেন। কিন্তু মেহমানদের সামনে অত্যন্ত সুস্বাদু ও দামী খাবার পরিবেশন করতেন। খিলাফতের আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরও তিনি কখনো নিজেকে সাধারণ মানুষের চাইতে শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করতেন না। তিনি সবার সাথে বসতেন, সবাইকে সম্মান করতেন, কিন্তু কারো কাছ থেকে প্রাপ্তির প্রত্যাশা করতেন না। একবার তিনি তার এক গোলামকে বলেন, “আমি তোমার উপর বাড়াবাড়ি করেছি, তুমি আমার উপর থেকে তার প্রতিশোধ গ্রহণ কর। তাঁরই নির্দেশে গোলাম তার কান ধরে। তখন তিনি বলতে থাকেন, ভাই, আরো জোরে ধর। কেননা, দুনিয়ার প্রতিশোধ আখিরাতের প্রতিশোধের চাইতে অনেক সহজ।” কুরআন করীমের প্রচার এবং একই পাঠ পদ্ধতির উপর সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছানো তারই বিরাট কীর্তি। তিনি মসজিদে নববীর আয়তন বৃদ্ধি করেছিলেন, যেমন ওপরে বিস্তারিতভাবে উল্লিখিত হয়েছে। তিনি দৈনিক ভাতাসমূহ এবং ওয়াযীফা (উপহার-উপঢৌকন) বণ্টনের জন্য দিন ও সময় নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। প্রত্যেকটি কাজ যথাসময়ে ও যথাযথভাবে সম্পাদন করা ছিল তাঁর চিরন্তন অভ্যাস। হযরত উমর ফারূক (রা)-এর যুগে জুম‘আর দিন ঠিক সেই সময়ে আযান দেওয়া হত যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে আরোহণ করতেন। হযরত উসমান গনী (রা)-এর যুগে যখন লোকসংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি পায় তখন তিনি নির্দেশ দেন যে, খুতবার আযানের পূর্বেও যেন একবার আযান দেওয়া হয়। তখন থেকে আজ পর্যন্ত জুম‘আর সময় দু’বার আযান দেওয়ার রীতি প্রচলিত হয়ে আসছে।
اللهم اني قد رضيت عن عثمان ارض عنه اللهم اني قد رضيت عن عثمان فارض عنه .
(হে আল্লাহ! আমি উসমানের উপর রাযী আছি; আপনিও তার উপর রাযী হয়ে যান! হে আল্লাহ্! আমি উসমানের উপর সন্তুষ্ট আছি, আপনিও তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান।)
একবার সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত শুধু এ দু’আই তিনি করেছিলেন। সিদ্দীকী খিলাফতকালে ভয়ানক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। আহার্য সামগ্রীর অভাবে মানুষ অত্যন্ত কষ্টের সম্মুখীন হয়। একবার এ সংবাদ প্রচারিত হল যে, হযরত উসমান গনী (রা)-এর খাদ্য বোঝাই এক হাজার উট মদীনা শরীফে এসে পৌঁছেছে। তখন মদীনা শরীফের ব্যবসায়িগণ হযরত উসমান গনী (রা)-এর কাছে গিয়ে বললেন, আপনার এ খাদ্য সামগ্রী আমাদের কাছে দেড়গুণ দামে বিক্রি করে দিন। কিন্তু হযরত উসমান গনী (রা) পাল্টা তাদেরকে বললেন, আপনারা সবাই সাক্ষী থাকুন, আমি আমার আমদানীকৃত এসব সামগ্রী মদীনা শরীফের দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তদেরকে দান করলাম।
হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন, আমি ঐ রাত্রে স্বপ্নে দেখলাম, হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নূরানী পোশাক পরিহিত অবস্থায় একটি ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছেন। আমি দৌড়ে গিয়ে তার সামনে দাঁড়ালাম এবং নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে দেখার জন্য আমি খুবই উদগ্রীব ছিলাম। তিনি উত্তর দিলেন, এখন আমার খুবই তাড়া আছে। উসমান আজ এক হাজার উটভর্তি খাদ্য সামগ্রী দান করেছেন এবং আল্লাহ্ তা‘আলা তার সে দান কবুল করে তার সাথে জান্নাতের এক কনের বিবাহ দিয়েছেন এবং আমি এখন ঐ বিবাহ উৎসবে যোগদান করতে যাচ্ছি। হযরত উসমান গনী (রা) যখন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেন তখন থেকে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতি জুমা‘আর দিনে একজন দাসকে মুক্তি দান করেন। তিনি এক জুমুআতে কোন দাসকে মুক্তি দান করতে না পারলে পরবর্তী জুমুআ‘তে দু’জন দাসকে মুক্তি দান করতেন। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় যখন বিক্ষোভকারীরা তার পানি বন্ধ করে দিয়েছিল, তখনও তিনি অনবরত দাসদের মুক্তিদান করতে থাকেন। তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে খাবার খেতেন এবং সাদাসিধে পোশাক পরিধান করতেন। কিন্তু মেহমানদের সামনে অত্যন্ত সুস্বাদু ও দামী খাবার পরিবেশন করতেন। খিলাফতের আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরও তিনি কখনো নিজেকে সাধারণ মানুষের চাইতে শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করতেন না। তিনি সবার সাথে বসতেন, সবাইকে সম্মান করতেন, কিন্তু কারো কাছ থেকে প্রাপ্তির প্রত্যাশা করতেন না। একবার তিনি তার এক গোলামকে বলেন, “আমি তোমার উপর বাড়াবাড়ি করেছি, তুমি আমার উপর থেকে তার প্রতিশোধ গ্রহণ কর। তাঁরই নির্দেশে গোলাম তার কান ধরে। তখন তিনি বলতে থাকেন, ভাই, আরো জোরে ধর। কেননা, দুনিয়ার প্রতিশোধ আখিরাতের প্রতিশোধের চাইতে অনেক সহজ।” কুরআন করীমের প্রচার এবং একই পাঠ পদ্ধতির উপর সবাইকে ঐকমত্যে পৌঁছানো তারই বিরাট কীর্তি। তিনি মসজিদে নববীর আয়তন বৃদ্ধি করেছিলেন, যেমন ওপরে বিস্তারিতভাবে উল্লিখিত হয়েছে। তিনি দৈনিক ভাতাসমূহ এবং ওয়াযীফা (উপহার-উপঢৌকন) বণ্টনের জন্য দিন ও সময় নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। প্রত্যেকটি কাজ যথাসময়ে ও যথাযথভাবে সম্পাদন করা ছিল তাঁর চিরন্তন অভ্যাস। হযরত উমর ফারূক (রা)-এর যুগে জুম‘আর দিন ঠিক সেই সময়ে আযান দেওয়া হত যখন ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য মিম্বরে আরোহণ করতেন। হযরত উসমান গনী (রা)-এর যুগে যখন লোকসংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি পায় তখন তিনি নির্দেশ দেন যে, খুতবার আযানের পূর্বেও যেন একবার আযান দেওয়া হয়। তখন থেকে আজ পর্যন্ত জুম‘আর সময় দু’বার আযান দেওয়ার রীতি প্রচলিত হয়ে আসছে।