১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯৪
আনসারদের রাসূল-প্রেম
হযরত নবী করীম (সাঃ) জি‘রানা নামক স্থানে মালে গনীমত বন্টনকালে মক্কাবাসী মুআল্লাফাতুল কুলূবদের বেশী অর্থ প্রদান করেন এবং কেউ কেউ তার প্রাপ্য অংশের চেয়ে কয়েক গুণ বেশী মালে গনীমত লাভ করেন। অধিকাংশ মক্কাবাসী যেহেতু কুরায়শ তথা নবী করীম (সাঃ)-এর আত্মীয় ও স্বদেশী ছিলেন, তাই এ নিয়ে কোন কোন তরুণ আনসারের মধ্যে মৃদু গুঞ্জরণ শুরু হলো। তারা বলাবলি করতে লাগলো, নবী করীম (সাঃ) তাঁর আত্মীয়স্বজন ও স্বদেশীদেরকে প্রাপ্য অংশের চেয়ে অনেক বেশী দিয়েছেন। কিন্তু আমাদেরকে সাধারণ অংশের চেয়ে এতটুকু বেশী দেননি। অথচ দান-দক্ষিণার বেশী হকদার ছিলাম আমরাই।
এই গুঞ্জরণ এক কান দু’কান হয়ে হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর পবিত্র কান পর্যন্ত পৌঁছে গেলো। তিনি সমস্ত আনসারকে এক স্থানে সমবেত করলেন। সবাই সমবেত হওয়ার পর তিনি তাদের সম্বোধন করে বললেন, তোমরা এরূপ কথা বলেছো। আনসারদের পক্ষ থেকে উত্তরে বলা হলো, হাঁ, আমাদের তরুণরা এরূপ কথা অবশ্যই বলেছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোন পরিপক্ক, সম্মানিত ও সমঝদার ব্যক্তি এমন কথা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি, ভাবতেও পারে না।
হযরত নবী করীম (স) একথা শুনে বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়। একথা কি সত্য নয় যে, তোমরা বিপথগামী ছিলে? আল্লাহ তা‘আলা আমার মাধ্যমে তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন? আনসারগণ বললেন, অবশ্যই! আমাদের উপর আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের দান অপরিসীম! তারপর তিনি বললেন, একথা কি সত্য নয় যে, তোমরা পরস্পরে একে অপরের শত্রু ছিলে, আমার মাধ্যমে তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছ? তারা বললেন, অবশ্যই। আপনি আমাদের উপর বিরাট অনুগ্রহ করেছেন। এরপর তিনি বললেন, একথা কি সত্য নয় যে, তোমরা দরিদ্র ছিলে এবং আমার বদৌলতে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে ধনী করেছেন? আনসারগণ বললেন, অবশ্যই! আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের উপর বড় দয়া করেছেন। এরপর তিনি বললেন, না! তোমরা আমাকে এ উত্তর দিতে পারো যে, সারা দুনিয়া যখন আপনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, আমরা তখন আপনাকে সত্যায়ন করেছি। সবাই আপনাকে ত্যাগ করেছে, আমরা আশ্রয় দিয়েছি। আপনি অভাবী ছিলেন, আমরা আপনাকে সাহায্য করেছি। আমি তোমাদের এসব কথাই স্বীকার করবো। হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এটা পছন্দ করবে না যে, লোকেরা উট-বকরী নিয়ে তাদের ঘরে যাবে! এই বক্তৃতা শুনে আনসারগণ অজ্ঞাতে কেঁদে ফেললেন। অশ্রুপ্রবাহে তাঁদের দাড়ি ভিজে গেলো। তারপর হযরত নবী করীম (সাঃ) বললেন, হিজরত যদি একটি ঐশী নির্দেশ না হতো, তবু আমি আনসারদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আনসাররা যদি একপথে চলে আর অন্যরা ভিন্নপথ অবলম্বন করে, তাহলে আমি অবশ্যই আনসারদের পথ অবলম্বন করবো। হে আল্লাহ! আনসার এবং আনসারদের সন্তান ও তাদের সন্তানদের উপর তুমি রহমত বর্ষণ কর।-একথা শুনে আনসারদের যে কি অবস্থা হয়েছিল এবং তারা যে কি পরিমাণ উৎফুল্ল হয়েছিলেন, আমরা শুধু তা কল্পনাই করতে পারিভাষায় প্রকাশ করতে পারি না। এরপর তিনি আনসারদের এই মর্মে বুঝ দিলেন যে, এইসব লোক সদ্য মুসলমান হয়েছে। এদের মনোরঞ্জনের জন্য বেশী ধন-মাল দেয়া হয়েছে। একথা নয় যে, তাদের প্রাপ্য বেশী।
এই গুঞ্জরণ এক কান দু’কান হয়ে হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর পবিত্র কান পর্যন্ত পৌঁছে গেলো। তিনি সমস্ত আনসারকে এক স্থানে সমবেত করলেন। সবাই সমবেত হওয়ার পর তিনি তাদের সম্বোধন করে বললেন, তোমরা এরূপ কথা বলেছো। আনসারদের পক্ষ থেকে উত্তরে বলা হলো, হাঁ, আমাদের তরুণরা এরূপ কথা অবশ্যই বলেছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোন পরিপক্ক, সম্মানিত ও সমঝদার ব্যক্তি এমন কথা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি, ভাবতেও পারে না।
হযরত নবী করীম (স) একথা শুনে বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়। একথা কি সত্য নয় যে, তোমরা বিপথগামী ছিলে? আল্লাহ তা‘আলা আমার মাধ্যমে তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন? আনসারগণ বললেন, অবশ্যই! আমাদের উপর আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের দান অপরিসীম! তারপর তিনি বললেন, একথা কি সত্য নয় যে, তোমরা পরস্পরে একে অপরের শত্রু ছিলে, আমার মাধ্যমে তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছ? তারা বললেন, অবশ্যই। আপনি আমাদের উপর বিরাট অনুগ্রহ করেছেন। এরপর তিনি বললেন, একথা কি সত্য নয় যে, তোমরা দরিদ্র ছিলে এবং আমার বদৌলতে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে ধনী করেছেন? আনসারগণ বললেন, অবশ্যই! আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের উপর বড় দয়া করেছেন। এরপর তিনি বললেন, না! তোমরা আমাকে এ উত্তর দিতে পারো যে, সারা দুনিয়া যখন আপনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, আমরা তখন আপনাকে সত্যায়ন করেছি। সবাই আপনাকে ত্যাগ করেছে, আমরা আশ্রয় দিয়েছি। আপনি অভাবী ছিলেন, আমরা আপনাকে সাহায্য করেছি। আমি তোমাদের এসব কথাই স্বীকার করবো। হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এটা পছন্দ করবে না যে, লোকেরা উট-বকরী নিয়ে তাদের ঘরে যাবে! এই বক্তৃতা শুনে আনসারগণ অজ্ঞাতে কেঁদে ফেললেন। অশ্রুপ্রবাহে তাঁদের দাড়ি ভিজে গেলো। তারপর হযরত নবী করীম (সাঃ) বললেন, হিজরত যদি একটি ঐশী নির্দেশ না হতো, তবু আমি আনসারদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। আনসাররা যদি একপথে চলে আর অন্যরা ভিন্নপথ অবলম্বন করে, তাহলে আমি অবশ্যই আনসারদের পথ অবলম্বন করবো। হে আল্লাহ! আনসার এবং আনসারদের সন্তান ও তাদের সন্তানদের উপর তুমি রহমত বর্ষণ কর।-একথা শুনে আনসারদের যে কি অবস্থা হয়েছিল এবং তারা যে কি পরিমাণ উৎফুল্ল হয়েছিলেন, আমরা শুধু তা কল্পনাই করতে পারিভাষায় প্রকাশ করতে পারি না। এরপর তিনি আনসারদের এই মর্মে বুঝ দিলেন যে, এইসব লোক সদ্য মুসলমান হয়েছে। এদের মনোরঞ্জনের জন্য বেশী ধন-মাল দেয়া হয়েছে। একথা নয় যে, তাদের প্রাপ্য বেশী।