hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২৬

অধ্যায়- ৬ : আল্লাহর আইন মানা জরুরি হওয়ার কারণ

মানুষের জ্ঞান অসম্পূর্ণ :

وَاللهُ يَعْلَمُ وَاَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ

মূলত আল্লাহই জানেন এবং তোমরা জান না। (সূরা বাক্বারা- ২১৬)

সারা বিশ্বের বাদশা হলেন আল্লাহ :

تَبَارَكَ الَّذِيْ بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

বরকতময় সেই সত্তা, যাঁর হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব; তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। (সূরা মুলক- ১)

পৃথিবীর সবকিছুই আল্লাহর আইন মানে :

اَفَغَيْرَ دِيْنِ اللهِ يَبْغُوْنَ وَلَهٗۤ اَسْلَمَ مَنْ فِى السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ طَوْعًا وَّكَرْهًا وَّاِلَيْهِ يُرْجَعُوْنَ

আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থা বাদ দিয়ে তারা কি অন্য কিছুর সন্ধান করে, অথচ আকাশ এবং পৃথিবীতে যা আছে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সবই তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। (অবশেষে) তাদেরকে তাঁর দিকেই ফিরিয়ে নেয়া হবে। (সূরা আলে ইমরান- ৮৩)

আইন প্রণয়নের অধিকার একমাত্র আল্লাহর :

قُلْ اِنَّ الْاَمْرَ كُلَّهٗ لِلّٰهِ

বলো, সকল নির্দেশ আল্লাহর (নিয়ন্ত্রণে)। (সূরা আলে ইমরান- ১৫৪)

اِنِ الْحُكْمُ اِلَّا لِلّٰهِ يَقُصُّ الْحَقَّ وَهُوَ خَيْرُ الْفَاصِلِيْنَ

কর্তৃত্ব তো আল্লাহরই, তিনি সত্য বিবৃত করেন; আর ফায়সালাকারীদের মধ্যে তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ। (সূরা আন‘আম- ৫৭)

মানুষকে আইন তৈরির অধিকার দেয়া হয়নি :

وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَا تَصِفُ اَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هٰذَا حَلَالٌ وَّهٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوْا عَلَى اللهِ الْكَذِبَؕ اِنَّ الَّذِيْنَ يَفْتَرُوْنَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُوْنَ

তোমাদের জিহ্বা দ্বারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে এসব কথা বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে, তারা সফলকাম হয় না। (সূরা নাহল- ১১৬)

পূর্ববর্তী নবীরা আল্লাহর আইন দিয়ে বিচার করতেন :

اِنَّاۤ اَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيْهَا هُدًى وَّنُوْرٌۚ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّوْنَ الَّذِيْنَ اَسْلَمُوْا لِلَّذِيْنَ هَادُوْا وَالرَّبَّانِيُّوْنَ وَالْاَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوْا مِنْ كِتَابِ اللهِ وَكَانُوْا عَلَيْهِ شُهَدَآءَۚ فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُوْا بِاٰيَاتِيْ ثَمَنًا قَلِيْلًاؕ وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْكَافِرُوْنَ

আমি তো অবতীর্ণ করেছিলাম তাওরাত, যাতে ছিল হেদায়াত ও আলো। এর মাধ্যমে আল্লাহর অনুগত নবী, দরবেশ ও আলিমরা ইয়াহুদিদের মধ্যে মীমাংসা করে দিত। কেননা তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের হেফাজতের আদেশ প্রদান করা হয়েছিল, আর তারা ছিল তার সাক্ষী। অতএব তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো এবং আমার আয়াতসমূহকে সামান্য মূল্যে বিক্রি করে দিয়ো না। আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা মীমাংসা করে না, তারা কাফির। (সূরা মায়েদা- ৪৪)

وَقَفَّيْنَا عَلٰۤى اٰثَارِهِمْ بِعِيْسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَاٰتَيْنَاهُ الْاِنْجِيْلَ فِيْهِ هُدًى وَّنُوْرٌ وَّمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَهُدًى وَّمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِيْنَ ‐ وَلْيَحْكُمْ اَهْلُ الْاِنْجِيْلِ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فِيْهِؕ وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَاسِقُوْنَ

আমি তাদের পরে পাঠিয়েছিলাম ঈসা ইবনে মারইয়ামকে, তিনি ছিলেন তাদের নিকট (অবস্থিত) তাওরাতে যা কিছু ছিল তার সত্যতা প্রমাণকারী। আমি তাকে দিয়েছিলাম ইঞ্জিল, তাতে ছিল হেদায়াত ও আলো। আর তা ছিল তাদের সামনে তাওরাতে যা কিছু ছিল তার সমর্থক এবং মুত্তাক্বীদের জন্য হেদায়াত ও উপদেশ। (এটা এজন্য অবতীর্ণ করা হয়েছে যে) আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন ইঞ্জিলের অনুসারীরা যেন সে অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করে। আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন যারা সে অনুযায়ী মীমাংসা করে না, তারা তো ফাসিক। (সূরা মায়েদা- ৪৬, ৪৭)

উম্মতে মুহাম্মাদীকেও কুরআন দিয়ে বিচার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে :

وَاَنْزَلْنَاۤ اِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ وَلَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَهُمْ عَمَّا جَآءَكَ مِنَ الْحَقِّؕ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَّمِنْهَاجًا

আমি আপনার উপর অবতীর্ণ করেছি সত্যসহ এ কিতাব, যা পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং তার সংরক্ষণকারী। সুতরাং আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সত্য এসেছে তা ত্যাগ করে তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য শরীয়াত ও পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। (সূরা মায়েদা- ৪৮)

اِنَّاۤ اَنْزَلْنَاۤ اِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَاۤ اَرَاكَ اللهُ وَلَا تَكُنْ لِّلْخَآئِنِيْنَ خَصِيْمًا

আমি তো তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে আল্লাহ তোমাকে যা জানিয়েছেন সে অনুসারে মানুষের মধ্যে বিচার-ফায়সালা করতে পার। আর তুমি বিশ্বাসভঙ্গকারীদের সমর্থনে তর্ক করো না। (সূরা নিসা- ১০৫)

আল্লাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা না করার পরিণাম ভয়াবহ :

وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْكَافِرُوْنَ

আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন যারা সে অনুসারে মীমাংসা করে না তারা কাফির। (সূরা মায়েদা- ৪৪)

وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ

আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন যারা সে অনুযায়ী মীমাংসা করে না তারা অত্যাচারী। (সূরা মায়েদা- ৪৫)

وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْفَاسِقُوْنَ

আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন যারা সে অনুযায়ী বিচার করে না তারা ফাসিক। (সূরা মায়েদা- ৪৭)

যারা কিছু মানে আর কিছু মানে না- তারা শাস্তি পাবে :

اَفَتُؤْمِنُوْنَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُوْنَ بِبَعْضٍۚ فَمَا جَزَآءُ مَنْ يَّفْعَلُ ذٰلِكَ مِنْكُمْ اِلَّا خِزْيٌ فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَاۚ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّوْنَ اِلٰۤى اَشَدِّ الْعَذَابِؕ وَمَا اللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُوْنَ

তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশ অস্বীকার কর? অতএব তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের পার্থিব জীবনে দুর্গতি ব্যতীত কিছুই নেই। কিয়ামত দিবসে তারা কঠোর শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। আর তোমরা যা করছ আল্লাহ সে বিষয়ে অমনোযোগী নন। (সূরা বাক্বারা- ৮৫)

আল্লাহর আইনে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই :

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَّلَا مُؤْمِنَةٍ اِذَا قَضَى اللهُ وَرَسُوْلُهٗۤ اَمْرًا اَنْ يَّكُوْنَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ اَمْرِهِمْؕ وَمَنْ يَّعْصِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِيْنًا

কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য এ অবকাশ নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন কোন ফায়সালা দেন, তখন সে ব্যাপারে তাদের কোন নিজস্ব সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করল, সে তো প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হলো। (সূরা আহযাব- ৩৬)