hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৬

রোম ও গ্রীস

ইরানী সাম্রাজ্যের মুকাবিলায় পৃথিবীর অপর সর্বাধিক শক্তিধর শক্তি ছিল রোমান সাম্রাজ্য। রোম ও গ্রীসের সভ্যতা-সংস্কৃতিও অনেক-প্রাচীন ও গৌরবোজ্জ্বল এবং তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল বিশ্বজোড়া। চিকিৎসা বিজ্ঞান, গণিতশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান, তর্কশাস্ত্র, দর্শন ও বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় পৃথিবীর অন্য কোন দেশ গ্রীসের মুকাবিলা করতে পারেনি। এদেশেই সুকরাত১, বুকরাত লুকমান, আফলাতুন এবং আরাস্তুর মত বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং সিকান্দরের মত দিগ্বিজয়ীর জন্ম হয়েছিল। গ্রীসের কায়জার, যার রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল, শুধু দেশের বাদশাহই ছিলেন না-একাধারে তিনি বাদশাহ ও ধর্মীয় নেতা বলে গণ্য হতেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানে ও জড়বাদী দিক থেকে এত উন্নতি অগ্রগতি সত্ত্বেও ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকের রোম ও গ্রীস অধঃপতনের এমনি অতল তলে চলে গিয়েছিল যে, ইরানের অধঃপতনকে তার তুলনায় বেশী বলা চলে না। ইরানের খাতকরা যেমন আত্মবিক্রি করে মহাজনদের ঋণ শোধ করতো, তেমনি গ্রীসেও ক্রীতদাস কয়েক ধরনের ছিল। তন্মধ্যে এক ধরনের ক্রীতদাস ছিল তারা যাদেরকে দেশের বাইরে নিয়ে বিক্রি করা চলতো না। কিন্তু সাধারণত ক্রীতদাসদেরকে বহির্দেশে নিয়ে ঠিক তেমনি বিক্রি করা হতো যেমনটি বিক্রি করা হতো গরু, বকরী, উট, ঘোড়া প্রভৃতি চতুষ্পদ জন্তু। মনিব ঠিক তেমনি ক্রীতদাসকে হত্যা করতে পারতো যেমনটি পারে কোন ব্যক্তি তার নিজের পশুপালের যে কোন পশুকে যখন ইচ্ছে যবেহ করতে। পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে যথেচ্ছ বিক্রি করে দিয়ে অপরের গোলাম বানিয়ে দিতে পারতো। রোম ও গ্রীসে দাসদের বিয়ে করার অধিকার ছিলো না। তাদের এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে আইনগত কোন সম্পর্ক সমাজে স্বীকৃত হতো না।

─────────────────১. টীকা : উর্দু-ফার্সী আরবী ভাষায় নামগুলো এভাবেই পরিচিত। আমাদের বাংলাভাষীরা ইংরেজি ভাষা ও সভ্যতার প্রভাবে এগুলোর ইংরেজি জানার সাথেই পরিচিতি বিধায় আমাদের কাছে এ নামগুলো হচ্ছে : ১. সক্রেটিস, ২. হিপোক্র্যাটস, ৩. প্লেটো ৪. (এরিস্টটল) ও ৫. আলেকজান্ডার—অনুবাদক।