hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭

অধ্যায়- ৫ : কুরআন নিয়ে আগমনকারী ফেরেশতা

ফেরেশতাদের মধ্যে জিবরাঈল (আঃ) ওহী নিয়ে আসতেন :

قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيْلَ فَاِنَّهٗ نَزَّلَهٗ عَلٰى قَلْبِكَ بِاِذْنِ اللهِ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَّبُشْرٰى لِلْمُؤْمِنِيْنَ

(হে নবী) আপনি বলুন, কে সে ব্যক্তি যে জিবরাঈলের সাথে শত্রুতা রাখে? সে তো কুরআনকে আল্লাহর হুকুমে তোমার অন্তরে নাযিল করে, যা তাদের নিকট থাকা বিষয়সমূহের সত্যতা স্বীকার করে। আর তা মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও সুসংবাদস্বরূপ। (সূরা বাক্বারা- ৯৭)

তার উপাধি হলো রূহুল আমীন :

وَاِنَّهٗ لَتَنْزِيْلُ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ – - نَزَلَ بِهِ الرُّوْحُ الْاَمِيْنُ – - عَلٰى قَلْبِكَ لِتَكُوْنَ مِنَ الْمُنْذِرِيْنَ

নিশ্চয় কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে অবতীর্ণ। রুহুল আমীন (জিবরাঈল) এটা নিয়ে অবতরণ করেছে তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পার। (সূরা শু‘আরা, ১৯২-১৯৪)

তিনি অনেক শক্তিশালী :

عَلَّمَهٗ شَدِيْدُ الْقُوٰى – - ذُوْ مِرَّةٍ فَاسْتَوٰى

তাকে শিক্ষা দান করেন শক্তিশালী ও মহাশক্তিধর (ফেরেশতা) যিনি প্রজ্ঞাসম্পন্ন; অতঃপর (তিনি একদিন) নিজ আকৃতিতে (তার সামনে এসে) স্থির হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। (সূরা নাজম- ৫, ৬)

তিনি সম্মানিত ও আমানতদার :

اِنَّهٗ لَقَوْلُ رَسُوْلٍ كَرِيْمٍ – -ذِيْ قُوَّةٍ عِنْدَ ذِى الْعَرْشِ مَكِيْنٍ – مُطَاعٍ ثَمَّ اَمِيْنٍ

নিশ্চয় এ কুরআন সম্মানিত বার্তাবাহকের আনীত বাণী। তিনি শক্তিশালী, আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাসম্পন্ন, সেখানে তাকে মান্য করা হয় এবং সে বিশ্বাসভাজন। (সূরা তাকভীর, ১৯-২১)

জিবরাঈল (আঃ) আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ওহী নিয়ে আসতেন না :

وَمَا نَتَنَزَّلُ اِلَّا بِاَمْرِ رَبِّكَۚ لَهٗ مَا بَيْنَ اَيْدِيْنَا وَمَا خَلْفَنَا وَمَا بَيْنَ ذٰلِكَۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا

আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না; যা আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে আছে এবং যা উভয়ের মধ্যবর্তী স্থলে আছে তা তাঁরই এবং আপনার প্রতিপালক ভুলে যাওয়ার মতো নন। (সূরা মারইয়াম- ৬৪)

kv‡b byh~j : রাসূলুল্লাহ ﷺ জিবরাঈল (আঃ) কে বলেন, তুমি আমার নিকট যতবার আসো তার চেয়ে অধিকবার আসাতে তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে? তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (সহীহ বুখারী, হা/৪৭৩১)

ব্যাখ্যা : জিবরাঈল (আঃ) সাহাবী দিহয়াতুল কালবী (রাঃ) এর রূপ ধারণ করে আসতেন। আবু ওসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি, কোন এক সময় জিবরাঈল (আঃ) নবী ﷺ এর কাছে আগমন করেন। তখন উম্মে সালামা (রাঃ) তাঁর কাছে ছিলেন। জিবরাঈল (আঃ) কথা বলা আরম্ভ করলে, নবী ﷺ উম্মে সালামা (রাঃ) কে প্রশ্ন করলেন, বল তো ইনি কে? তিনি বললেন, ইনি দিহয়াতুল কালবী। তারপর জিবরাঈল (আঃ) উঠে দাঁড়ালে (উম্মে সালামা) বললেন, (আল্লাহর কসম!) যতক্ষণ পর্যন্ত না নবী ﷺ এর ভাষণে জিবরাঈল (আঃ) সম্পর্কে শুনেছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি তাঁকে দিহয়াতুল কালবী ছাড়া অন্য কেউ মনে করিনি। (সহীহ বুখারী, হা/৪৯৮০)