১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৪৯
ইরানীদের বিদ্রোহ ও ইসলামী বিজয় অভিযান
যেহেতু অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রদেশের প্রশাসক পদে রদবদল করা হয়েছিল, তাই তা ইরানীরা তাদের জন্য একটি গাইবী মদদ মনে করে আপোস-আলোচনার মাধ্যমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র জাল বিস্তার করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং ইসলামী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। আসতাখার-এবং জওর নামক দু’টি স্থান ছিল ঐ সমস্ত ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধ প্রস্তুতির কেন্দ্রভূমি। ফারিসের গভর্নর হযরত উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন মামার (রা) এসব ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধ প্রস্তুতির সংবাদ পেয়ে হিজরী ২৭ সনে আসতাখারবাসীদের উপর আক্রমণ পরিচালনা করেন। আসতাখারের সিংহদ্বারেই যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং হযরত উবায়দুল্লাহ ইব্ন মা’মার(রা) তাতে শাহাদত বরণ করেন। সাথে সাথে তার বাহিনী সেখান থেকে ফিরে চলে যায়। বসরার গভর্নর হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন আমের (রা) এ সংবাদ পেয়ে তার অধীনস্থ বাহিনী নিয়ে ফারিসের দিকে অগ্রসর হন। তিনি উসমান ইব্ন ‘আস (রা)-কে তাঁর অগ্রবর্তী বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেন। হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্ন আমের (রা) নিজে আসতাখারের দিকে যান এবং হারাম ইব্ন হাইয়ান (রা)-কে ‘জওর’ অবরোধ করার জন্য প্রেরণ করেন। ইরানীরা আসতাখারের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বিপুল সৈন্যের সমাবেশ ঘটায় এবং অত্যন্ত বীরদর্পে মুসলমানগণের মুকাবিলা করে। এক ভয়ানক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। শেষ পর্যন্ত ইরানীরা পরাজিত হয়ে পলায়ন করে এবং আসতাখারের উপর মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
হযরত হারাম ইব্ন হাইয়ান (রা) দীর্ঘদিন পর্যন্ত ‘জওর’ অবরোধ করে রাখেন। তিনি নিয়মিত রোযা রাখতেন এবং শত্রুদের সাথে লড়তেন। সূর্য অস্ত গেলে ইফতার করে নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। ঘটনাচক্রে একদিন এমন হলো যে, ইফতারের পর খাওয়ার মত এক টুকরা রুটিও তার ভাগ্যে জুটলো না। পরের দিন তিনি এ অবস্থায়ই রোযা রাখলেন। সেদিনও ইফতারের পর তার ভাগ্যে কোন রুটি জুটলো না। এভাবে এক সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেলো। তিনি একাধারে রোযা রেখে চললেন। যখন শরীর অত্যধিক দুর্বল হয়ে গেলো, তখন তিনি তার ভৃত্যকে বললেন, বৎস, তোমার কি হলো যে, আমি এক সপ্তাহ যাবত শুধু পানি খেয়ে রোযা রাখছি, অথচ তুমি আমাকে খাওয়ার কিছুই দাও না। ভৃত্য বলল, হে আমার মনিব আমি তো রোজই আপনার জন্য রুটি তৈরী করে রেখে যাই। আশ্চর্যের ব্যাপার যে, আপনি তা পান না। পরের দিনভৃত্য যথারীতি রুটি পাকিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখল এবং সেই রুটি কোথায় যায়, তা দেখার জন্য এক জায়গায় ঘাপটি মেরে বসে রইলো। হঠাৎ সে দেখতে পেলো, শহরের দিক থেকে একটি কুকুর দ্রুতবেগে ছুটে এলো এবং তার মনিবের রুটিগুলো মুখে নিয়ে পুনরায় দ্রুতবেগে ছুটে চলে গেলো। সে কৌতূহলবশত কুকুরের পশ্চাদ্ধাবন করল। কুকুরটি রুটি নিয়ে শহরের রক্ষাপ্রাচীরের দিকে ছুটে গেল। তারপর একটি ড্রেনের ভিতর দিকে শহরের মধ্যে ঢুকে পড়ল। ভৃত্য হযরত হারাম ইব্ন হাইয়ান (রা)-এর কাছে আদ্যোপান্ত ঘটনাটি খুলে বললে তিনি তাকে একটি গাইবী মদদ বলেই মনে করলেন। কেননা, শহরে ঢুকার এমন একটি গোপন পথ রয়েছে, তা তো তিনি জানতেন না। যা হোক ঐ রাতেই তিনি কয়েকজন দুঃসাহসী সৈন্যসহ ঐ ড্রেন পথে শহরের মধ্যে ঢুকে পড়লেন এবং পাহারাদারদের হত্যা করে সঙ্গে সঙ্গে শহরের দরজা খুলে দিলেন। অপেক্ষমাণ ইসলামী বাহিনী তখন দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে এবং তৎক্ষণাৎ শহরটি দখল করে ফেলে। এভাবে অতি সহজে মুসলমানগণ জওর দখল করে নেন। তারপর জওর ও আসতাখারের বিদ্রোহীদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয় যাতে তারা ভবিষ্যতে আর বিদ্রোহ না করে। এ বিজয় সংবাদ মদীনা তাইয়িবাতে পাঠিয়ে খলীফার কাছ থেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রার্থনা করা হয়।
হযরত হারাম ইব্ন হাইয়ান (রা) দীর্ঘদিন পর্যন্ত ‘জওর’ অবরোধ করে রাখেন। তিনি নিয়মিত রোযা রাখতেন এবং শত্রুদের সাথে লড়তেন। সূর্য অস্ত গেলে ইফতার করে নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন। ঘটনাচক্রে একদিন এমন হলো যে, ইফতারের পর খাওয়ার মত এক টুকরা রুটিও তার ভাগ্যে জুটলো না। পরের দিন তিনি এ অবস্থায়ই রোযা রাখলেন। সেদিনও ইফতারের পর তার ভাগ্যে কোন রুটি জুটলো না। এভাবে এক সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেলো। তিনি একাধারে রোযা রেখে চললেন। যখন শরীর অত্যধিক দুর্বল হয়ে গেলো, তখন তিনি তার ভৃত্যকে বললেন, বৎস, তোমার কি হলো যে, আমি এক সপ্তাহ যাবত শুধু পানি খেয়ে রোযা রাখছি, অথচ তুমি আমাকে খাওয়ার কিছুই দাও না। ভৃত্য বলল, হে আমার মনিব আমি তো রোজই আপনার জন্য রুটি তৈরী করে রেখে যাই। আশ্চর্যের ব্যাপার যে, আপনি তা পান না। পরের দিনভৃত্য যথারীতি রুটি পাকিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখল এবং সেই রুটি কোথায় যায়, তা দেখার জন্য এক জায়গায় ঘাপটি মেরে বসে রইলো। হঠাৎ সে দেখতে পেলো, শহরের দিক থেকে একটি কুকুর দ্রুতবেগে ছুটে এলো এবং তার মনিবের রুটিগুলো মুখে নিয়ে পুনরায় দ্রুতবেগে ছুটে চলে গেলো। সে কৌতূহলবশত কুকুরের পশ্চাদ্ধাবন করল। কুকুরটি রুটি নিয়ে শহরের রক্ষাপ্রাচীরের দিকে ছুটে গেল। তারপর একটি ড্রেনের ভিতর দিকে শহরের মধ্যে ঢুকে পড়ল। ভৃত্য হযরত হারাম ইব্ন হাইয়ান (রা)-এর কাছে আদ্যোপান্ত ঘটনাটি খুলে বললে তিনি তাকে একটি গাইবী মদদ বলেই মনে করলেন। কেননা, শহরে ঢুকার এমন একটি গোপন পথ রয়েছে, তা তো তিনি জানতেন না। যা হোক ঐ রাতেই তিনি কয়েকজন দুঃসাহসী সৈন্যসহ ঐ ড্রেন পথে শহরের মধ্যে ঢুকে পড়লেন এবং পাহারাদারদের হত্যা করে সঙ্গে সঙ্গে শহরের দরজা খুলে দিলেন। অপেক্ষমাণ ইসলামী বাহিনী তখন দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে এবং তৎক্ষণাৎ শহরটি দখল করে ফেলে। এভাবে অতি সহজে মুসলমানগণ জওর দখল করে নেন। তারপর জওর ও আসতাখারের বিদ্রোহীদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয় যাতে তারা ভবিষ্যতে আর বিদ্রোহ না করে। এ বিজয় সংবাদ মদীনা তাইয়িবাতে পাঠিয়ে খলীফার কাছ থেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রার্থনা করা হয়।