১
তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৩৩
অধ্যায়- ১৬ : মূসা (আঃ) ও ফিরাউনের মধ্যে যাদুর প্রতিযোগিতা
ফিরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, এ নবী যাদুকর :
قَالَ لِلْمَلَاِ حَوْلَهٗۤ اِنَّ هٰذَا لَسَاحِرٌ عَلِيْمٌ
ফিরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, এ তো এক সুদক্ষ যাদুকর। (সূরা শু‘আরা– ৩৪)
সে তাদের সাথে পরামর্শ করল :
قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ اِنَّ هٰذَا لَسَاحِرٌ عَلِيْمٌ ‐ يُرِيْدُ اَنْ يُّخْرِجَكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْۚ فَمَاذَا تَأْمُرُوْنَ
ফিরাউন সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলল, এ তো একজন সুদক্ষ যাদুকর, সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বহিষ্কৃত করতে চায়; এখন তোমরা কী পরামর্শ দাও? (সূরা আ‘রাফ- ১০৯, ১১০)
তারা যাদুর প্রতিযোগিতার পরামর্শ দিল :
قَالُوْاۤ اَرْجِهْ وَاَخَاهُ وَاَرْسِلْ فِى الْمَدَآئِنِ حَاشِرِيْنَ ‐ يَأْتُوْكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيْمٍ
তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে সামান্য পরিমাণ অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সমবেতকারী পাঠাও, যেন তারা তোমার নিকট প্রতিটি সুদক্ষ যাদুকরকে উপস্থিত করে। (সূরা আ‘রাফু ১১১, ১১২)
মূসা (আঃ) মু‘জিযাকে যাদু মনে করার পরিণাম জানিয়ে দিলেন :
قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰى وَيْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوْا عَلَى اللهِ كَذِبًا فَيُسْحِتَكُمْ بِعَذَابٍۚ وَقَدْ خَابَ مَنِ افْتَرٰى
মূসা তাদেরকে বলল, দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করো না। অন্যথায় তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দ্বারা সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। তাছাড়া (ইতোপূর্বে) যে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে সেই ব্যর্থ হয়েছে। (সূরা ত্বা–হা– ৬১)
এতে কেউ কেউ পিছপা হয়ে গেল :
فَتَنَازَعُوْاۤ اَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ وَاَسَرُّوا النَّجْوٰى
তারা নিজেদের মধ্যে নিজেদের কর্ম সম্বন্ধে বিতর্ক করল এবং গোপনে পরামর্শ করল। (সূরা ত্বা–হা– ৬২)
চরমপন্থিরা মূসা (আঃ) এর উপর মিথ্যারোপ করল :
قَالُوْاۤ اِنْ هٰذَانِ لَسَاحِرَانِ يُرِيْدَانِ اَنْ يُّخْرِجَاكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِمَا وَيَذْهَبَا بِطَرِيْقَتِكُمُ الْمُثْلٰى
তারা বলল, অবশ্যই এ দু’জন যাদুকর, তারা চায় তাদের যাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বহিষ্কৃত করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে। (সূরা ত্বা–হা– ৬৩)
ব্যাখ্যা : মূসা (আঃ) এর বিজয় দেশের কর্তৃত্ব ক্ষমতা তোমাদের হস্তচ্যুত হওয়া এবং তোমাদের আদর্শ জীবন যাপন পদ্ধতির অপমৃত্যুর নামান্তর। তারা দেশের প্রভাবশালী শ্রেণিকে ভয় দেখাচ্ছিল এই বলে যে, মূসা (আঃ) যদি দেশের কর্তৃত্ব লাভ করতে পারে তাহলে তোমাদের এ শিল্প, চারুকলা, মোহময় সংস্কৃতি এবং তোমাদের নারী স্বাধীনতাসহ সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে, যেগুলো ছাড়া জীবনের সুখ ও আনন্দ উপভোগই করা যায় না।
তারা প্রতিযোগিতার দিকে এগিয়ে আসল :
فَاَجْمِعُوْا كَيْدَكُمْ ثُمَّ ائْتُوْا صَفًّاۚ وَقَدْ اَفْلَحَ الْيَوْمَ مَنِ اسْتَعْلٰى
অতএব তোমরা তোমাদের যাদুক্রিয়া সঙ্ঘবদ্ধ করো এবং সারিবদ্ধ হয়ে উপস্থিত হও। অতঃপর আজ যে বিজয়ী হবে সেই সফলকাম হবে। (সূরা ত্বা–হা– ৬৪)
ব্যাখ্যা : অর্থাৎ এদের মুকাবিলায় একটি ঐক্যবদ্ধ দল গঠন করো। নতুবা এ সময় যদি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক বিবাদ দেখা দেয় এবং প্রতিযোগিতার মুহূর্তে সাধারণ জনতার সামনে তোমাদের মধ্যে কানাকানি ও ইতস্তত ভাব চলতে থাকে, তাহলে এখনই তোমাদের পরাজয় বহন করতে হবে।
ফিরাউন দক্ষ যাদুকরদেরকে আনতে বলল :
وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُوْنِيْ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيْمٍ
ফিরাউন বলল, তোমরা আমার নিকট সকল সুদক্ষ যাদুকরকে নিয়ে এসো। (সূরা ইউনুস– ৭৯)
যাদুকরদের একত্র করা হলো :
فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِيْقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُوْمٍ
অতঃপর এক নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদেরকে একত্র করা হলো। (সূরা শু‘আরা– ৩৮)
ফিরাউন সব কৌশল ঠিক করে মুকাবিলায় আসল :
فَتَوَلّٰى فِرْعَوْنُ فَجَمَعَ كَيْدَهٗ ثُمَّ اَتٰى
অতঃপর ফিরাউন উঠে গেল এবং পরে তার কৌশলসমূহ একত্র করল, তারপর আসল। (সূরা ত্বা–হা– ৬০)
যাদুকররা পুরস্কার দাবী করল :
وَجَآءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوْاۤ اِنَّ لَنَا لَاَجْرًا اِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِيْنَ
যাদুকররা ফিরাউনের নিকট এসে বলল, আমরা যদি বিজয়ী হই তবে আমাদের জন্য পুরস্কার থাকবে তো? (সূরা আ‘রাফু ১১৩)
ফিরাউন আরো অতিরিক্ত লোভ দেখাল :
قَالَ نَعَمْ وَاِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِيْنَ
সে বলল, হ্যাঁ! অবশ্যই তোমরা আমার সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা আ‘রাফু ১১৪)
ফিরাউন মূসা (আঃ) কে সময় ও স্থান ঠিক করতে বলল :
فَلَنَأْتِيَنَّكَ بِسِحْرٍ مِّثْلِهٖ فَاجْعَلْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ مَوْعِدًا لَّا نُخْلِفُهٗ نَحْنُ وَلَاۤ اَنْتَ مَكَانًا سُوًى
আমরাও অবশ্যই তোমার নিকট অনুরূপ যাদু উপস্থিত করব। সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় এবং একটি মধ্যবর্তী স্থান নির্ধারণ করো, যার ব্যতিক্রম আমরাও করব না এবং তুমিও করবে না। (সূরা ত্বা–হা– ৫৮)
তিনি মেলার দিন সকাল বেলা সময় ঠিক করলেন :
قَالَ مَوْعِدُكُمْ يَوْمُ الزِّيْنَةِ وَاَنْ يُّحْشَرَ النَّاسُ ضُحًى
মূসা বলল, তোমাদের নির্ধারিত সময় উৎসবের দিন এবং যেদিন পূর্বাহ্নে জনগণকে সমবেত করা হবে। (সূরা ত্বা–হা– ৫৯)
সমাবেশে মানুষকেও দাওয়াত দেয়া হলো :
وَقِيْلَ لِلنَّاسِ هَلْ اَنْتُمْ مُّجْتَمِعُوْنَ ‐ لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ اِنْ كَانُوْا هُمُ الْغَالِبِيْنَ
আর লোকদেরকে বলা হলো, তোমরাও সমবেত হচ্ছ তো? যেন আমরা যাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি, যদি তারা বিজয়ী হয়। (সূরা শু‘আরা– ৩৯, ৪০)
যাদুকররা বলল, কে আগে নিক্ষেপ করবে?
قَالُوْا يَا مُوْسٰۤى اِمَّاۤ اَنْ تُلْقِيَ وَاِمَّاۤ اَنْ نَّكُوْنَ نَحْنُ الْمُلْقِيْنَ
তারা বলল, হে মূসা! তুমিই নিক্ষেপ করবে, নাকি আমরাই নিক্ষেপ করব? (সূরা আ‘রাফু ১১৫)
قَالُوْا يَا مُوسٰۤى اِمَّاۤ اَنْ تُلْقِيَ وَاِمَّاۤ اَنْ نَّكُوْنَ اَوَّلَ مَنْ اَلْقٰى
তারা বলল, হে মূসা! তুমিই আগে নিক্ষেপ করবে, নাকি আমরাই আগে নিক্ষেপ করব? (সূরা ত্বা–হা– ৬৫)
মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা যা জান তা আগে নিক্ষেপ করো :
فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰۤى اَلْقُوْا مَاۤ اَنْتُمْ مُّلْقُوْنَ
অতঃপর যখন যাদুকররা আসল তখন মূসা তাদেরকে বলল, তোমাদের যা নিক্ষেপ করার নিক্ষেপ করে নাও। (সূরা ইউনুস– ৮০)
আল্লাহ তোমাদের এসব ব্যর্থ করে দেবেন :
فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ اِنَّ اللهَ سَيُبْطِلُهٗۤ اِنَّ اللهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِيْنَ
অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন মূসা বলল, তোমরা যা এনেছ তা যাদু। নিশ্চয় আল্লাহ তা ব্যর্থ করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কর্মকে স্বার্থক করেন না। (সূরা ইউনুস– ৮১)
আল্লাহ সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে ছাড়বেন :
وَيُحِقُّ اللهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهٖ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ
অপরাধীরা অপ্রীতিকর মনে করলেও আল্লাহ তাঁর বাণী অনুযায়ী সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। (সূরা ইউনুস– ৮২)
যাদুকররা দড়ি ও লাঠি নিক্ষেপ করল :
فَاَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ
অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল। (সূরা শু‘আরা– ৪৪)
বিজয়ী হবে বলে তারা শপথ করল :
وَقَالُوْا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ اِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُوْنَ
তারা বলল, ফিরাউনের শপথ আমরাই বিজয়ী হব। (সূরা শু‘আরা– ৪৪)
তারা লোকদেরকে ভীত করে দিল :
فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا سَحَرُوْاۤ اَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوْهُمْ وَجَآءُوْا بِسِحْرٍ عَظِيْمٍ
যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন তারা লোকের চোখে যাদু করল এবং তাদেরকে আতংকিত করে দিল। আর তারা এক বড় আকারের যাদু দেখাল। (সূরা আ‘রাফু ১১৬)
মূসা (আঃ) মনে করলেন এগুলো নড়ছে :
قَالَ بَلْ اَلْقُوْا فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ اِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ اَنَّهَا تَسْعٰى
তিনি বললেন, বরং তোমরাই নিক্ষেপ করো। অতঃপর তাদের যাদুর প্রভাবে আকস্মাৎ মূসার মনে হলো, তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে। (সূরা ত্বা–হা– ৬৬)
এতে তিনি ভয় পেয়ে গেলেন :
فَاَوْجَسَ فِيْ نَفْسِهٖ خِيْفَةً مُّوْسٰى
মূসা তার অন্তরে কিছু ভীতি অনুভব করল। (সূরা ত্বা–হা– ৬৭)
আল্লাহ তাকে সাহস দিলেন :
قُلْنَا لَا تَخَفْ اِنَّكَ اَنْتَ الْاَعْلٰى
আমি বললাম, ভয় করো না- তুমিই বিজয়ী হবে। (সূরা ত্বা–হা– ৬৮)
আল্লাহ মূসা (আঃ) কে লাঠি নিক্ষেপ করতে বললেন :
وَاَوْحَيْنَاۤ اِلٰى مُوْسٰۤى اَنْ اَلْقِ عَصَاكَ
অতঃপর আমি মূসার প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম যে, তুমিও তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো। (সূরা আ‘রাফু ১১৭)
নিক্ষেপ করার পর লাঠি তাদের সবকিছু গ্রাস করে ফেলল :
فَاَلْقٰى مُوْسٰى عَصَاهُ فَاِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُوْنَ
অতঃপর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন, সহসা তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল। (সূরা শু‘আরা– ৪৫)
এতে সত্য প্রমাণিত হয়ে গেল :
فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ
ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করছিল তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো। (সূরা আ‘রাফু ১১৮)
ফিরাউনের দল পরাজিত ও লাঞ্ছিত হলো :
فَغُلِبُوْا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوْا صَاغِرِيْنَ
সেখানে তারা পরাভূত হলো ও লাঞ্ছিত হলো। (সূরা আ‘রাফু ১১৯)
قَالَ لِلْمَلَاِ حَوْلَهٗۤ اِنَّ هٰذَا لَسَاحِرٌ عَلِيْمٌ
ফিরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, এ তো এক সুদক্ষ যাদুকর। (সূরা শু‘আরা– ৩৪)
সে তাদের সাথে পরামর্শ করল :
قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ اِنَّ هٰذَا لَسَاحِرٌ عَلِيْمٌ ‐ يُرِيْدُ اَنْ يُّخْرِجَكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْۚ فَمَاذَا تَأْمُرُوْنَ
ফিরাউন সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলল, এ তো একজন সুদক্ষ যাদুকর, সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বহিষ্কৃত করতে চায়; এখন তোমরা কী পরামর্শ দাও? (সূরা আ‘রাফ- ১০৯, ১১০)
তারা যাদুর প্রতিযোগিতার পরামর্শ দিল :
قَالُوْاۤ اَرْجِهْ وَاَخَاهُ وَاَرْسِلْ فِى الْمَدَآئِنِ حَاشِرِيْنَ ‐ يَأْتُوْكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيْمٍ
তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে সামান্য পরিমাণ অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সমবেতকারী পাঠাও, যেন তারা তোমার নিকট প্রতিটি সুদক্ষ যাদুকরকে উপস্থিত করে। (সূরা আ‘রাফু ১১১, ১১২)
মূসা (আঃ) মু‘জিযাকে যাদু মনে করার পরিণাম জানিয়ে দিলেন :
قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰى وَيْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوْا عَلَى اللهِ كَذِبًا فَيُسْحِتَكُمْ بِعَذَابٍۚ وَقَدْ خَابَ مَنِ افْتَرٰى
মূসা তাদেরকে বলল, দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করো না। অন্যথায় তিনি তোমাদেরকে শাস্তি দ্বারা সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। তাছাড়া (ইতোপূর্বে) যে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে সেই ব্যর্থ হয়েছে। (সূরা ত্বা–হা– ৬১)
এতে কেউ কেউ পিছপা হয়ে গেল :
فَتَنَازَعُوْاۤ اَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ وَاَسَرُّوا النَّجْوٰى
তারা নিজেদের মধ্যে নিজেদের কর্ম সম্বন্ধে বিতর্ক করল এবং গোপনে পরামর্শ করল। (সূরা ত্বা–হা– ৬২)
চরমপন্থিরা মূসা (আঃ) এর উপর মিথ্যারোপ করল :
قَالُوْاۤ اِنْ هٰذَانِ لَسَاحِرَانِ يُرِيْدَانِ اَنْ يُّخْرِجَاكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِمَا وَيَذْهَبَا بِطَرِيْقَتِكُمُ الْمُثْلٰى
তারা বলল, অবশ্যই এ দু’জন যাদুকর, তারা চায় তাদের যাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে বহিষ্কৃত করতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবনব্যবস্থা ধ্বংস করে দিতে। (সূরা ত্বা–হা– ৬৩)
ব্যাখ্যা : মূসা (আঃ) এর বিজয় দেশের কর্তৃত্ব ক্ষমতা তোমাদের হস্তচ্যুত হওয়া এবং তোমাদের আদর্শ জীবন যাপন পদ্ধতির অপমৃত্যুর নামান্তর। তারা দেশের প্রভাবশালী শ্রেণিকে ভয় দেখাচ্ছিল এই বলে যে, মূসা (আঃ) যদি দেশের কর্তৃত্ব লাভ করতে পারে তাহলে তোমাদের এ শিল্প, চারুকলা, মোহময় সংস্কৃতি এবং তোমাদের নারী স্বাধীনতাসহ সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে, যেগুলো ছাড়া জীবনের সুখ ও আনন্দ উপভোগই করা যায় না।
তারা প্রতিযোগিতার দিকে এগিয়ে আসল :
فَاَجْمِعُوْا كَيْدَكُمْ ثُمَّ ائْتُوْا صَفًّاۚ وَقَدْ اَفْلَحَ الْيَوْمَ مَنِ اسْتَعْلٰى
অতএব তোমরা তোমাদের যাদুক্রিয়া সঙ্ঘবদ্ধ করো এবং সারিবদ্ধ হয়ে উপস্থিত হও। অতঃপর আজ যে বিজয়ী হবে সেই সফলকাম হবে। (সূরা ত্বা–হা– ৬৪)
ব্যাখ্যা : অর্থাৎ এদের মুকাবিলায় একটি ঐক্যবদ্ধ দল গঠন করো। নতুবা এ সময় যদি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক বিবাদ দেখা দেয় এবং প্রতিযোগিতার মুহূর্তে সাধারণ জনতার সামনে তোমাদের মধ্যে কানাকানি ও ইতস্তত ভাব চলতে থাকে, তাহলে এখনই তোমাদের পরাজয় বহন করতে হবে।
ফিরাউন দক্ষ যাদুকরদেরকে আনতে বলল :
وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُوْنِيْ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيْمٍ
ফিরাউন বলল, তোমরা আমার নিকট সকল সুদক্ষ যাদুকরকে নিয়ে এসো। (সূরা ইউনুস– ৭৯)
যাদুকরদের একত্র করা হলো :
فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِيْقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُوْمٍ
অতঃপর এক নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদেরকে একত্র করা হলো। (সূরা শু‘আরা– ৩৮)
ফিরাউন সব কৌশল ঠিক করে মুকাবিলায় আসল :
فَتَوَلّٰى فِرْعَوْنُ فَجَمَعَ كَيْدَهٗ ثُمَّ اَتٰى
অতঃপর ফিরাউন উঠে গেল এবং পরে তার কৌশলসমূহ একত্র করল, তারপর আসল। (সূরা ত্বা–হা– ৬০)
যাদুকররা পুরস্কার দাবী করল :
وَجَآءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوْاۤ اِنَّ لَنَا لَاَجْرًا اِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِيْنَ
যাদুকররা ফিরাউনের নিকট এসে বলল, আমরা যদি বিজয়ী হই তবে আমাদের জন্য পুরস্কার থাকবে তো? (সূরা আ‘রাফু ১১৩)
ফিরাউন আরো অতিরিক্ত লোভ দেখাল :
قَالَ نَعَمْ وَاِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِيْنَ
সে বলল, হ্যাঁ! অবশ্যই তোমরা আমার সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা আ‘রাফু ১১৪)
ফিরাউন মূসা (আঃ) কে সময় ও স্থান ঠিক করতে বলল :
فَلَنَأْتِيَنَّكَ بِسِحْرٍ مِّثْلِهٖ فَاجْعَلْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ مَوْعِدًا لَّا نُخْلِفُهٗ نَحْنُ وَلَاۤ اَنْتَ مَكَانًا سُوًى
আমরাও অবশ্যই তোমার নিকট অনুরূপ যাদু উপস্থিত করব। সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় এবং একটি মধ্যবর্তী স্থান নির্ধারণ করো, যার ব্যতিক্রম আমরাও করব না এবং তুমিও করবে না। (সূরা ত্বা–হা– ৫৮)
তিনি মেলার দিন সকাল বেলা সময় ঠিক করলেন :
قَالَ مَوْعِدُكُمْ يَوْمُ الزِّيْنَةِ وَاَنْ يُّحْشَرَ النَّاسُ ضُحًى
মূসা বলল, তোমাদের নির্ধারিত সময় উৎসবের দিন এবং যেদিন পূর্বাহ্নে জনগণকে সমবেত করা হবে। (সূরা ত্বা–হা– ৫৯)
সমাবেশে মানুষকেও দাওয়াত দেয়া হলো :
وَقِيْلَ لِلنَّاسِ هَلْ اَنْتُمْ مُّجْتَمِعُوْنَ ‐ لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ اِنْ كَانُوْا هُمُ الْغَالِبِيْنَ
আর লোকদেরকে বলা হলো, তোমরাও সমবেত হচ্ছ তো? যেন আমরা যাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি, যদি তারা বিজয়ী হয়। (সূরা শু‘আরা– ৩৯, ৪০)
যাদুকররা বলল, কে আগে নিক্ষেপ করবে?
قَالُوْا يَا مُوْسٰۤى اِمَّاۤ اَنْ تُلْقِيَ وَاِمَّاۤ اَنْ نَّكُوْنَ نَحْنُ الْمُلْقِيْنَ
তারা বলল, হে মূসা! তুমিই নিক্ষেপ করবে, নাকি আমরাই নিক্ষেপ করব? (সূরা আ‘রাফু ১১৫)
قَالُوْا يَا مُوسٰۤى اِمَّاۤ اَنْ تُلْقِيَ وَاِمَّاۤ اَنْ نَّكُوْنَ اَوَّلَ مَنْ اَلْقٰى
তারা বলল, হে মূসা! তুমিই আগে নিক্ষেপ করবে, নাকি আমরাই আগে নিক্ষেপ করব? (সূরা ত্বা–হা– ৬৫)
মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা যা জান তা আগে নিক্ষেপ করো :
فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰۤى اَلْقُوْا مَاۤ اَنْتُمْ مُّلْقُوْنَ
অতঃপর যখন যাদুকররা আসল তখন মূসা তাদেরকে বলল, তোমাদের যা নিক্ষেপ করার নিক্ষেপ করে নাও। (সূরা ইউনুস– ৮০)
আল্লাহ তোমাদের এসব ব্যর্থ করে দেবেন :
فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ اِنَّ اللهَ سَيُبْطِلُهٗۤ اِنَّ اللهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِيْنَ
অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন মূসা বলল, তোমরা যা এনেছ তা যাদু। নিশ্চয় আল্লাহ তা ব্যর্থ করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ অশান্তি সৃষ্টিকারীদের কর্মকে স্বার্থক করেন না। (সূরা ইউনুস– ৮১)
আল্লাহ সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে ছাড়বেন :
وَيُحِقُّ اللهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهٖ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ
অপরাধীরা অপ্রীতিকর মনে করলেও আল্লাহ তাঁর বাণী অনুযায়ী সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। (সূরা ইউনুস– ৮২)
যাদুকররা দড়ি ও লাঠি নিক্ষেপ করল :
فَاَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ
অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল। (সূরা শু‘আরা– ৪৪)
বিজয়ী হবে বলে তারা শপথ করল :
وَقَالُوْا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ اِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُوْنَ
তারা বলল, ফিরাউনের শপথ আমরাই বিজয়ী হব। (সূরা শু‘আরা– ৪৪)
তারা লোকদেরকে ভীত করে দিল :
فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا سَحَرُوْاۤ اَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوْهُمْ وَجَآءُوْا بِسِحْرٍ عَظِيْمٍ
যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন তারা লোকের চোখে যাদু করল এবং তাদেরকে আতংকিত করে দিল। আর তারা এক বড় আকারের যাদু দেখাল। (সূরা আ‘রাফু ১১৬)
মূসা (আঃ) মনে করলেন এগুলো নড়ছে :
قَالَ بَلْ اَلْقُوْا فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ اِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ اَنَّهَا تَسْعٰى
তিনি বললেন, বরং তোমরাই নিক্ষেপ করো। অতঃপর তাদের যাদুর প্রভাবে আকস্মাৎ মূসার মনে হলো, তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে। (সূরা ত্বা–হা– ৬৬)
এতে তিনি ভয় পেয়ে গেলেন :
فَاَوْجَسَ فِيْ نَفْسِهٖ خِيْفَةً مُّوْسٰى
মূসা তার অন্তরে কিছু ভীতি অনুভব করল। (সূরা ত্বা–হা– ৬৭)
আল্লাহ তাকে সাহস দিলেন :
قُلْنَا لَا تَخَفْ اِنَّكَ اَنْتَ الْاَعْلٰى
আমি বললাম, ভয় করো না- তুমিই বিজয়ী হবে। (সূরা ত্বা–হা– ৬৮)
আল্লাহ মূসা (আঃ) কে লাঠি নিক্ষেপ করতে বললেন :
وَاَوْحَيْنَاۤ اِلٰى مُوْسٰۤى اَنْ اَلْقِ عَصَاكَ
অতঃপর আমি মূসার প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম যে, তুমিও তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো। (সূরা আ‘রাফু ১১৭)
নিক্ষেপ করার পর লাঠি তাদের সবকিছু গ্রাস করে ফেলল :
فَاَلْقٰى مُوْسٰى عَصَاهُ فَاِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُوْنَ
অতঃপর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন, সহসা তা তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল। (সূরা শু‘আরা– ৪৫)
এতে সত্য প্রমাণিত হয়ে গেল :
فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوْا يَعْمَلُوْنَ
ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তারা যা করছিল তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো। (সূরা আ‘রাফু ১১৮)
ফিরাউনের দল পরাজিত ও লাঞ্ছিত হলো :
فَغُلِبُوْا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوْا صَاغِرِيْنَ
সেখানে তারা পরাভূত হলো ও লাঞ্ছিত হলো। (সূরা আ‘রাফু ১১৯)