hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০৩

অধ্যায়- ৩ : কুরবানীর বিধিবিধান

নির্দিষ্ট দিনে কুরবানী করতে হবে :

وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِۤيْ اَيَّامٍ مَّعْلُوْمَاتٍ عَلٰى مَا رَزَقَهُمْ مِّنْ ۢبَهِيْمَةِ الْاَنْعَامِ

তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে রিযিক হিসেবে যা দান করেছেন, তার উপর নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। (সূরা হজ্জ- ২৮)

হাজীদের জন্য কা‘বার সীমানায় কুরবানী করতে হবে :

ثُمَّ مَحِلُّهَاۤ اِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيْقِ

অতঃপর তাদের কুরবানীর স্থান (নির্ধারণ করা হলো) প্রাচীন গৃহের নিকট। (সূরা হজ্জ- ৩৩)

যবেহ করার আগে পশু থেকে উপকার নেয়া যায় :

لَكُمْ فِيْهَا مَنَافِعُ اِلٰى اَجَلٍ مُّسَمًّى

তোমাদের জন্য তাতে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত উপকার রয়েছে। (সূরা হজ্জ- ৩৩)

উটকে দাঁড়ানো অবস্থায় যবেহ করতে হয় :

وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُمْ مِّنْ شَعَآئِرِ اللهِ لَكُمْ فِيْهَا خَيْرٌۗ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَيْهَا صَوَآفَّ

আমি তোমাদের জন্য উটকে বানিয়েছি আল্লাহর নিদর্শন, তাতে রয়েছে তোমাদের জন্য অনেক কল্যাণ। সুতরাং তোমরা সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান অবস্থায় তাদের উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো। (সূরা হজ্জ- ৩৬)

ব্যাখ্যা : উটকে দাঁড় করিয়ে যবেহ করা হয়। তার একটি পা বেঁধে দেয়া হয় তারপর কণ্ঠনালীতে সজোরে আঘাত করা হয়। সেখান থেকে রক্তের ধারা প্রবাহিত হতে থাকে। তারপর প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে উট মাটিতে পড়ে যায়। صَوَافَّ (সওয়াফ) বা দাঁড় করিয়ে রাখা বলতে এটিই বুঝানো হয়েছে। তারা পড়ে গিয়ে স্থির হয়ে যায় অর্থাৎ প্রাণবায়ু পুরোপুরি বের হয়ে যায়।

আল্লাহর নাম নিয়ে পশু যবেহ করতে হয় :

فَكُلُوْا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللّٰهِ عَلَيْهِ اِنْ كُنْتُمْ بِاٰيَاتِهٖ مُؤْمِنِيْنَ

অতএব যাতে আল্লাহর নাম নেয়া হয় তা হতে আহার করো, যদি তোমরা তাঁর আয়াতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাক। (সূরা আন‘আম- ১১৮)

وَلَا تَاْكُلُوْا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ وَاِنَّهٗ لَفِسْقٌ

আর যাতে আল্লাহর নাম নেয়া হয় না, তোমরা তা হতে আহার করো না। কেননা নিশ্চয় এটা ফাসিকী কাজ। (সূরা আন‘আম- ১২১)

ব্যাখ্যা : আল্লাহর নাম উচ্চারণ না করে যবেহ করলে কোন পশু হালাল হয় না। ‘‘তাদের উপর আল্লাহর নাম নাও’’ বলার অর্থ হচ্ছে, যবেহ করার শুরুতে আল্লাহর নাম নাও, তারপর যবেহ করো। এ থেকে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, ইসলামী শরীয়াতে আল্লাহর নাম না নিয়ে পশু যবেহ করার কোন অবকাশ নেই। যবেহ করার সময় بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَرُ বলার পদ্ধতি এখান থেকেই গৃহীত হয়েছে।

কুরবানীর গোশত নিজে খাবে এবং গরীবদেরকে খাওয়াবে :

فَكُلُوْا مِنْهَا وَاَطْعِمُوا الْبَآئِسَ الْفَقِيْرَ

তোমরা তা হতে আহার করো এবং দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্ত ও অভাবগ্রস্তকেও আহার করাও। (সূরা হজ্জ- ২৮)

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরবানী করতে হবে :

لَنْ يَّنَالَ اللهَ لُحُوْمُهَا وَلَا دِمَآؤُهَا وَلٰكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوٰى مِنْكُمْ

আল্লাহর নিকট তাদের গোশত ও রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, বরং তোমাদের তাক্বওয়াটাই পৌঁছায়। (সূরা হজ্জ- ৩৭)

ব্যাখ্যা : জাহেলী যুগে আরববাসীরা দেব-দেবী ও মূর্তির জন্য যেসব পশু কুরবানী দিত সেসব পশুর গোশত কা‘বাঘরের সামনে এনে রাখত এবং এর দেয়ালে রক্ত লেপটে দিত। অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আল্লাহর সামনে যে আসল জিনিস পেশ করা হয় তা পশুর গোশত ও রক্ত নয় বরং তোমাদের তাক্বওয়া। যদি তোমরা নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রবণতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে খালিস নিয়তে একমাত্র আল্লাহর জন্য কুরবানী কর, তাহলে এ নিয়ত ও আন্তরিকতা তাঁর কাছে পৌঁছে যাবে এবং এর রক্ত ও গোশত এখানেই থেকে যাবে। সুতরাং অন্তরে তাঁর বড়ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নাও এবং কাজে তার প্রকাশ ঘটাও। এগুলো যাঁর মালিকানাধীন এবং যিনি এগুলোর উপর তোমাদের কর্তৃত্ব দান করেছেন, অন্তরে ও কাজে-কর্মেও তাঁর মালিকানার স্বীকৃতি দাও।

আল্লাহ পরহেযগারদের কুরবানী কবুল করেন :

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَاَ ابْنَيْ اٰدَمَ بِالْحَقِّۘ اِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ اَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْاٰخَرِؕ قَالَ لَاَقْتُلَنَّكَؕ قَالَ اِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ

তুমি তাদেরকে আদমের দু’পুত্রের বিবরণ সঠিকভাবে বর্ণনা করো। যখন তারা কুরবানী করেছিল তখন তাদের একজনের কুরবানী কবুল করা হয়েছিল এবং অপরজনের কুরবানী কবুল করা হয়নি। সে বলল, অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করব। অপরজন বলল, আল্লাহ একমাত্র পরহেযগারদের কুরবানীই কবুল করে থাকেন। (সূরা মায়েদা- ২৭)