hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৫

অধ্যায়- ৩ : কুরআনের পরিচয়

قُرْاٰنٌ (কুরআন) শব্দটি قَرَءَ ক্রিয়াপদের শব্দমূল। এর আসল অর্থ হচ্ছে- পড়া, অধ্যয়ন করা ইত্যাদি। শব্দমূলকে যখন কোন নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয় তখন সংশ্লিষ্ট জিনিসটির মধ্যে শব্দমূলের অর্থ পুরোপুরি পাওয়া যায়। কাজেই এ কিতাবের নাম ‘কুরআন’ রাখার অর্থ হচ্ছে, এ কিতাব সকলের পড়ার জন্য এবং এটা বেশি বেশি করে পঠিত হওয়ার জিনিস। পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোতে যেসব সত্য শিক্ষা ছিল কুরআন তার সবগুলোই নিজের মধ্যে সংরক্ষিত করে নিয়েছে। কুরআন সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকারী এ হিসেবে যে, এখন তাদের এ সত্য শিক্ষাগুলোর কোন অংশ নষ্ট হওয়ার আর সম্ভাবনা নেই। কুরআন সেগুলোর সমর্থক এ অর্থে যে, ঐ কিতাবগুলোতে যেসব বিষয় রয়েছে কুরআন তার সত্যতা প্রমাণ করে। কুরআন সেগুলোর উপর সাক্ষ্যদানকারী এ অর্থে যে, ঐ কিতাবগুলোতে আল্লাহর কালাম ও মানুষের বাণীর মধ্যে যে মিশ্রণ ঘটে গেছে কুরআনের সাক্ষ্যের মাধ্যমে তাকে আবার ছেঁটে আলাদা করা যেতে পারে। সেগুলোর মধ্যে যেগুলো কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যশীল বুঝতে হবে তা আল্লাহর কালাম। আর যেগুলো কুরআন বিরোধী সেগুলো মানুষের কথা।

কুরআনের মূল উৎস হচ্ছে ‘লাওহে মাহফুজ’ :

بَلْ هُوَ قُرْاٰنٌ مَّجِيْدٌ – فِيْ لَوْحٍ مَّحْفُوْظٍ

এটা অতি উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন কুরআন, যা লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে) লিপিবদ্ধ আছে। (সূরা বুরুজ- ২১, ২২)

সূরা যুখরুফে এটাকে ‘উম্মুল কিতাব’ বলা হয়েছে :

- وَاِنَّهٗ فِۤيْ اُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيْمٌ

আর এটা রয়েছে আমার নিকট উম্মুল কিতাবে (লাওহে মাহফুজে) যা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা যুখরুফ- ৪)

সূরা ওয়াক্বিয়ায় একে ‘কিতাবুম মাকনূন’ বলা হয়েছে :

اِنَّهٗ لَقُرْاٰنٌ كَرِيْمٌ – فِيْ كِتَابٍ مَّكْنُوْنٍ -

নিশ্চয় এটা সম্মানিত কুরআন, যা রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে। (সূরা ওয়াক্বিয়া- ৭৭, ৭৮)

ফেরেশতা ছাড়া কেউ এর সংস্পর্শে যেতে পারে না :

لَا يَمَسُّهٗۤ اِلَّا الْمُطَهَّرُوْنَ

পুতঃপবিত্র আত্মা (ফেরেশতা) ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করে না। (সূরা ওয়াক্বিয়া- ৭৯)

ফেরেশতারা এর লেখা-লেখির কাজ করে থাকে :

كَلَّاۤ اِنَّهَا تَذْكِرَةٌ – فَمَنْ شَآءَ ذَكَرَهٗ -– فِيْ صُحُفٍ مُّكَرَّمَةٍ -– مَرْفُوْعَةٍ مُّطَهَّرَةٍ – بِاَيْدِيْ سَفَرَةٍ - – كِرَامٍ ۢبَرَرَةٍ

কখনও নয়, এটা তো উপদেশবাণী; যে ইচ্ছা করে সে এটা স্মরণ রাখবে, এটা সম্মানিত কিতাবে (লাওহ মাহফুজে) লিপিবদ্ধ আছে, যা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও পবিত্র। এটা এমন লেখকদের হাতে থাকে যারা সম্মানিত ও সৎ। (সূরা আবাসা, ১১-১৬)