hadith book logo

ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড

লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৫৩

হযরত নবী করীম (সাঃ)-এর আংটি

হযরত রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তাঁর মুবারক পত্রসমূহে এবং নির্দেশাদিতে যে আংটি দ্বারা ছাপ দিতেন, তা তাঁর ওফাতের পর হযরত আয়িশা (রা)-এর কাছে ছিল। হযরত সিদ্দীকে আকবর (রা) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর হযরত আয়িশা তাঁর হাতেই তা সমর্পণ করেন। হযরত সিদ্দীকে আকবর (রা)-এর পর ঐ আংটি হযরত ফারুকে আযম (রা)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফারূকে আযম (রা) যখন তার পরবর্তী খলীফা নির্বাচনের দায়িত্ব একটি উপদেষ্টা কমিটির হাতে সোপর্দ করেন, তখন ঐ আংটি হযরত রাসূলে করীম (সাঃ)-এর সহধর্মিণী হযরত হাফসা (রা)-এর কাছে আমানতস্বরূপ রেখে দেন। হযরত উসমান গনী (রা) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর হযরত হাফসা (রা) ঐ আংটি তার কাছে হস্তান্তর করেন। ঐ বছরই অর্থাৎ হিজরী ৩০ সনে মদীনা তাইয়িবা থেকে দু’ মাইল দূরবর্তী ‘বি’-রে আরীম’ নামক এক কুয়ায় ঐ আংটি হযরত উসমান গনী (রা)-এর হাত থেকে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে কুয়ার সমস্ত পানি সিঞ্চন করা হয়, তন্নতন্ন করে সর্বত্র খুঁজে দেখা হয়, কিন্তু আংটির কোন সন্ধান পাওয়া যায় নি। হযরত নবীয়ে পাকের আংটি এভাবে হারিয়ে যাওয়ায় হযরত উসমান গনী (রা) যারপরনাই ব্যথিত হন। ঘটনাচক্রে ঐ সময় থেকেই হযরত উসমান গনী (রা) নানা ধরনের বিপদ-আপদের সম্মুখীন হতে থাকেন। অবশ্য ঐ আংটি হারিয়ে যাওয়ার পর তিনি তারই হুবহু আর এক আংটি তৈরী করিয়ে নেন। ঐ বছর মসজিদে নববীতে নামাযীর সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। জুমু‘আর দিন তো এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, আযানের শব্দ সব নামাযীর কাছে পৌঁছান কষ্টকর হতে দাঁড়ায়। এ প্রেক্ষাপটে হযরত উসমান গনী (রা) নির্দেশ দেন যেন মুওয়াযযিন এক উঁচু জায়গায় আরোহণ করে খুতবার আযানের পূর্বে আর এক আযান দেন। এভাবে জুমু‘আর দিন দু’টি আযানের প্রচলন হয়। ঐ বছরই হযরত উসমান গনী (রা) সাহাবায়ে কিরামকে পরামর্শ দেন যেন তারা ইরাক ও সিরিয়ার সম্পত্তি বিক্রি করে মক্কা মুকাররম, তায়িফ প্রভৃতি জায়গায় সম্পত্তি ক্রয় করেন। বেশীর ভাগ সাহাবীই তার এ পরামর্শ গ্রহণ করেন।