hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২২

ইরাক ও ইরানেই আলী (রা)-এর খিলাফত সীমিত হয়ে পড়লো

অনুরূপভাবে আমীরে মুআবিয়া (রা) বুসর ইব্‌ন আরতাতকে হিজায ও ইয়ামনের দিকে প্রেরণ করেন। মদীনাবাসীরা আমীরে মুআবিয়ার হাতে বায়‘আত করে। তারপর মক্কাবাসী ও ইয়ামনবাসীরাও মদীনাবাসীদের অনুসরণ করে। ইয়ামানের রাজধানী সানআ‘ থেকে হযরত আলীর সমর্থক গভর্নর উবায়দুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাসকে বের করে দেওয়া হয়। মোটকথা, হিজরী ৪০ সনের প্রথম দিকেই ইয়ামন, হিজায, সিরিয়া, ফিলিস্তীন, মিসর প্রভৃতি রাজ্যে আমীরে মুআবিয়ার শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐ সমস্ত অঞ্চলে না ছিল কোন বিদ্রোহ, না ছিল কোন আভ্যন্তরীণ গোলযোগের আশংকা, আর না ছিল কোনরূপ প্রশাসনিক দুর্বলতা। মক্কা-মদীনা উভয় শহরকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অঞ্চল হিসাবে রেখে দেওয়া হয়। অর্থাৎ ঐ দুই শহরে না হযরত আলীর হুকুমত ছিল, আর না মুআবিয়ার। এ ব্যাপারে তারা উভয়েই সম্মত ছিলেন। ইরাক ও ইরান ছিল আলী (রা)-এর অধিকারভুক্ত। তবে ইরাকের আরব সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বেশ কিছু লোক এমনও ছিল যারা আলীর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল না। অনুরূপভাবে ইরানেও ষড়যন্ত্র ও বিদ্রোহের ধারা অব্যাহত ছিল। ইরানের অগ্নি উপাসকরা এই সুযোগে তাদের হৃত রাজ্য পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছিল। কূফা ও বসরার মত দু’টি কেন্দ্রীয় শহরেও কিছু লোক এমন ছিল যারা আলী (রা)-এর পরিবর্তে বরং মুআবিয়ার প্রতিই ছিল সহানুভূতিশীল। আলী (রা) আপন বীরত্ব ও নির্ভীকতা দ্বারা অনেক কিছুই করতে চাচ্ছিলেন। তিনি চাচ্ছিলেন তাঁর খিলাফতকে ইসলামী বিশ্বের একক খিলাফতে পরিণত করতে। কিন্তু প্রধানত তাঁর সঙ্গী-সাথীরা ছিল কাপুরুষ ও অবাধ্য। ফলে তিনি আশানুরূপ কিছুই করতে পারছিলেন না। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আলী (রা)-এর বাহিনীতে ছিল অনারবদের আধিক্য, অপরদিকে মুআবিয়ার বাহিনীতে ছিল আরবদের আধিক্য। হিজায ও ইয়ামনের শাসনক্ষমতা হস্তগত করার পর আমীরে মুআবিয়ার মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।

এতদ্‌সত্ত্বেও আলী (রা)-এর ব্যক্তিত্ব, বীরত্ব ও মর্যাদা এতই উঁচু ছিল যে, তাঁর সামনে মুআবিয়া (রা) নিজেকে কিছুটা দুর্বল মনে করতেন। আর এ কারণেই তিনি সব সময় আলী (রা) সম্পর্কে আতংকিতও থাকতেন।