hadith book logo

তাফসীরুল কুরআন বিল কুরআন

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০২

অধ্যায়- ৬ : পরস্পরের বিবাদ মীমাংসা করা

পরস্পরের বিবাদ মীমাংসা করে দেয়া মুমিনের দায়িত্ব :

اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ اِخْوَةٌ فَاَصْلِحُوْا بَيْنَ اَخَوَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ

মুমিনরা একে অপরের ভাই। অতএব (বিরোধ দেখা দিলে) তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে মীমাংসা করে নাও। আর আল্লাহকে ভয় করো; আশা করা যায়, তোমাদের উপর দয়া করা হবে। (সূরা হুজুরাত- ১০)

ব্যাখ্যা : এ আয়াতটি দুনিয়ার সমস্ত মুসলিমকে এক বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে। দুনিয়ার অন্য কোন আদর্শ বা মত ও পথের অনুসারীদের মধ্যে এমন কোন ভ্রাতৃত্ব বন্ধন পাওয়া যায় না, যা মুসলিমদের মধ্যে পাওয়া যায়। এ নির্দেশের দাবী ও গুরুত্বসমূহ কী, বহুসংখ্যক হাদীসে রাসূল ﷺ তা বর্ণনা করেছেন। ঐসব হাদীসের আলোকে এ আয়াতের আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বোধগম্য হতে পারে। জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল ﷺ আমার থেকে তিনটি বিষয়ে বায়‘আত নিয়েছেন। (এক) নামায কায়েম করব। (দুই) যাকাত আদায় করব। (তিন) প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করব। (সহীহ বুখারী, হা/৫৭; সহীহ মুসলিম, হা/২০৮)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী। (সহীহ বুখারী, হা/৪৮; সহীহ মুসলিম, হা/২৩০)

আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের জান, মাল ও ইজ্জত হারাম।’’ (আবু দাউদ, হা/৩৯৩৩)

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) ও আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার উপর যুলুম করবে না, তাকে সহযোগিতা করা পরিত্যাগ করবে না এবং তাকে লাঞ্ছিত ও হেয় করবে না। কোন ব্যক্তির জন্য তার কোন মুসলিম ভাইকে হেয় ও তুচ্ছ জ্ঞান করার মতো অপকর্ম আর নেই। (সহীহ মুসলিম, হা/৬৭০৬)

দু’দলের মধ্যে লড়াই বাঁধলে মীমাংসা করে দিতে হবে :

وَاِنْ طَآئِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِيْنَ اقْتَتَلُوْا فَاَصْلِحُوْا بَيْنَهُمَاۚ فَاِنْ ۢ بَغَتْ اِحْدَاهُمَا عَلَى الْاُخْرٰى فَقَاتِلُوا الَّتِيْ تَبْغِيْ حَتّٰى تَفِيْٓءَ اِلٰۤى اَمْرِ اللهِۚ فَاِنْ فَآءَتْ فَاَصْلِحُوْا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَاَقْسِطُوْاؕ اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِيْنَ

যদি ঈমানদারদের দু’দল একে অপরের সাথে লড়াই করে, তাহলে তাদের মধ্যে আপোষ করিয়ে দাও। এরপরও যদি একদল অপর দলের সাথে বাড়াবাড়ি করে, তবে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো; যতক্ষণ না সে দলটি আল্লাহর হুকুমের দিকে ফিরে আসে। অতঃপর যদি (সে দলটি) ফিরে আসে, তাহলে উভয় দলের মধ্যে ইনসাফের সাথে মীমাংসা করে দাও এবং সুবিচার করো। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা হুজুরাত- ৯)

ব্যাখ্যা : পরস্পর লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া মুসলিমদের নীতি ও স্বভাব নয় এবং হওয়া উচিতও নয়। মুমিন হয়েও তারা পরস্পর লড়াই করবে- এটা তাদের কাছ থেকে আশা করা যায় না। মুসলিমদের দু’টি দল পরস্পর লড়াই করতে থাকবে আর মুসলিমরা নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে বসে তা দেখবে- এটা মুসলিমদের কাজ নয়। বরং এ ধরনের দুঃখজনক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে সমস্ত ঈমানদার লোকদের উচিত তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যথাসম্ভব চেষ্টা করা। উভয় পক্ষকে লড়াই করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিতে হবে। তাদেরকে আল্লাহর ভয় দেখাতে হবে। প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করবে, বিবাদের কারণসমূহ জানবে এবং নিজ নিজ সাধ্যমতো তাদের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার সবরকম প্রচেষ্টা চালাবে।

ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে বিবাদ মীমাংসা করতে হবে :

وَ اِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِالْقِسْطِؕ اِنَّ اللهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِيْنَ

আর যদি তোমাকে বিচার-মীমাংসা করতে হয়, তবে তুমি তাদের মধ্যে সঠিক বিচার করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচারকদেরকে ভালোবাসেন। (সূরা মায়েদা- ৪২)

মানুষের বিবাদ মিটিয়ে দেয়া সওয়াবের কাজ :

لَا خَيْرَ فِيْ كَثِيْرٍ مِّنْ نَّجْوَاهُمْ اِلَّا مَنْ اَمَرَ بِصَدَقَةٍ اَوْ مَعْرُوْفٍ اَوْ اِصْلَاحٍ ۢبَيْنَ النَّاسِؕ وَمَنْ يَّفْعَلْ ذٰلِكَ ابْتِغَآءَ مَرْضَاتِ اللهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيْهِ اَجْرًا عَظِيْمًا

তাদের অধিকাংশের গোপন পরামর্শে কোন কল্যাণ নেই। তবে কল্যাণ রয়েছে (তার পরামর্শে) যে দান-খয়রাত ও সৎকর্ম করে এবং মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তা করে, অচিরেই আমি তাকে মহাপুরস্কারে ভূষিত করব। (সূরা নিসা- ১১৪)