hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২৩

বসরা থেকে ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর বিদায়

ঐ সময়ে অর্থাৎ হিজরী ৪০ সনের প্রথম দিকে আর একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস (রা) আলী (রা)-এর উপর অসন্তুষ্ট হয়ে বসরার শাসনক্ষমতা ছেড়ে মক্কায় চলে যান। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এই যে, আবুল আসওয়াদ ইব্‌ন আব্বাস (রা)-এর উপর এই মর্মে একটি মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেন যে, তিনি (ইব্‌ন আব্বাস) তাঁর (আবুল আসওয়াদের) অনুমতি ছাড়া বায়তুল মাল থেকে অর্থ খরচ করেছেন। তিনি বসরা থেকে বিষয়টি লিখিতভাবে আলী (রা)-কে জানান। এজন্য আলী (রা) আবুল আসওয়াদকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেন, এ ধরনের তথ্যাদি পাঠানো এবং গভর্নরগণের পদস্খলন সম্পর্কে আমাকে অবহিত করা নিশ্চয়ই তোমার আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার লক্ষণ। অপর দিকে তিনি ইব্‌ন আব্বাসকে লিখেন, আমার কাছে তোমার সম্পর্কে এই এই অভিযোগ এসেছে, তোমার কাছে এর কি উত্তর রয়েছে? ইব্‌ন আব্বাসের পত্রে আবুল আসওয়াদের কোন উল্লেখ ছিল না। তিনি উত্তরে লিখেন, আপনার কাছে যে সংবাদ পৌঁছেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি যে মাল খরচ করেছি তা ছিল আমার ব্যক্তিগত। এর সাথে বায়তুল মালের কোন সম্পর্ক ছিল না। আলী (রা) এর উত্তরে লিখেন, ওটা তোমার ব্যক্তিগত সম্পদ হয়ে থাকলে আমাকে বলো, তুমি এটা কোথা থেকে এবং কিভাবে পেয়েছিলে এবং কোথায় রেখেছিলে? উত্তরে ইব্‌ন আব্বাস (রা) লিখেন, আমি এ ধরনের গভর্নরের পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। আপনি যাকে সমীচীন মনে করেন তাকেই বসরার শাসনকর্তা করে পাঠিয়ে দিন। আমি যা খরচ করেছি তা ছিল আমার ব্যক্তিগত মাল এবং আপন ইচ্ছামত তা খরচ করার অধিকার আমার ছিল। এই পত্র লিখেই তিনি তার সফরের আয়োজন করেন এবং বসরা থেকে রওয়ানা হয়ে সোজা মক্কা মুআয্‌যমায় চলে যান।

ঐ সময়ে যখন আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) বসরার শাসনক্ষমতা ছেড়ে মক্কা মুআয্‌যমায় চলে গিয়েছিলেন তখন আলী (রা)-এর ভাই আকীলও তার উপর অসন্তুষ্ট হয়ে আমীরে মুআবিয়ার কাছে চলে যান। মুআবিয়া (রা) সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জন্য যথাযোগ্য ভাতা নির্ধারণ করে দেন। আকীলের এভাবে তার কাছে চলে যাওয়াটা আলী (রা)-কে গভীরভাবে মর্মাহত করে। তিনি মুআবিয়ার মুকাবিলা করা খুবই জরুরী মনে করেন। তিনি কূফাবাসীদেরকে সিরিয়া আক্রমণের জন্য অনুপ্রাণিত করেন। এবার কূফাবাসীদের উপর তার বক্তৃতার প্রভাব এমন গভীরভাবে পড়ে যে, প্রায় ষাট হাজার কূফাবাসী তাঁর হাতে এই মর্মে বায়‘আত করে যে, তাদের দেহে প্রাণ থাকা পর্যন্ত তারা তাকে ত্যাগ করবে না এবং শত্রুদের তারা হয় মারবে, নয়ত নিজেরাই মরবে। এই ষাট হাজারের উপর আরো সৈন্য এবং প্রয়োজনীয় যুদ্ধসামগ্রী সংগ্রহের কাজে তিনি আত্মনিয়োগ করেন। খারিজীদের সামরিক শক্তি নাহরাওয়ানেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। অতএব বাহ্যত এখন তাদের দিক থেকে আশংকার কোন কারণ ছিল না।