১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০৯
রোগশয্যা থেকে আল্লাহর পথে জিহাদ
একাদশ হিজরীর সফর মাসের ২৬ তারিখ রোগ থেকে কিছুটা উপশম অনুভব করলেন। হযরত নবী করীম (সাঃ) সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের সীমান্তসমূহের সংবাদাদি শ্রবণ করে মুসলমানদেরকে রোম যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বললেন। কেননা, ইয়ামামা ও ইয়ামনের গোলযোগ-বিশৃঙ্খলা এবং আরবের খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্র-শত্রুতা রোমকদেরকে পুনরায় আরব দেশের প্রতি মনোযোগী করেছিল। তিনি পরদিন হযরত উসামা ইব্ন যায়দ ইব্ন হারিছা (রা)-কে প্রধান সেনাপতি করে বললেন, তুমি তোমার পিতার বধ্যভূমিতে এমনভাবে ছুটে যাবে যে, সেখানকার লোকেরা যেন তোমার আগমন-সংবাদ জানতে না পারে। ইনশাআল্লাহ তুমি বিজয় লাভ করবে। একাদশ হিজরীর সফর মাসের ২৮ তারিখ তাঁর রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলো। ঐ রুগ্নাবস্থায়ই তিনি তার নিজ হাতে উসামার (রা) ঝাণ্ডা ঠিক করে বাহিনী বিদায় করলেন এবং প্রবীণ ও জ্ঞানতাপস সাহাবাকে হযরত উসামা (রা)-এর সাথে গমন করার নির্দেশ দিলেন। হযরত আবূ বকর (রা), হযরত উসমান (রা), হযরত আলী (রা), হযরত আব্বাস (রা) সবাইকে উসামা ইব্ন যায়দের নেতৃত্বাধীন রওয়ানা করানো হলো। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি উসামার অনুমতিক্রমে হযরত আলী (রা) ও হযরত আব্বাস (রা)-কে শুশ্রুষার জন্য মদীনায় রেখে দিলেন। অন্যসব সাহাবায়ে কিরাম উসামার সাথে মদীনা থেকে রওয়ানা হলেন। হযরত উসামা (রা) মদীনা থেকে এক ক্রোশ পথ অতিক্রম করে জারাফ নামক স্থানে অবস্থান করলেন। সেখান থেকে হযরত আবূ বকর (রা) ও হযরত উমর (রা) উসামা (রা) থেকে অনুমতি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট গমনাগমন করতেন। উসামা (রা) লশকর নিয়ে জারাফে পড়ে রইলেন এবং হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর অসুস্থতা দেখে রওয়ানা করতে পারলেন না। হযরত নবী করীম (সাঃ)-ও এ অবস্থায় তাকে রওয়ানা করার আদেশ দিলেন না। লশকরসহ তাকে জারাফে অবস্থান করতে অনুমতি দিলেন। উসামার নেতৃত্বের প্রশ্নে কারো কারো মধ্যে দ্বিধা-সংকোচ সৃষ্টি হলো। কেননা, উসামার পিতা যায়দ (রা) ছিলেন গোলাম। নবী করীম (সাঃ) এই মন্তব্য শ্রবণ করে লোকদেরকে ডেকে বললেন, এর পিতা একজন সেনাপতি ছিল। সুতরাং এর সৈনাপত্যে আপত্তি কি? তারপর বললেন, যায়দ (রা) প্রথম যুগের মুসলমান। ইসলামে তার মর্যাদা অনেক উচ্চে। মোটকথা, আপত্তিকারীরা লজ্জিত হলো এবং সানন্দে তার সৈনাপত্য মেনে নিলো।