hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

ভূমিকা ইতিহাস

আরবী, উর্দু, ফার্সী ভাষায় ‘তারীখ’ বাংলাতে ‘ইতিহাস’-এর পরিভাষাগত অর্থ হচ্ছে ঐ বিদ্যা যার মাধ্যমে রাজা-বাদশাহ, নবী-রাসূল, বিজেতা ও বিখ্যাত মনীষিগণের জীবনকাহিনী এবং অতীত যুগের বড় বড় ঘটনা ও রীতিনীতি সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া যায় এবং যা বিগত যুগসমূহের সামাজিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভের মাধ্যম হয়ে থাকে। কেউ কেউ ‘ইতিহাস’-এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে :

মানুষের একত্রে বসবাসকে ‘তামাদ্দুন’ (সংস্কৃতি) এবং সেই সমাজবদ্ধ জনপদকে ‘মদীনা’ (নগর) বলে। এদের উপর দিয়ে স্বভাবসিদ্ধভাবে অবস্থাদি অতিক্রান্ত হয় তাকে ‘তারীখী ওয়াকিয়াত’ (ঐতিহাসিক ঘটনাবলী) এবং পরবর্তীদের পূর্ববর্তীদের মুখ থেকে শুনে শুনে সে ঘটনাবলীকে সঙ্কলিত করা এবং শিক্ষণীয় উপদেশ স্বরূপ তা পরবর্তীদের জন্যে রেখে যাওয়াকে ‘তারীখ’ বা ইতিহাস বলে। কেউ কেউ বলেন, আসলে আরবী ‘তাখীর’ ( تاخير ) শব্দটিকে উল্টিয়ে ‘তারীখ’ ( تاريخ ) শব্দটি বানানো হয়েছে। তাখীর অর্থ পরবর্তীতে নিয়ে আসা, পূর্ববর্তী যুগকে পরবর্তী যুগের দিকে সম্পর্কিত করা। যেমন বলা হয়, অমুক ধর্ম বা অমুক সাম্রাজ্য বা অমুক যুদ্ধের উদ্ভব অমুক সময় হয়েছিল। যে বিশেষ ঘটনাবলী সে যুগটাতে ঘটেছিল, সে সবের শুরু বা সূচনাই হচ্ছে সে সময়টি। মোদ্দাকথা, তারীখ বা ইতিহাসের সংজ্ঞা সম্পর্কে এরূপ অনেক বিশেষণ রয়েছে। তার সবকটির সারমর্ম হচ্ছে প্রথমোক্ত সংজ্ঞাটি। আরো সংক্ষেপে বলতে গেলে বলতে হয়, যে সকল অবস্থা ও ঘটনাবলী কাল নির্দেশ করে লিখিত হয়, তাকেই ইতিহাস বলা হয়ে থাকে।