hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৩৯

অধ্যায়- ৬ : নবীদের প্রতি ঈমান আনয়ন

সকল নবীর প্রতি ঈমান আনা জরুরি :

لَيْسَ الْبِرَّ اَنْ تُوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْمَلَآئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّيْنَ

তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে ঘুরাও, তাতে কোন পুণ্য নেই। বরং পুণ্য রয়েছে সে ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করে। (সূরা বাক্বারা– ১৭৭)

রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না :

اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَالْمُؤْمِنُوْنَ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللهِ وَمَلَآئِكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ

রাসূল ও ঈমানদারগণ বিশ্বাস স্থাপন করেছে, যা তার রবের পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে। (তারা বলে) আমরা তাঁর রাসূলদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না। (সূরা বাক্বারা– ২৮৫)

রাসূলগণের মধ্যে পার্থক্য করা কুফরী :

اِنَّ الَّذِيْنَ يَكْفُرُوْنَ بِاللهِ وَرُسُلِهٖ وَيُرِيْدُوْنَ اَنْ يُّفَرِّقُوْا بَيْنَ اللهِ وَرُسُلِهٖ وَيَقُوْلُوْنَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَّنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَّيُرِيْدُوْنَ اَنْ يَّتَّخِذُوْا بَيْنَ ذٰلِكَ سَبِيْلًا ‐ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْكَافِرُوْنَ حَقًّاۚ وَاَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِيْنَ عَذَابًا مُّهِيْنًا

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদেরকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের মধ্যে ঈমানের ব্যাপারে তারতম্য করতে চায় এবং বলে, আমরা কতককে বিশ্বাস করি ও কতককে অস্বীকার করি। এভাবে তারা মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায়, প্রকৃতপক্ষে এরাই কাফির। আর কাফিরদের জন্য আমি লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। (সূরা নিসা– ১৫০, ১৫১)

নবীদের পথ অনুসরণ করার নির্দেশ :

اُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ هَدَى اللهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ

আল্লাহ তাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তুমি তাদের পথ অনুসরণ করো। (সূরা আন‘আম– ৯০)

নবীদের আনুগত্য করার জন্যই তাদেরকে পাঠানো হয় :

وَمَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا لِيُطَاعَ بِاِذْنِ اللهِ

আমি রাসূলদেরকে এ উদ্দেশ্যেই প্রেরণ করেছি যে, আল্লাহর নির্দেশানুসারে তাদের আনুগত্য করা হবে।

(সূরা নিসা– ৬৪)

পূর্ববর্তী নবীদের ইতিহাস মুহাম্মাদ ﷺ কে জানানোর উদ্দেশ্যে :

وَكُلًّا نَّقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ اَنْۢبَآءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهٖ فُؤَادَكَۚ وَجَآءَكَ فِيْ هٰذِهِ الْحَقُّ وَمَوْعِظَةٌ وَّذِكْرٰى لِلْمُؤْمِنِيْنَ

রাসূলদের ঐ সকল বৃত্তান্ত আমি তোমার নিকট বর্ণনা করছি, যা দ্বারা আমি তোমার অন্তরকে দৃঢ় করি। আর এ কারণেই তোমার নিকট সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও নসিহত এসেছে। (সূরা হুদু ১২০)

ব্যাখ্যা : কুরআনে আলোচিত নবীদের জীবনী থেকে আমরা যে মৌলিক শিক্ষা পাই তা হলো : (এক) পূর্বের সকল নবীই মানুষ ছিলেন, তাঁরা কোন অভিনব সৃষ্টি ছিলেন না। ইতিহাসে এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। (দুই) আজ মুহাম্মাদ ﷺ যে কাজ করছেন পূর্বের নবীগণও একই কাজ করতে এসেছিলেন। এটিই ছিল তাদের জীবনের উদ্দেশ্য ও শিক্ষা। (তিন) নবীদের সঙ্গে আল্লাহ বিশেষ ব্যবহার করেন ও বিশেষ সম্পর্ক রাখেন। তাঁরা বড় বড় বিপদের মধ্য দিয়েও সামনে এগিয়ে চলেন। বছরের পর বছর বিপদের মুখোমুখি হতে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা আল্লাহর সাহায্য ও সহায়তা লাভ করেন। তিনি তাঁদের প্রতি নিজের রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। তাঁদের দু‘আ কবুল করেন ও কষ্ট দূর করেন। তাঁদের বিরোধীদেরকে পরাজিত করেন এবং অলৌকিক পদ্ধতিতে সাহায্য করেন।

নবীদের কাহিনী শোনানোর লক্ষ্য দু’টি। (এক) এগুলো মুমিনদেরকে শোনানো হয়েছে, যাতে তারা হতাশ না হয়ে পড়ে এবং সংকটের কঠিন মুহূর্তেও ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে সত্য ও ন্যায়ের ঝান্ডা উঁচু করে রাখে এবং আল্লাহর উপর এ আস্থা রাখে যে, শেষ পর্যন্ত তাঁর সাহায্য আসবেই। অতঃপর তিনি যালিমদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং সত্যের ঝান্ডা উঁচু করে দেবেন। (দুই) এগুলো এমন যালিমদেরকেও শুনানো হয়েছে, যারা তাদের ধারণা অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলনকে সমূলে উচ্ছেদ করে দেয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় নিয়োজিত। তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর সংযম ও সহিষ্ণুতার ভুল অর্থ গ্রহণ করেছ। তোমাদের যদি এখন পর্যন্ত সীমালঙ্ঘন করার জন্য অবকাশ দেয়া হয়ে থাকে তাহলে এ কথা মনে করো না যে, এখানে কোন ইনসাফকারী শক্তিই নেই যার ফলে এ ভূখন্ডে লাগামহীনভাবে যা ইচ্ছে তাই করে যেতে পারবে। এ বিভ্রান্তিত তোমাদেরকে এমন পরিণতির সম্মুখীন করবে, ইতোপূর্বে অতীতের জাতিগুলোকে যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।