hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯১

হযরত খাদীজা (রা)-এর ঐতিহাসিক সান্ত্বনা বাণী

জবাবে হযরত খাদীজা (রা) বললেন :

كلا البشر فوالله لا يحزيك الله ابدا انك لتصل الرحم وتصدق الحديث وتحمل الكل وتكسب المعدوم وتقري الضيف وتعين على نوائب الحق .

“কখনো তা হতে পারে না। আপনি শান্ত হোন! আল্লাহ আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত অপদস্থ করতে পারেন না। কেননা–

(ক) আপনি সর্বদা আত্মীয়-স্বজনের সাথে ঘনিষ্ঠ আচরণ করেন (তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেন না বা অনাত্মীয়সুলভ আচরণ করেন না।)

(খ) সর্বদা সত্য কথা বলেন।

(গ) অপরের বোঝা বহন করেন (কর্জ প্রভৃতি শোধ করেন।)।

(ঘ) নিঃস্বদের দেখাশোনা করেন।

(ঙ) অতিথিদের সেবা-যত্ন করেন।

(চ) বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করেন এবং সত্যের সহায়তা করেন।

এভাবে সান্ত্বনা দেওয়ার পর তিনি তাকে নিয়ে তার চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইব্‌ন নাওফিলের কাছে যান। তিনি তখন অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ওয়ারাকা ইব্‌ন নাওফিলের কাছে সবকিছু আনুপূর্বিক বর্ণনা করেন। সব শুনে ওয়ারাকা বললেন : ইনি হচ্ছেন সেই মহান ফেরেশতা যিনি মূসা (আ)-এর কাছে এসেছিলেন। হায়, যদি আমি যুবক হতাম এবং ঐ সময় পর্যন্ত জীবিত থাকতাম যখন আপনার স্বজাতি আপনাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করবে। হুযূর (সাঃ) তখন বললেন :

او مخرجوهم

“কি, তারা আমাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করবে?”

ওয়ারাকা ইব্‌ন নাওফিল বললেন, “জ্বী হাঁ। এ পৃথিবীর যিনিই রাসূল এসেছেন, তিনিই একত্ববাদের দাওয়াত দিয়েছেন, লোকে প্রথমে তাদের সাথে শত্রুতাই করেছে।” তারপর যথারীতি তিনি হেরা গুহায় যাতায়াত করতেন। কিছুদিন পর্যন্ত আর তার কাছে কোন ওয়াহী আসে নি। এ সময়টাকে ফাতরা বা বিরতিকাল বলা হয়ে থাকে।

অবশেষে একদিন তিনি হেরাগুহা থেকে বাড়ীতে ফিরছেন এমন সময় তিনি সেই ফেরেশতাকে দেখতে পেলেন। তিনি তাকে দেখে রীতিমত ঘাবড়ে গেলেন এবং ঘরে এসে বস্ত্রাবৃত হয়ে শুয়ে পড়লেন। এ সময় তার কানে এ গুরুগম্ভীর আওয়াজ এলোঃ

يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ . قُمْ فَأَنْذِرْ . وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ . وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ . وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ .

হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠো এবং লোকদেরকে (আল্লাহর শাস্তি থেকে) সতর্ক কর এবং তোমার রব-এর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এবং তোমার পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ এবং অপবিত্রতা শির্‌ক ও খারাবি থেকে দূরে থাক। (৭৪:১-৫)

তারপর একের পর এক ওয়াহী আসা অব্যাহত থাকে। একদা হযরত জিবরাঈল আমীন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে পাহাড়ের পাদদেশে নিয়ে যান। তাঁর সম্মুখে নিজে ওযূ করেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-ও তার দেখাদেখি অনুরূপ ওযূ করেন। তারপর জিবরাঈল (আ) তাঁকে নামায পড়ালেন।