hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৮৫

হযরত আমীরে মুআবিয়া (রা) আত্মপক্ষ সমর্থন

হযরত আলী (রা) মা‘বাদ আসলামীর মাধ্যমে আবূ মূসা আশআরী (রা)-এর কাছে একটি পত্র প্রেরণ করেন। ঐ পত্রের উত্তরে আবূ মূসা (রা) লিখেনঃ কুফাবাসীরা আমার হাতে বায়‘আত করেছে, অধিকাংশ লোক তা করেছে সন্তুষ্টচিত্তে ও আগ্রহভরে, তবে কিছু লোক অনিচ্ছার সাথে। যখন কূফায় আবূ মূসার নামে পত্র প্রেরণ করা হয় ঠিক একই সময় জারীর ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ এবং সাবযা জাহমীর অপর একটি পত্র প্রেরণ করা হয় আমীর মুআবিয়ার নামে দামিশকে। কিন্তু সুদীর্ঘ তিন মাস পর্যন্ত সেখান থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায় নি। হযরত আমীরে মুআবিয়া (রা) কয়েক মাস পর্যন্ত পত্রবাহককে অপেক্ষমাণ রাখেন। অতঃপর সীলমোহরকৃত একটি পত্র আপন পত্রবাহক কাবীসা আবসীর হাতে দিয়ে জারীর ইব্‌ন আবদুল্লাহর সাথে মদীনায় প্রেরণ করেন। পত্রের খামে স্পষ্টাক্ষরে হযরত আলীর নাম-ঠিকানা লেখা ছিল ( من معاوية إلى على )। পত্রটি নিয়ে বাহকদ্বয় হিজরী ৩৬ সনের রবীউল আউয়াল মাসের শেষ দিকে মদীনায় পৌঁছেন। মুআবিয়া (রা)-এর পত্রবাহক হযরত আলী (রা)-এর দরবারে হাযির হয়ে পত্রটি তার কাছে হস্তান্তর করেন। হযরত আলী (রা) খাম খুলে দেখতে পান এর ভিতরে কোন পত্র নেই। তিনি ক্রোধান্বিত হয়ে পত্রবাহকের দিকে তাকান। পত্রবাহক বলেন, আমি পত্রবাহক মাত্র ; আমি আমার প্রাণের নিরাপত্তা চাই। আলী (রা) বলেন, হাঁ, তুমি অবশ্যই নিরাপত্তা পাবে। এরপর পত্রবাহক বললো, সিরিয়ার কেউই আপনার হাতে বায়‘আত করবে না। আমি স্বচক্ষে দেখেছি, ৬০ হাজার গণ্যমান্য ব্যক্তি হযরত উসমান (রা)-এর রক্তমাখা জামা নিয়ে অঝোরে কাঁদছে। মানুষকে উত্তেজিত করার উদ্দেশ্যে ঐ জামা দামিশকের জামে মসজিদের মিম্বরের উপর রাখা হয়েছে। আলী (রা) তখন বললেন, ‘ঐ সমস্ত লোক আমার থেকে উসমান হত্যার বদলা নিতে চাচ্ছে, অথচ আমি উসমান হত্যার সাথে কোন ভাবেই জড়িত নই। আল্লাহ উসমানের হত্যাকারীদের বিচার করুন। এই বলে তিনি পত্রবাহককে মুআবিয়ার কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।