hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬৪

পঞ্চম হিজরীর অন্যান্য ঘটনা

পঞ্চম হিজরীর যিলহাজ্জ মাসে হযরত আবূ উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা) রাসূলে মাকবূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে ‘সীফুল বাহ্‌র’ অভিমুখে তিনশ’ মুহাজির সহ রওয়ানা হন সেখানকার জুহায়না গোত্রের হাল-অবস্থা জানার জন্য। কেননা, সেদিক থেকে আশংকাজনক খবর এসেছিল। হযরত আবূ উবায়দা (রা) ও তাঁর সঙ্গীদেরকে এই অভিযানে পানাহারের ভীষণ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল। শুধু দুই দুই, তিন তিনটি শুকনো খেজুর খেয়ে এক একটি দিন অতিবাহিত করতে হতো। শেষে সাগর সৈকতে একটি মস্তবড় মাছ পাওয়া গেলো। যা সবার জন্যই যথেষ্ট হলো।

বনূ কিলাব সম্পর্কে খবর এলো যে, তারা বিদ্রোহ করার সংকল্প করছে। তাই পঞ্চম হিজরীর যিলহাজ্জ মাসেই মুহাম্মদ ইব্‌ন মাসলামা (রা) ত্রিশজন লোকের একটি দলের সাথে সেদিকে রওয়ানা হয়ে গেলেন। বনূ কিলাব তাদের মুকাবিলা করলো। বনূ কিলাবের দশজন লোক মারা গেলো এবং অন্যরা পলায়ন করলো। পঞ্চাশটি উট ও তিন হাজার বকরী মুসলমানদের হস্তগত হলো।

অনুরূপভাবে আক্কাশা ইব্‌ন মুহসিনকে মক্কা অভিমুখে অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হলো এবং একটি ক্ষুদ্র বাহিনী নজ্‌দ অভিমুখে পাঠানো হলো। এরা ছুমামা ইব্‌ন আছালাকে গ্রেফতার করে নিয়ে এলেন। ছুমামা ইব্‌ন আছালা খাঁটি দিলে খুশী মনে ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং স্বদেশ ইয়ামামায় গিয়ে সেখান থেকে মক্কায় খাদ্যশস্য সরবরাহে বাধা দিলেন। মক্কার কুরায়শরা যখন খাদ্যাভাবে কষ্ট পেলো, তখন তারা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নিকট অভিযোগ করলো। তিনি নির্দেশ জারি করলেন যে, মক্কায় খাদ্যশস্য পূর্বের মতোই যেনো সরবরাহ করা হয়। ঐ বছরই তিনি আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী মুহাজিরদের মদীনায় ডেকে পাঠান। কিন্তু মুহাজিরদের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা আবিসিনিয়ায় থেকে গেলো।