hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩১৭

বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়

আরতাবূন বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করার পর হযরত আমর (রা) গাযওয়া, সুবুত, নাবলুস, লুদ্দ, আমওয়াস, জাবরীন, ইয়াফা প্রভৃতি স্থান দখল করেন। তারপর বায়তুল-মুকাদ্দাসের পার্শ্ববর্তী সমগ্র এলাকা দখল করে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে অগ্রসর হন এবং তা অবরোধ করেন। বায়তুল-মুকাদ্দাস-এর অধিবাসীরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘেরাওকারীদের মুকাবিলা করেছিল। হযরত আবূ উবায়দা (রা)-এর আগমন সংবাদ শুনে তাদের সাহস কিছুটা দমে যায় এবং তিনি সেখানে পৌঁছার পর তার সাথে দূত-বিনিময় শুরু করেন। সন্ধির ব্যাপারে মুসলমানদের পক্ষ থেকে আপত্তির কিছু ছিল না। তাছাড়া মুসলমানগণ যেসব সন্ধিশর্ত পেশ করত, সেগুলো সরল ও সুনির্দিষ্ট ছিল যে, খ্রিস্টান মাত্রই সে সম্পর্কে অবহিত ছিল। কিন্তু বায়তুল-মুকাদ্দাসের খ্রিস্টানরা এবার সন্ধির ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ধরনের শর্ত জুড়ে দেয়। আর তা ছিল, খোদ মুসলমানদের খলীফা বায়তুল মুকাদ্দাসে এসে অঙ্গীকার পত্র লিখে দিবেন। ইতিমধ্যে আরতাবূন বাতরীক বায়তুল-মুকাদ্দাস থেকে মিসরের দিকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এখন শুধু শহরের অভিজাত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা মুসলিম বাহিনীকে কোন মতে প্রতিহত করছিলেন। তাই শহর দখল করাটা এখন খুব একটা কঠিন ব্যাপার ছিল না। কিন্তু হযরত আবূ উবায়দা ইব্‌ন জাররাহ (রা) যথাসম্ভব রক্তপাত বন্ধ করতে চেয়েছিলেন এবং যুদ্ধের উপর সন্ধিকেই প্রাধান্য দিতেছিলেন। তাই এ মর্মে হযরত ফারূকে আযম (রা)-এর কাছে একটি পত্র প্রেরণ করেন। তাতে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনি এখানে আগমন করলে বিনা যুদ্ধে বায়তুল-মুকাদ্দাস আমাদের দখলে চলে আসতে পারে।’ পত্র পেয়ে হযরত ফারূকে আযম (রা) প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে মসজিদে নববীতে আহবান করেন। হযরত উসমান (রা) বলেন, খ্রিস্টানরা এখন পরাজিত ও পর্যুদস্ত হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে মুকাবিলার বা প্রতিরোধের শক্তি বা সাহস কোনটিই নেই। আপনি বায়তুল-মুকাদ্দাস সফরে যাবেন না। আল্লাহ তা‘আলা খ্রিস্টানদেরকে আরো লাঞ্ছিত করবেন এবং তারা শেষ পর্যন্ত বিনা শর্তে ফিলিস্তীন শহর মুসলমানদের হাতে তুলে দেবে। কিন্তু হযরত আলী (রা) বলেন, আমার মতে আপনার ফিলিস্তীনে যাওয়া খুবই জরুরী। হযরত ফারূকে আযম (রা) হযরত আলী (রা)-এর অভিমতই গ্রহণ করেন।