১
ইসলামের ইতিহাস ১ম খণ্ড
লেখকঃ মাওলানা আকবর শাহ খান নজিববাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯০
নবী করীম (সাঃ)-এর ঐতিহাসিক ভাষণ
“আল্লাহ এক ও একক। তার কোন শরীক নেই। তিনি তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের সাহায্য করেছেন এবং সকল সম্প্রদায়কে পরাভূত করেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছে তার জন্য মক্কায় রক্তপাত করা বৈধ নয়। এখানকার কোন সবুজ বৃক্ষ কাটাও বৈধ নয়। আমি জাহিলী যুগের সমস্ত রসম-রেওয়াজ পদদলিত করেছি। কিন্তু কা‘বার আশপাশের লোক ও হাজীদেরকে যমযমের পানি পান করানোর ব্যবস্থা বহাল রাখা হবে। হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমাদেরকে আল্লাহ জাহিলী অহংকার ও বংশের গৌরব করতে নিষেধ করেছেন। সমস্ত মানুষ আদম (আ) থেকে এবং আদম (আ) মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছিলেন।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন :
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে অধিক মুত্তাকী। (৪৯:১৩)
“হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমরা কি জান, আমি তোমাদের সাথে কিরূপ আচরণ করব?”
এই প্রশ্নমূলক বাক্যটি শুনে কুরায়শ অর্থাৎ মক্কাবাসীরা বললো, “আমরা আপনার কাছে মঙ্গল প্রত্যাশা করি। কেননা, আপনি আমাদের শ্রদ্ধেয় ভ্রাতা ও শ্রদ্ধেয় ভ্রাতুষ্পুত্র!” হযরত নবী (সাঃ) এই উত্তর শুনে বললেন :
“আচ্ছা, আমিও তোমাদের সেই কথাই বলছি যা ইউসুফ (আ) তাঁর ভাইদের বলেছিলেন:
لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ اِذْهبُوْا فَاَنْتُمُ الطَّلَقَاءُ
আজ তোমাদের প্রতি কোন ভর্ৎসনা নেই; যাও তোমরা সবাই মুক্ত।
এই ভাষণ শেষ করে তিনি সাফা পর্বতে গিয়ে বসলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের উপর লোকদের বায়‘আত গ্রহণ শুরু করলেন। পুরুষদের বায়‘আত গ্রহণ শেষ করে তিনি হযরত উমর ইব্ন খাত্তাব (রা)-কে নারীদের বায়‘আত নেয়ার জন্য আদেশ করলেন এবং তিনি স্বয়ং তাদের জন্য ইসতিগফার করতে লাগলেন। সাফওয়ান ইব্ন উমাইয়া মক্কা বিজয়ের পর প্রাণের ভয়ে ইয়ামন পলায়ন করলো। ঐ গোত্রের উমায়র ইব্ন ওয়াহব (রা) নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে সাফওয়ানের জন্য আমান প্রার্থনা করলেন। তিনি তাকে আমান দিলেন এবং এই আমানের নিশ্চয়তাস্বরূপ মক্কায় প্রবেশের সময় তার মাথায় যে পাগড়িটি বাঁধা ছিল, সেটি তাকে দান করলেন। উমায়র ইব্ন ওয়াহব (রা) সাফওয়ানকে ইয়ামনের সন্নিকট থেকে ফিরিয়ে আনলেন। সে নবী করীম (সাঃ) থেকে দুমাসের সময় প্রার্থনা করলো। তিনি চার মাসের সময় দান করলেন। সাফওয়ান মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশ করার সময় বাধা দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিরোধ করতে না পেরে পলায়ন করেছিল। একই অবস্থা ইকরামা ইব্ন আবূ জাহেলেরও হলো। তাকেও নবী করীম (সাঃ) ক্ষমা করে দিলেন। এ দু’জনই হুনায়ন যুদ্ধের পর সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন :
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ
হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে অধিক মুত্তাকী। (৪৯:১৩)
“হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমরা কি জান, আমি তোমাদের সাথে কিরূপ আচরণ করব?”
এই প্রশ্নমূলক বাক্যটি শুনে কুরায়শ অর্থাৎ মক্কাবাসীরা বললো, “আমরা আপনার কাছে মঙ্গল প্রত্যাশা করি। কেননা, আপনি আমাদের শ্রদ্ধেয় ভ্রাতা ও শ্রদ্ধেয় ভ্রাতুষ্পুত্র!” হযরত নবী (সাঃ) এই উত্তর শুনে বললেন :
“আচ্ছা, আমিও তোমাদের সেই কথাই বলছি যা ইউসুফ (আ) তাঁর ভাইদের বলেছিলেন:
لَا تَثْرِيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ اِذْهبُوْا فَاَنْتُمُ الطَّلَقَاءُ
আজ তোমাদের প্রতি কোন ভর্ৎসনা নেই; যাও তোমরা সবাই মুক্ত।
এই ভাষণ শেষ করে তিনি সাফা পর্বতে গিয়ে বসলেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের উপর লোকদের বায়‘আত গ্রহণ শুরু করলেন। পুরুষদের বায়‘আত গ্রহণ শেষ করে তিনি হযরত উমর ইব্ন খাত্তাব (রা)-কে নারীদের বায়‘আত নেয়ার জন্য আদেশ করলেন এবং তিনি স্বয়ং তাদের জন্য ইসতিগফার করতে লাগলেন। সাফওয়ান ইব্ন উমাইয়া মক্কা বিজয়ের পর প্রাণের ভয়ে ইয়ামন পলায়ন করলো। ঐ গোত্রের উমায়র ইব্ন ওয়াহব (রা) নবী করীম (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে সাফওয়ানের জন্য আমান প্রার্থনা করলেন। তিনি তাকে আমান দিলেন এবং এই আমানের নিশ্চয়তাস্বরূপ মক্কায় প্রবেশের সময় তার মাথায় যে পাগড়িটি বাঁধা ছিল, সেটি তাকে দান করলেন। উমায়র ইব্ন ওয়াহব (রা) সাফওয়ানকে ইয়ামনের সন্নিকট থেকে ফিরিয়ে আনলেন। সে নবী করীম (সাঃ) থেকে দুমাসের সময় প্রার্থনা করলো। তিনি চার মাসের সময় দান করলেন। সাফওয়ান মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশ করার সময় বাধা দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিরোধ করতে না পেরে পলায়ন করেছিল। একই অবস্থা ইকরামা ইব্ন আবূ জাহেলেরও হলো। তাকেও নবী করীম (সাঃ) ক্ষমা করে দিলেন। এ দু’জনই হুনায়ন যুদ্ধের পর সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।