hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২৮

অধ্যায়- ১১ : আহলে কিতাবের ব্যাপারে মুসলিমদের করণীয়

তাদের অনুসরণ করা যাবে না :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِنْ تُطِيْعُوْا فَرِيْقًا مِّنَ الَّذِيْنَ اُوْتُوا الْكِتَابَ يَرُدُّوْكُمْ بَعْدَ اِيْمَانِكُمْ كَافِرِيْنَ – وَكَيْفَ تَكْفُرُوْنَ وَاَنْتُمْ تُتْلٰى عَلَيْكُمْ اٰيَاتُ اللهِ وَفِيْكُمْ رَسُوْلُهٗ وَمَنْ يَّعْتَصِمْ بِاللهِ فَقَدْ هُدِيَ اِلٰى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যদি কিতাবধারীদের কোন দলের অনুসরণ কর, তাহলে ঈমান আনার পর তারা তোমাদেরকে কাফির বানিয়ে দেবে। আর কীভাবে তোমরা আল্লাহর সাথে কুফরী করবে অথচ আল্লাহর আয়াতসমূহ তোমাদের সামনে পাঠ করা হচ্ছে এবং তোমাদের মধ্যে তাঁর রাসূলও বিদ্যমান রয়েছে। আর যে ব্যক্তিই আল্লাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে, অবশ্যই সে সৎপথে পরিচালিত হবে।

(সূরা আলে ইমরান- ১০০, ১০১)

তাদেরকে বন্ধু বানানো যাবে না :

يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِيْنَ اتَّخَذُوْا دِيْنَكُمْ هُزُوًا وَّلَعِبًا مِّنَ الَّذِيْنَ اُوْتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَالْكُفَّارَ اَوْلِيَآءَۚ وَاتَّقُوا اللهَ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ

হে মুমিনগণ! তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে হাসি-তামাশা ও ক্রীড়ার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে তোমরা তাদেরকে ও কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে আল্লাহকে ভয় করো। (সূরা মায়েদা- ৫৭)

তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে :

هَاۤ اَنْتُمْ اُولَآءِ تُحِبُّوْنَهُمْ وَلَا يُحِبُّوْنَكُمْ وَتُؤْمِنُوْنَ بِالْكِتَابِ كُلِّه ۚ وَاِذَا لَقُوْكُمْ قَالُوْاۤ اٰمَنَّاۗ وَاِذَا خَلَوْا عَضُّوْا عَلَيْكُمُ الْاَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِؕ قُلْ مُوْتُوْا بِغَيْظِكُمْؕ اِنَّ اللهَ عَلِيْمٌ ۢبِذَاتِ الصُّدُوْرِ

তোমরা তো এমনই যে, তোমরা তাদেরকে ভালোবাস, কিন্তু তারা তোমাদেরকে ভালোবাসে না। আর তোমরা (পূর্ববর্তী) সকল কিতাবের উপর ঈমান রাখ। যখন তারা তোমাদের সাথে মিলিত হয় তখন তারা বলে, আমরা তো ঈমান এনেছি। আর যখন তারা আলাদা হয়ে যায়, তখন তারা তোমাদের উপর রাগের কারণে নিজেদের আঙ্গুলের অগ্রভাগ কামড়াতে থাকে। তাদেরকে বলে দাও, তোমরা তোমাদের ক্রোধের মধ্যে মৃত্যুবরণ করো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের অন্তরের বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত আছেন।

(সূরা আলে ইমরান- ১১৯)

আহলে কিতাবকে দাওয়াত দিতে হবে :

قُلْ يَاۤ اَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا اِلٰى كَلِمَةٍ سَوَآءٍ ۢبَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ اَلَّا نَعْبُدَ اِلَّا اللهَ وَلَا نُشْرِكَ بِه شَيْئًا وَّلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا اَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللهِؕ فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقُوْلُوا اشْهَدُوْا بِاَنَّا مُسْلِمُوْنَ

বলো, হে আহলে কিতাব! তোমরা এমন একটি কালিমার দিকে এসো, যা তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে সমান। আর তা হলো, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করব না এবং তাঁর সাথে কোনকিছুকে শরীক স্থাপন করব না; আর আমাদের কেউ অপর কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ করবে না। এরপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলে দাও, তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম। (সূরা আলে ইমরান- ৬৪)

قُلْ يَاۤ اَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَكْفُرُوْنَ بِاٰيَاتِ اللهِۗ وَاللهُ شَهِيْدٌ عَلٰى مَا تَعْمَلُوْنَ

বলো, হে আহলে কিতাব! কেন তোমরা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করছ? অথচ তোমরা যা কিছু করছ আল্লাহ তার উপর সাক্ষী রয়েছেন। (সূরা আলে ইমরান- ৯৮)

يَاۤ اَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَلْبِسُوْنَ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوْنَ الْحَقَّ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ

হে আহলে কিতাব! কেন তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করছ এবং সত্যকে গোপন করছ? অথচ তোমরা (সত্যকে) জান। (সূরা আলে ইমরান- ৭১)

قُلْ يَاۤ اَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ مَنْ اٰمَنَ تَبْغُوْنَهَا عِوَجًا وَّاَنْتُمْ شُهَدَآءُ وَمَا اللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ

বলো, হে আহলে কিতাব! তোমরা বক্রতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঈমানদারদেরকে কেন আল্লাহর পথে (কাজ করতে) বাধা দিচ্ছ? অথচ তোমরাই তো এর সত্যতার সাক্ষ্যদানকারী। আর তোমরা যা কর, আল্লাহ সে ব্যাপারে গাফিল নন। (সূরা আলে ইমরান- ৯৯)

তারা ঈমান আনলে জান্নাতবাসী হবে :

وَلَوْ اَنَّ اَهْلَ الْكِتَابِ اٰمَنُوْا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَاَدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيْمِ

কিতাবধারীরা যদি ঈমান আনত ও ভয় করত, তাহলে অবশ্যই আমি তাদের দোষগুলোকে ক্ষমা করে দিতাম এবং তাদেরকে সুখময় জান্নাতে প্রবেশ করাতাম। (সূরা মায়েদা- ৬৫)