hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯৪

প্রকাশ্য প্রচার

এবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রকাশ্যে লোকজনকে তাওহীদ ও ইসলামের দাওয়াত দিতে লাগলেন। এ সময়েই তার উপর এবং তার ছোট দলটির উপর দুর্ভোগ নেমে এলো। মেলায়, মজলিসে, বাজারে, বৈঠকখানায় তথা ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি লোকজনকে তাওহীদের সৌন্দর্য বোঝাতে লাগলেন এবং মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করতে লাগলেন। তিনি ব্যভিচার, জুয়া, মিথ্যা কথন, বিশ্বাসভঙ্গ, চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি প্রভৃতি অনাচারের পথ থেকে লোকজনকে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করতে লাগলেন। কুরায়শরা ছিলো ভীষণ দাম্ভিক প্রকৃতির। তাদের বাপদাদার ধর্ম ও আচার-আচরণের নিন্দাবাদ শুনে যাওয়া তাদের পক্ষে মোটেই সহজ ব্যাপার ছিলো না। তাদের মধ্যে মনিব ও গোলামের পার্থক্য বা ভেদাভেদ ছিলো একটা স্বীকৃত ব্যাপার। ইসলাম মনিব ও গোলামের এ পার্থক্যকে মিটিয়ে দিয়ে একই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে সবাইকে আবদ্ধ করে ছিলো। এ সাম্যও তাদের মনঃপূত ছিলো না। কুরায়শ ও মক্কাবাসীদের মর্যাদা গোটা আরবে স্বীকৃত ছিলো। তাদের এ মর্যাদা ছিলো সেই মূর্তিগুলোর জন্যে যেগুলোর পূজার জন্যে গোটা আরব থেকে বিভিন্ন কবীলার লোক মক্কায় ছুটে আসতো এবং মূর্তি পূজার আনুষ্ঠানিক উৎসব পালন করতো। ইসলাম ছিল মূর্তিপূজার ঘোর বিরোধী। যার ফলশ্রুতিতে তাদের মান-মর্যাদা ও প্রভাব-প্রতিপত্তি খর্ব হওয়া ছিল অনিবার্য। বড় বড় সরদাররা কোনমতেই একথা মেনে নিতে রাযী ছিলো না যে, মহানবীর আনুগত্য মেনে নিয়ে তারা তাদের নিজ নিজ সরদারী থেকে হাত গুটিয়ে নেবে। কুরায়শদের অধিকাংশ কবীলার লোকজন এমনিতেই বনূ হাশিম গোত্রের প্রতি অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করতো। এজন্যে তারা একথা কোনমতেই মেনে নিতে পারছিল না যে, একটা প্রতিদ্বন্দ্বী গোত্রের একজন লোককে নবীরূপে স্বীকার করে নিয়ে তারা তাঁর আনুগত্য করবে। এ প্রকাশ্য প্রচারের ফলে সমস্ত কুরায়শ বংশ তাঁদের শত্রুতায় অবতীর্ণ হলো এবং তারা ইসলাম ও তার নবী (সাঃ)-এর মূলোৎপাটন করার জন্যে সক্রিয় হয়ে উঠলো। কুফর ও ইসলামের এ প্রকাশ্য সংঘাত নবুওয়াতের চতুর্থ বছরে অত্যন্ত জোরেশোরে শুরু হয়ে যায়।