hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪৭

পর্ব- ৪৩ : আখিরাত অধ্যায়- ১ : আখিরাতের বাস্তবতা

দুনিয়ার চেয়ে আখিরাত অনেক উত্তম :

اَرَضِيْتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْاٰخِرَةِۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِى الْاٰخِرَةِ اِلَّا قَلِيْلٌ

তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে পার্থিব জীবনে সন্তুষ্ট হয়ে আছ? অথচ আখিরাতের তুলনায় পার্থিব জীবনের ভোগের উপকরণ খুবই সামান্য! (সূরা তাওবা- ৩৮)

وَلَدَارُ الْاٰخِرَةِ خَيْرٌؕ وَلَنِعْمَ دَارُ الْمُتَّقِيْنَ

আখিরাতের আবাস আরো উৎকৃষ্ট; মুত্তাক্বীদের আবাসস্থল কতই না উত্তম! (সূরা নাহল- ৩০)

ব্যাখ্যা : আখিরাতের অনন্ত জীবন ও সেখানকার সীমাহীন সাজ সরঞ্জাম দেখার পর মানুষ জানতে পারবে যে, দুনিয়ার সামান্য জীবনকালে ভোগের যে বড় বড় সামগ্রী তাদের করায়ত্ব ছিল, তা আখিরাতের তুলনায় কিছুই নয়। তখন তারা আফসোস করতে থাকবে যে, দুনিয়ার তুচ্ছ ও ক্ষণস্থায়ী লাভের মোহে কেন এ চিরন্তন ও বিপুল পরিমাণ লাভ থেকে নিজেদেরকে বঞ্চিত করে রেখেছিল। দুনিয়ার জীবনের সামগ্রী আখিরাতে কোন কাজে লাগবে না। এখানে তারা যতই ঐশ্বর্য সংগ্রহ করুক না কেন, শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সাথে সাথেই সবকিছু থেকে হাত গুটিয়ে নিতে হবে। এখানকার জিনিসের যে অংশটুকু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য কুরবানী করা হবে এবং যে জিনিসের ভালোবাসার উপর আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনের ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেয়া হবে, একমাত্র সে অংশই সেখানে কাজে লাগবে।

আখিরাতের জীবনই প্রকৃত জীবন :

وَمَا هٰذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ اِلَّا لَهْوٌ وَّلَعِبٌ وَّاِنَّ الدَّارَ الْاٰخِرَةَ لَهِيَ الْحَيَوَانُ لَوْ كَانُوْا يَعْلَمُوْنَ

এ পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতীত আর কিছুই নয়। নিশ্চয় পরলৌকিক জীবনই প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত! (সূরা আনকাবূত- ৬৪)

ব্যাখ্যা : এখানে আল্লাহ আখিরাতের জন্য اَلدَّارُ (আদদার) বা ঘর শব্দ ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে এখানে এ সত্যটি বুঝানোই উদ্দেশ্য যে, এ দুনিয়া মানুষের আসল বাসস্থান নয় বরং এটি নিছক একটি অতিক্রম করার জায়গা এবং একটি মুসাফিরখানা। এখান থেকে মানুষকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে। আসল ঘর হচ্ছে আখিরাতের ঘর। যে ব্যক্তি সেটাকে সুসজ্জিত করার চিন্তা করে সে-ই দূরদৃষ্টির অধিকারী। অন্যদিকে যে ব্যক্তি এ মুসাফিরখানায় নিজের সামান্য কয়েক দিনের অবস্থানস্থলকে সুসজ্জিত করার জন্য কাজ করে এবং আখিরাতের আসল ঘর বিনষ্ট করে ফেলে, তাকে কখনো বুদ্ধিমান বলা যায় না।

আখিরাতের মর্যাদা অনেক বেশি :

وَلَلْاٰخِرَةُ اَكْبَرُ دَرَجَاتٍ وَّاَكْبَرُ تَفْضِيْلًا

নিশ্চয় আখিরাত মর্যাদায় বড় ও গুণে শ্রেষ্ঠ। (সূরা বনী ইসরাঈল- ২১)

আল্লাহ মানুষকে পরকালমুখী করতে চান :

تُرِيْدُوْنَ عَرَضَ الدُّنْيَاۗ وَاللهُ يُرِيْدُ الْاٰخِرَةَؕ وَاللهُ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ

তোমরা কামনা কর পার্থিব সম্পদ, আর আল্লাহ কামনা করেন পরকালের কল্যাণ; আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা আনফাল- ৬৭)

মানুষ আখিরাতের চিন্তা ছেড়ে দিয়েছে :

كَلَّا بَلْ تُحِبُّوْنَ الْعَاجِلَةَ – وَتَذَرُوْنَ الْاٰخِرَةَ

কখনো না, বরং তোমরা (দুনিয়াকে) দ্রুত লাভ করাকেই ভালোবাস এবং আখিরাতকে উপেক্ষা কর। (সূরা ক্বিয়ামাহ- ২০, ২১)

অধিকাংশ লোকই আখিরাতকে অস্বীকার করে :

وَاِنَّ كَثِيْرًا مِّنَ النَّاسِ بِلِقَآءِ رَبِّهِمْ لَكَافِرُوْنَ

অনেক মানুষই তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করে। (সূরা রূম- ৮)

তারা আখিরাতের ব্যাপারে উদাসীন :

وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ – يَعْلَمُوْنَ ظَاهِرًا مِّنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَاۚ وَهُمْ عَنِ الْاٰخِرَةِ هُمْ غَافِلُوْنَ

অধিকাংশ মানুষ (প্রকৃত অবস্থা) জানে না। তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক অবস্থাটুকুই জানে, কিন্তু তারা পরকাল সর্ম্পকে সম্পূর্ণ উদাসীন। (সূরা রূম- ৬, ৭)