hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪২৭

অধ্যায়- ১০ : আহলে কিতাবের অসৎলোকদের চরিত্র

তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে গুরুত্ব দেয় না :

وَلَمَّا جَآءَهُمْ رَسُوْلٌ مِّنْ عِنْدِ اللهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيْقٌ مِّنَ الَّذِيْنَ اُوْتُوا الْكِتَابَۗ كِتَابَ اللهِ وَرَآءَ ظُهُوْرِهِمْ كَاَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُوْنَ

যখন আল্লাহর নিকট হতে তাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়নকারী রাসূল তাদের নিকট আগমন করল, তখন যাদেরকে গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদের একদল আল্লাহর গ্রন্থকে নিজেদের পশ্চাতে নিক্ষেপ করে দিল, যেন তারা কিছুই জানে না। (সূরা বাক্বারা- ১০১)

তারা মুসলিমদের কিবলাকে মেনে নিতে চায় না :

وَلَئِنْ اَتَيْتَ الَّذِيْنَ اُوْتُوا الْكِتَابَ بِكُلِّ اٰيَةٍ مَّا تَبِعُوْا قِبْلَتَكَۚ وَمَاۤ اَنْتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْۚ وَمَا بَعْضُهُمْ بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ

যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে তাদের নিকট যদি তুমি সকল নিদর্শন আনয়ন কর, তবুও তারা তোমার কিবলাকে গ্রহণ করবে না এবং তুমিও তাদের কিবলাকে গ্রহণ করতে পার না। কেননা তারা পরস্পর একে অপরের কিবলার অনুসারী। (সূরা বাক্বারা- ১৪৫)

তারা মুহাম্মাদ ﷺ কে চেনা সত্ত্বেও বিশ্বাস করেনি :

اَلَّذِيْنَ اٰتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُوْنَهٗ كَمَا يَعْرِفُوْنَ اَبْنَآءَهُمُ الَّذِيْنَ خَسِرُوْاۤ اَنْفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُوْنَ

আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি তারা তাকে সেরূপ চেনে, যেরূপ চেনে তাদের সন্তানদেরকে। যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, অথচ তারা ঈমান আনয়ন করছে না। (সূরা আন‘আম- ২০)

তারা আযান নিয়ে ঠাট্টা করে :

وَاِذَا نَادَيْتُمْ اِلَى الصَّلَاةِ اتَّخَذُوْهَا هُزُوًا وَّلَعِبًاؕ ذٰلِكَ بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْقِلُوْنَ

তোমরা যখন সালাতের জন্য আহবান কর তখন তারা তাকে হাসি-তামাশা ও ক্রীড়ার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে। এটা এজন্য যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের কোন বোধশক্তি নেই। (সূরা মায়েদা- ৫৮)

মুসলিমদেরকে দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে চায় :

وَدَّ كَثِيْرٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّوْنَكُمْ مِّنْ ۢبَعْدِ اِيْمَانِكُمْ كُفَّارًاۚ حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ اَنْفُسِهِمْ مِّنْ ۢبَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّۚ فَاعْفُوْا وَاصْفَحُوْا حَتّٰى يَاْتِيَ اللهُ بِاَمْرِه ؕ اِنَّ اللهَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

আহলে কিতাবের অনেকে তাদের প্রতি সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরও তারা তাদের অন্তর্নিহিত বিদ্বেষের কারণে তোমাদেরকে ঈমান আনার পরে মুরতাদ বানাতে ইচ্ছে করে। সুতরাং আল্লাহর নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তোমরা (তাদেরকে) ক্ষমা করো ও উপেক্ষা করতে থাকো, নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। (সূরা বাক্বারা- ১০৯)

ব্যাখ্যা : এখানে মুসলিমদেরকে উপদেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে, তাদের হিংসা ও বিদ্বেষ দেখে উত্তেজিত হয়ো না। নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলো না। তাদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করে নিজের মূল্যবান সময় ও মর্যাদা নষ্ট করো না। বরং ধৈর্যধারণ করে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে থাকো। আর লক্ষ্য করো যে, আল্লাহ তাদের সাথে কি ব্যবহার করেন। অনর্থক কাজে নিজের শক্তি ক্ষয় না করে আল্লাহর যিকির ও সৎকাজে সময় ব্যয় করো। এগুলোই আল্লাহর কাছে কাজে লাগবে। আল্লাহর কাছে ঐ অনর্থক কাজগুলোর কোন মূল্য নেই।

তারা মুসলিমদেরকে পথভ্রষ্ট করতে চেষ্টা করে :

وَدَّتْ طَّآئِفَةٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يُضِلُّوْنَكُمْؕ وَمَا يُضِلُّوْنَ اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُوْنَ

আহলে কিতাবের একদল তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে চায়; কিন্তু তারা নিজেদেরকে ব্যতীত অন্য কাউকে পথভ্রষ্ট করে না। অথচ (তারা) তা অনুভব করে না। (সূরা আলে ইমরান- ৬৯)

তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে চালবাজি করে :

وَقَالَتْ طَّآئِفَةٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِتَابِ اٰمِنُوْا بِالَّذِيْۤ اُنْزِلَ عَلَى الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوْاۤ اٰخِرَهٗ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُوْنَ

আহলে কিতাবের একদল বলে, ঈমানদারদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে দিনের প্রথমভাগে তা বিশ্বাস করো এবং দিনের শেষভাগে তা অস্বীকার করো, যাতে করে তারা ইসলাম থেকে ফিরে আসে। (সূরা আলে ইমরান- ৭২)

ব্যাখ্যা : খায়বারের কতিপয় ইয়াহুদি পরস্পর পরামর্শ করল যে, দিনের প্রথমভাগে কুরআনের প্রতি ঈমান এনে সন্ধ্যাকালে ফিরে যাও এবং প্রচার করো যে, তাওরাতে শেষ নবী সম্পর্কে যেসব নিদর্শন দেখেছি, মুহাম্মাদের মধ্যে তা নেই। এ কারণেই আমরা ইসলাম গ্রহণ করেও ত্যাগ করেছি। এ ষড়যন্ত্রের ফলে মুসলিমরা মনে করবে, এরাও সত্য কিতাবেরই অনুসারী। হয়তো আমাদের ধর্মে প্রবেশ করে এমন কোন ভুল পেয়েছে, যার কারণে তারা এ ধর্ম ত্যাগ করেছে। ফলে তারা হয়তো ইসলাম ত্যাগ করে ইয়াহুদি হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা নবী ﷺ কে তাদের এ ষড়যন্ত্রের কথা জানিয়ে এ আয়াতটি নাযিল করেন।

তারা মুসলিমদেরকে কষ্ট দেয় :

لَتُبْلَوُنَّ فِۤيْ اَمْوَالِكُمْ وَاَنْفُسِكُمْ وَلَتَسْمَعُنَّ مِنَ الَّذِيْنَ اُوْتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَمِنَ الَّذِيْنَ اَشْرَكُوْاۤ اَذًى كَثِيْرًاؕ وَاِنْ تَصْبِرُوْا وَتَتَّقُوْا فَاِنَّ ذٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُوْرِ

অবশ্যই তোমরা তোমাদের ধনসম্পদ ও তোমাদের জীবনসমূহের দ্বারা পরীক্ষিত হবে এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে ও যারা শিরক করেছে, তাদের নিকট হতে তোমাদেরকে বহু দুঃখজনক বাক্য শুনতে হবে। অতএব যদি তোমরা ধৈর্যধারণ কর ও সংযমী হও, তবে অবশ্যই এটা সুদৃঢ় কার্যাবলির অন্তর্গত হবে। (সূরা আলে ইমরান- ১৮৬)

তারা জাহান্নামে যাবে :

اِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِيْنَ فِي ْنَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِيْنَ فِيْهَاؕ اُوْلٰٓئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ

আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফির, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে; আর তারাই সৃষ্টির সবচেয়ে অধম। (সূরা বায়্যিনাহ- ৬)