hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২০

অধ্যায়- ৩ : নূহ (আঃ) এর পরের এক জাতির ধ্বংসের কাহিনী

আল্লাহ এ জাতিকে সৃষ্টি করলেন :

ثُمَّ اَنْشَأْنَا مِنْ ۢبَعْدِهِمْ قَرْنًا اٰخَرِيْنَ

অতঃপর তাদের পরে অন্য এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছিলাম। (সূরা মু’মিনূন- ৩১)

তাদের নবীগণ তাদের কাছে দাওয়াত নিয়ে আসলেন :

فَاَرْسَلْنَا فِيْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْهُمْ اَنِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُمْ مِّنْ اِلٰهٍ غَيْرُهٗؕ اَفَلَا تَتَّقُوْنَ

তাদেরই একজনকে তাদের নিকট রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছিলাম। সে তাদেরকে বলেছিল, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন ইলাহ্ নেই, তবুও কি তোমরা সাবধান হবে না? (সূরা মু’মিনূন- ৩২)

জাতির সম্পদশালীরা নবীদেরকে অবহেলা করল :

وَقَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِهِ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَكَذَّبُوْا بِلِقَآءِ الْاٰخِرَةِ وَاَتْرَفْنَاهُمْ فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا مَا هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُوْنَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُوْنَ

তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ, যারা কুফরী করেছিল ও আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছিল এবং যাদেরকে আমি পার্থিব জীবনে প্রচুর ভোগ-সম্ভার দিয়েছিলাম, তারা বলেছিল, এ তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ, তোমরা যা আহার কর, সে তা-ই আহার করে এবং তোমরা যা পান কর, সেও তা-ই পান করে। (সূরা মু’মিনূন- ৩৩)

নবীর অনুসরণ থেকে জাতিকে বিরত রাখল :

وَلَئِنْ اَطَعْتُمْ بَشَرًا مِّثْلَكُمْ اِنَّكُمْ اِذًا لَّخَاسِرُوْنَ

যদি তোমরা তোমাদেরই মতো একজন মানুষের আনুগত্য করো, তবে অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (সূরা মু’মিনূন- ৩৪)

মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে অস্বীকার করল :

اَيَعِدُكُمْ اَنَّكُمْ اِذَا مِتُّمْ وَكُنْتُمْ تُرَابًا وَّعِظَامًا اَنَّكُمْ مُّخْرَجُوْنَ – هَيْهَاتَ هَيْهَاتَ لِمَا تُوْعَدُوْنَ

সে কি তোমাদেরকে এ প্রতিশ্রুতিই দেয় যে, তোমাদের মৃত্যু হলে এবং তোমরা মাটি ও হাড্ডিতে পরিণত হলেও তোমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে? তোমাদেরকে যে বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা অসম্ভব। (সূরা মু’মিনূন- ৩৫, ৩৬)

তারা দুনিয়ার জীবনকেই শেষ জীবন মনে করল :

اِنْ هِيَ اِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوْتُ وَنَحْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوْثِيْنَ

একমাত্র পার্থিব জীবনই আমাদের জীবন, আমরা জীবিত থাকি অথবা মৃত্যুবরণ করি তা এখানেই; আর আমরা কখনো উত্থিত হব না। (সূরা মু’মিনূন- ৩৭)

নবীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিল :

اِنْ هُوَ اِلَّا رَجُلُ نِ افْتَرٰى عَلَى اللهِ كَذِبًا وَّمَا نَحْنُ لَهٗ بِمُؤْمِنِيْنَ

(তারা বলল) সে তো এমন ব্যক্তি যে আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে; আর আমরা তো তাকে বিশ্বাস করি না। (সূরা মু’মিনূন- ৩৮)

নবী আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলেন :

قَالَ رَبِّ انْصُرْنِيْ بِمَا كَذَّبُوْنِ

নবী বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সাহায্য করো, কারণ তারা আমাকে মিথ্যারোপ করেছে। (সূরা মু’মিনূন- ৩৯)

আল্লাহ সতর্কবাণী জানিয়ে দিলেন :

قَالَ عَمَّا قَلِيْلٍ لَّيُصْبِحُنَّ نَادِمِيْنَ

তিনি (আল্লাহ) বললেন, অচিরেই তারা অনুতপ্ত হবে। (সূরা মু’মিনূন- ৪০)

মুহূর্তের মধ্যে সবাই ধ্বংস হয়ে গেল :

فَاَخَذَتْهُمُ الصَّيْحَةُ بِالْحَقِّ فَجَعَلْنَاهُمْ غُثَآءً فَبُعْدًا لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِيْنَ

অতঃপর সত্য সত্যই এক বিকট আওয়াজ তাদেরকে আঘাত করল এবং আমি তাদেরকে আবর্জনার মতো করে দিলাম। সুতরাং ধ্বংস হয়ে গেল যালিম সম্প্রদায়। (সূরা মু’মিনূন- ৪১)